মিডল ইস্ট আই
ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার সদ্য ঘোষিত চুক্তিতে লেবাননে তাৎক্ষণিকভাবে সব ধরনের সামরিক তৎপরতা বন্ধের স্পষ্ট বাধ্যবাধকতা থাকলেও তা তোয়াক্কা করছে না তেলআবিব। তেহরানের পক্ষ থেকে যুদ্ধবিরতির এই শর্তের কথা জানানো হলেও তা পুরোপুরি অগ্রাহ্য করে লেবাননজুড়ে একযোগে জোরালো সামরিক অভিযান শুরু করেছে ইসরাইলি বাহিনী। লেবাননের সরকারি সংবাদমাধ্যম ন্যাশনাল নিউজ এজেন্সি এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
স্থানীয় সূত্রের বিবরণ অনুযায়ী, দক্ষিণ লেবাননের খিয়াম শহরকে লক্ষ্য করে দু’টি পৃথক বিমান হামলা চালানো হয়েছে। এ ছাড়া কাফার তিবনিত এলাকায় একটি চলন্ত গাড়িকে নিশানা করে ইসরাইলি ড্রোন থেকে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়, যাতে বেশ কয়েকজন বেসামরিক নাগরিক আহত হয়েছেন। একই সাথে কাফার তিবনিত ও নাবাতিহ আল-ফাওকা অঞ্চলের চার পাশ থেকে ইসরাইলি সেনারা কামানের ব্যাপক গোলাবর্ষণ চালিয়েছে। লেবাননের জাতীয় বার্তা সংস্থার খবরে আরো বলা হয়, দক্ষিণাঞ্চলীয় প্রধান শহর টায়ারের সংযোগকারী হারিস-তিবনিক সড়কে ইসরাইলি বাহিনী রিমোট কন্ট্রোলের মাধ্যমে বিস্ফোরকভর্তি একটি এম১১৩ সাঁজোয়া যানের বিস্ফোরণ ঘটায়। এই ঘটনার পর থেকে সমগ্র সীমান্ত অঞ্চলজুড়ে নতুন করে তীব্র যুদ্ধ উত্তেজনা বিরাজ করছে।
অন্য দিকে, ইসরাইলের অভ্যন্তরীণ সংবাদমাধ্যম ইয়েদিওথ আহরোনথ এক বিশেষ প্রতিবেদনে জানিয়েছে, চুক্তির এই শর্ত নিয়ে ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করে দিয়েছেন। নেতানিয়াহু সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, আমেরিকা ও ইরানের মধ্যকার চুক্তিতে লেবানন সীমান্ত সংক্রান্ত যে সমস্ত ধারা বা শর্ত রাখা হয়েছে, তা মেনে চলতে ইসরাইল কোনোভাবেই প্রতিশ্রুতিবদ্ধ নয়।
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তির পরও দক্ষিণ লেবানন ছাড়ছে না ইসরাইল
টাইমস অব ইসরাইল জানায়, ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে একটি সমঝোতার কাঠামো চূড়ান্ত হওয়ার খবর আসার পরপরই মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। ইসরাইলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরাইল কাৎজ সাফ ঘোষণা দিয়েছেন, দক্ষিণ লেবাননে ইসরাইলি সামরিক বাহিনীর উপস্থিতি অব্যাহত থাকবে। একই সাথে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, লেবানন পরিস্থিতি নিয়ে ইরান যদি ইসরাইলে কোনো ধরনের হামলা চালায়, তবে তেহরানকে ‘পূর্ণ শক্তিতে’ আঘাত করা হবে।
গতকাল সোমবার এক বিবৃতিতে কাৎজ বলেন, ইসরাইল কোনো আন্তর্জাতিক বা কূটনৈতিক চাপের মুখে নতি স্বীকার করবে না। এমন একসময়ে তাঁর এই কড়া অবস্থান সামনে এলো, যখন মার্কিন ও ইরানি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন যে দুই দেশ যুদ্ধ বন্ধে একটি নতুন কাঠামোগত চুক্তিতে সম্মত হয়েছে। বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, এই সমঝোতার একটি বড় অংশজুড়ে লেবাননেও শত্রুতা অবসানের প্রতিশ্রুতি রয়েছে।
এ দিকে এই চুক্তি প্রসঙ্গে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য না করলেও তার জোট সরকারের কট্টর ডানপন্থী সদস্যরা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, ইসরাইল এই চুক্তির শর্ত মানতে বাধ্য নয়। বিপরীতে দেশটির বিরোধী রাজনৈতিক নেতারা অভিযোগ করেছেন, নেতানিয়াহু নাগরিকদের স্বার্থ রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়েছেন এবং সশস্ত্রবাহিনীর সাথে এক প্রকার বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন।



