নেসকোর প্রধান কার্যালয় রাজশাহী থেকে বগুড়ায় স্থানান্তরের চেষ্টা অব্যাহত

Printed Edition

মুহা: আব্দুল আউয়াল রাজশাহী ব্যুরো

  • নতুন চিঠিতে ফের তোলপাড়
  • আর্থিক-প্রশাসনিক প্রভাব বিশ্লেষণের নির্দেশ

কয়েক মাস আগে তীব্র সমালোচনা ও জনমতের চাপে থমকে যাওয়া নর্দান ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাইর (নেসকো)- প্রধান কার্যালয় রাজশাহী থেকে বগুড়ায় স্থানান্তরের উদ্যোগ আবারো সক্রিয় হয়েছে। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের বিদ্যুৎ বিভাগ এবার প্রধান কার্যালয় স্থানান্তরের আর্থিক ও প্রশাসনিক প্রভাব বিশ্লেষণের নির্দেশ দিয়ে নতুন চিঠি জারি করেছে। চিঠিটি প্রকাশ্যে আসার পর রাজশাহীতে আবারো শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা। সংশ্লিষ্ট মহলের প্রশ্ন- এটি কি কেবল একটি সম্ভাব্যতা যাচাই, নাকি প্রধান কার্যালয় স্থানান্তরের প্রক্রিয়া আরো এক ধাপ এগিয়ে গেল?

বিদ্যুৎ বিভাগের কোম্পানি অ্যাফেয়ার্স-১ শাখা থেকে গত ১৬ জুলাই সিনিয়র সহকারী সচিব শেখ মেজবাহ উল সাবেরিন স্বাক্ষরিত চিঠিতে বলা হয়েছে, নেসকোর প্রধান কার্যালয় রাজশাহী থেকে বগুড়ায় স্থানান্তরের আগে এর আর্থিক ও প্রশাসনিক প্রভাব বিশ্লেষণ করা প্রয়োজন। এ লক্ষ্যে স্থানান্তরের ফলে সম্ভাব্য সব ধরনের আর্থিক ও প্রশাসনিক প্রভাব বিস্তারিতভাবে উল্লেখ করে মতামত দিতে নেসকোর ব্যবস্থাপনা পরিচালককে (এমডি) নির্দেশ দেয়া হয়েছে। পাশাপাশি মন্ত্রণালয় ও বিদ্যুৎ বিভাগের সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছেও চিঠির অনুলিপি পাঠানো হয়েছে।

পুরনো উদ্যোগ, নতুন গতি : এটি প্রথম কোনো উদ্যোগ নয়। এর আগে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বিদ্যুৎমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুর কাছে একটি আধা সরকারি (ডিও) চিঠি পাঠান। সেই চিঠির ভিত্তিতেই গত মার্চে সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের জন্য একটি কমিটি গঠন করা হয়েছিল। তবে বিষয়টি জনসমক্ষে আসার পর রাজশাহীতে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয় সমালোচনা, বিভিন্ন মহলে ওঠে প্রতিবাদের সুর। এরপর কয়েক মাস এ বিষয়ে দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি না থাকলেও গত ১৬ জুলাইয়ের নতুন চিঠি আবারো পুরো বিষয়টিকে আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে এসেছে।

জানা গেছে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বগুড়া-২ (শিবগঞ্জ) আসন থেকে নির্বাচিত হওয়ার পরই মীর শাহে আলম এ উদ্যোগ নেন।

কমিটি গঠনের পটভূমি : ডিও লেটারে ২৫ ফেব্রুয়ারির তারিখ রয়েছে। পরে ১ মার্চ বিদ্যুৎ বিভাগের সচিবের দফতরে সেটি গ্রহণ করা হয়। এর দুই দিন পর, ৩ মার্চ বিদ্যুৎ বিভাগের কোম্পানি অ্যাফেয়ার্স-১ শাখার তৎকালীন উপসচিব ফারজানা খানম সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের জন্য একটি কমিটি গঠন করেন।

কী বলছে নেসকো : নতুন চিঠির বিষয়ে জানতে চাইলে নেসকোর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো: মশিউর রহমান বলেন, চিঠি পেয়েছি। এখন ঢাকায় যাচ্ছি। রাজশাহীতে ফিরে বোর্ডের সাথে আলোচনা করে তারপর মতামত দেবো।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এ ব্যাপারে আমার কিছুই করার নেই। আমি চাকরি করি। আমাকে যেভাবে বলা হবে, সেভাবেই কাজ করতে হবে।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে ভূমিমন্ত্রী ও রাজশাহী-২ সদর আসনের এমপি মো: মিজানুর রহমান মিনু নয়া দিগন্তকে বলেন, নেসকোর প্রধান কার্যালয় রাজশাহীতে আছে এবং রাজশাহীতেই থাকবে। এটি রাজশাহীবাসীর দাবি।

জানতে চাইলে রাজশাহী মহানগর বিএনপির সভাপতি মামুন অর রশিদ মামুন নয়া দিগন্তকে বলেন, ‘নেসকোর প্রধান কার্যালয় রাজশাহীতেই থাকা উচিত। উত্তরাঞ্চলের মানুষের স্বার্থ ও প্রতিষ্ঠানের কার্যকারিতা বিবেচনায় এটি রাজশাহীতেই বহাল থাকবে বলে আমরা আশাবাদী। আমি বিশ্বাস করি, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বিষয়টি গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেবেন।

নেসকোর প্রধান কার্যালয় স্থানান্তরের নতুন উদ্যোগের বিষয়ে জানতে রাজশাহী মহানগরী জামায়াতের সেক্রেটারি ইমাজ উদ্দিন মণ্ডল এ উদ্যোগের শুরুতে তিনি নয়া দিগন্তকে বলেছিলেন, নেসকোর প্রধান কার্যালয় প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই রাজশাহীতে রয়েছে। তাই কোনো বিশেষ এলাকার স্বার্থ বিবেচনায় বিভাগীয় শহর রাজশাহী থেকে প্রধান কার্যালয় অন্যত্র স্থানান্তরের উদ্যোগ যৌক্তিক হবে না।

রাজশাহী চেম্বার সভাপতি হাসেন আলী নয়া দিগন্তকে বলেন, এর আগে সংশ্লিষ্টদের সাথে আলোচনায় নেসকোর প্রধান কার্যালয় রাজশাহীতেই বহাল রাখা এবং বগুড়ায় একটি সাব-অফিস স্থাপনের বিষয়ে কথা হয়েছিল। এ বিষয়ে চেম্বারের পক্ষ থেকে লিখিতভাবেও মতামত জানানো হয়েছিল। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, নেসকোর প্রধান কার্যালয় রাজশাহীতেই থাকতে হবে-এটাই আমাদের সুস্পষ্ট দাবি।