মিরপুরে প্রকাশ্যে যুবদল কর্মীকে গুলি করে হত্যা

Printed Edition

নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানীর কাফরুল থানাধীন মিরপুর-১৩ নম্বর সেকশন এলাকায় শুক্রবার রাতে দুর্বৃত্তদের অতর্কিত ও এলোপাতাড়ি গুলিতে ইউসুফ আলী (৪৫) নামে জাতীয়তাবাদী যুবদলের এক কর্মী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় গুলিবিদ্ধ হয়ে আরো দুই পথচারী গুরুতর আহত হয়েছেন এবং বর্তমানে তারা আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এই ঘটনায় চারজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরো চার থেকে পাঁচজনের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত শুক্রবার রাত ১১টার দিকে মিরপুর-১৩ নম্বরের ই-ব্লকের ওপেপেক্স গার্মেন্টের সামনে এ ঘটনা ঘটে। নিহত ইউসুফের সহযোদ্ধা মামুন মিয়া জানান, তারা প্রতিদিনের মতো সেখানে দাঁড়িয়ে আড্ডা দিচ্ছিলেন। এ সময় তিন থেকে চারজন ব্যক্তি তাদের পাশ দিয়ে কয়েকবার সন্দেহজনকভাবে ঘোরাফেরা করলে ইউসুফ তাদের পরিচয় জানতে চান। এর কিছুক্ষণ পরই ওই ব্যক্তিরা হঠাৎ আগ্নেয়াস্ত্র বের করে এলোপাতাড়ি গুলি ছুড়তে শুরু করে।

আক্রমণের সময় চঞ্চল মোল্লা নামক এক অভিযুক্ত সরাসরি ইউসুফের বুকের ডান পাশে গুলি করে এবং পরে অন্য অভিযুক্তরা তাকে লক্ষ্য করে আরো কয়েক রাউন্ড গুলি চালায়। গুলিবিদ্ধ হয়ে ইউসুফ মাটিতে লুটিয়ে পড়লে এবং স্থানীয়রা এগিয়ে এলে হামলাকারীরা অস্ত্র গুলি করতে করতে গলি দিয়ে পালিয়ে যায়। গুলিবিদ্ধ অবস্থায় ইউসুফকে উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় একটি হাসপাতালে এবং পরে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। চিকিৎসকদের তথ্য মতে, একটি গুলি ইউসুফের বুকের ডান পাশ দিয়ে ঢুকে পিঠ দিয়ে বেরিয়ে গেছে।

এ ঘটনায় গুলিবিদ্ধ অন্য দু’জন হলেন ফুটপাতের কাঁচামাল বিক্রেতা নালাম সরদার (৪৫) এবং কাপড় ব্যবসায়ী মনির হোসেন (৩২)। নালাম সরদার মাথার ডান পাশে এবং মনির হোসেন পায়ে গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। বর্তমানে তারা ঢামেক হাসপাতালের ক্যাজুয়ালটি বিভাগে চিকিৎসাধীন। নিহত ইউসুফ আলী পশ্চিম বাইশটেকি এলাকায় বসবাস করতেন এবং তার গ্রামের বাড়ি বরিশালের উজিরপুর উপজেলায়। তিনি সাবেক ছাত্রদল নেতা এবং বর্তমানে যুবদলের রাজনীতির সাথে সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন।

হত্যাকাণ্ডের পর গতকাল শনিবার নিহতের বড় ভাই মাসুদ রানা বাদি হয়ে কাফরুল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় এজাহারনামীয় আসামিরা হলেন- মো: চঞ্চল মোল্লা (৩৪), জিহাদ মোল্লা (৩৪), মো: জিয়ারুল মোল্লা (৩৯) ও হাসান (৩৫)। ঘটনার পরপরই স্থানীয় জনতা পালানোর সময় চঞ্চল মোল্লাকে একটি অবৈধ অস্ত্রসহ আটক করে পুলিশে সোপর্দ করে। আটক আসামির দেয়া তথ্য এবং সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে অন্য অভিযুক্তদের গ্রেফতারে অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ।

কাফরুল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম নয়া দিগন্তকে বলেন, গতকাল রাতের ঘটনায় ইতোমধ্যেই একটি মামলা করা হয়েছে। মামলায় চারজনকে আসামি করা হয়েছে এবং তাদের মধ্যে এখন পর্যন্ত একজনকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়েছে। বাকিদের গ্রেফতার করার জন্যও আমাদের কার্যক্রম চলমান রয়েছে। তবে ঘটনার প্রকৃত কারণ সম্পর্কে এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। পরিবারের সদস্যরা বর্তমানে নিহতের লাশ নিয়ে গ্রামে অবস্থান করছেন এবং দাফন-কাফনের কাজে ব্যস্ত থাকায় তারা এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য বা বক্তব্য প্রদান করতে পারেননি।