এম মাঈন উদ্দিন মিরসরাই (চট্টগ্রাম)
বর্ষার বৃষ্টিতে নতুন প্রাণ ফিরে পেয়েছে চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ের পাহাড়ি ঝরনাগুলো। বছরের অধিকাংশ সময় পানি কম থাকলেও মৌসুমি বৃষ্টিতে এখন টইটম্বুর হয়ে উঠছে এসব ঝরনা। ফলে বেড়েছে পর্যটকের আনাগোনাও। প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে শত শত ভ্রমণপিপাসু মানুষ ছুটে আসছেন এসব ঝরনার সৌন্দর্য উপভোগ করতে। বিশেষ করে সাপ্তাহিক ছুটি ও সরকারি ছুটির দিনগুলোতে পর্যটকের সংখ্যা কয়েকগুণ বেড়ে যায়।
গত ১২ জুন শুক্রবার বেলা ১১টার দিকে সরেজমিন দেখা যায়, রূপসী, নাপিত্তাছড়া ও খৈয়াছড়া ঝরনার প্রবেশপথে সারি সারি বাস, মাইক্রোবাস ও ব্যক্তিগত গাড়ি দাঁড়িয়ে আছে। অনেকে আবার দূরপাল্লার বাসে এসে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় রওনা দিচ্ছেন ঝরনার পথে। পর্যটকের চাপ বাড়ায় স্থানীয়ভাবে খাবার, পানীয় ও ভ্রমণসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সরঞ্জামের বিক্রিও বেড়েছে।
‘ঝরনার রানী’ হিসেবে পরিচিত মিরসরাইয়ে রয়েছে খৈয়াছড়া, নাপিত্তাছড়া, রূপসী, সোনাইছড়ি, বোয়ালিয়া, হরিণাকুণ্ড ও বাওয়াছড়া ও ঝরনাসহ বেশ কয়েকটি দর্শনীয় স্থান ও ট্রেইল। সারা বছরই এসব স্থানে পর্যটকের আনাগোনা থাকে। তবে বর্ষাকালে ঝরনাগুলোর প্রকৃত সৌন্দর্য ফুটে ওঠে।
চট্টগ্রাম উত্তর বন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, বারৈয়ারঢালা জাতীয় উদ্যানের প্রায় দুই হাজার ৯৩৫ একর বনাঞ্চলজুড়ে রয়েছে খৈয়াছড়া, নাপিত্তাছড়া, রূপসী, সোনাইছড়ি ও বাওয়াছড়া ঝরনা। এর মধ্যে আকৃতি ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের কারণে খৈয়াছড়া, নাপিত্তাছড়া ও রূপসী ঝরনায় পর্যটকের ভিড় সবসময়ই লেগে থাকে। এসব ঝরনায় শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা রক্ষার জন্য বন বিভাগ ২০১০ সাল থেকে ইজারা দিয়ে আসছে। চলতি বছরের ২৩ মে থেকে আগামী বছরের ২৪ মে পর্যন্ত এক বছরের জন্য ৪০ লাখ ১০০ টাকায় ঝরনাগুলোর ইজারা পেয়েছে থ্রি-বি নামের একটি প্রতিষ্ঠান।
ঢাকা থেকে ঘুরতে আসা পর্যটক রাকিবুল হাসান বলেন, এর আগে মিরসরাইয়ের কয়েকটি ঝরনা ঘুরে দেখেছি। এবারই আমি প্রথমবারের মতো রূপসী ঝরনায় এসেছি। রেললাইন পেরিয়ে মূল ঝরনায় যাওয়ার পথে দুই পাশের সবুজ পাহাড় আর ঘন গাছপালা তাকে মুগ্ধ করেছে।
থ্রি-বি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি এস এম হারুন বলেন, বর্ষা মৌসুমে পর্যটকের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি থাকে। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রবেশপথে সচেতনতামূলক প্রচারণা, ব্যানার-পোস্টার স্থাপন এবং নিরাপত্তাকর্মী নিয়োগ করা হয়েছে। পর্যটকদের গাইড সাথে নেয়ারও পরামর্শ দেয়া হচ্ছে।
বারৈয়ারঢালা রেঞ্জের কর্মকর্তা আশরাফুল আলম বলেন, বৈশাখ মাস থেকেই ঝরনাগুলোতে পানির প্রবাহ বেড়েছে। ঈদের ছুটি ঘিরে পর্যটকের সংখ্যাও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। নিরাপদ ভ্রমণ নিশ্চিত করতে বন বিভাগ ও ইজারাদার প্রতিষ্ঠান যৌথভাবে কাজ করছে।
মিরসরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সোমাইয়া আক্তার বলেন, নৈসর্গিক সৌন্দর্য ও সহজ যোগাযোগব্যবস্থার কারণে মিরসরাইয়ের ঝরনাগুলো দিন দিন আরো জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসন, বন বিভাগ ও ইজারাদার সমন্বিতভাবে কাজ করছে। পাশাপাশি দুর্ঘটনা প্রতিরোধে শিগগিরই পর্যটন মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে স্থানীয় গাইড, ইজারাদার, সংবাদকর্মী ও সংশ্লিষ্টদের নিয়ে প্রশিক্ষণ কর্মশালারও আয়োজন করা হবে।



