কক্সবাজার অফিস
জনস্বার্থে প্রণীত বাজেট নিয়েও বিরোধীদলের সমালোচনা প্রমাণ করে যে জনগণের কল্যাণ নয়, বরং বিভ্রান্তি সৃষ্টি করাই তাদের মূল উদ্দেশ্য। এবারের বাজেটে নিত্যপ্রয়োজনীয় ৬০টি পণ্যের ওপর কর কমানো হয়েছে, ফলে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হবে। একই সাথে জনস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর মদ ও সিগারেটের ওপর কর বৃদ্ধি করা হয়েছে, যা বিরোধীদলের পছন্দ নয়। গতকাল সকালে কক্সবাজার সদর উপজেলার পিএমখালী ইউনিয়নে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্মৃতিবিজড়িত পাতলী-মাছুয়াখালী খাল পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন শেষে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে এ কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, যে বাজেটে ট্যাক্স কমানো হয়, সেই বাজেটও বিরোধীদলের পছন্দ নয়। তাহলে তাদের উদ্দেশ্য কী, তা দেশের মানুষ নিশ্চয়ই বুঝতে পারছেন। তিনি অভিযোগ করেন, বিরোধীদল দেশে অস্থিরতা ও অশান্তি সৃষ্টি করতে চায় এবং জনগণকে বিভ্রান্ত করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। পাতলী খাল পুনঃখনন নিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রায় ৫০ বছর আগে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান খালটি খনন করেছিলেন। সেই ধারাবাহিকতায় পুনঃখননের মাধ্যমে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এর ফলে প্রায় ৪০ হাজার মানুষ উপকৃত হবেন, এক হাজার ২০০ হেক্টর জমিতে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে এবং সাড়ে আট হাজার কৃষক সরাসরি সেচ সুবিধা পাবেন। কৃষি খাতের উন্নয়নে সরকারের উদ্যোগের কথা তুলে ধরে তিনি জানান, বাজেটে কৃষকদের জন্য বিশেষ বরাদ্দ রাখা হয়েছে। আগামী এক বছরের মধ্যে প্রতিটি উপজেলায় ৮ থেকে ১০ হাজার কৃষকের হাতে ‘কৃষক কার্ড’ পৌঁছে দেয়ার লক্ষ্য রয়েছে। তিনি বলেন, অতীতে বাজেট ঘোষণার পর নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বৃদ্ধি পেলেও এবার তা হয়নি।
এর আগে সকালে বিমানযোগে কক্সবাজার পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী। বিমানবন্দরে অবতরণের পর তিনি নিজেই গাড়ি চালিয়ে পাতলী খালের উদ্বোধনস্থলে যান। এ সময় তার পাশে ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। সমাবেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের উন্নয়ন ও জনগণের ভাগ্য পরিবর্তনে সরকার নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। যারা অতীতে উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা করেছে, জনগণ তাদের প্রত্যাখ্যান করেছে। উন্নয়নের এ ধারা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
জনসমাবেশে চট্টগ্রামের আঞ্চলিক ভাষায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ নেতাকর্মীদের উদ্দেশে ভাষণ দেয়ার পর বলেন, এই এলাকার মানুষের সাথে শুদ্ধ ভাষায় কথা বললে নিজেকে একটু পরপর মনে হয়, দূরের মনে হয়। তিনি বলেন, আমরা কক্সবাজারের জন্য, সারা বাংলাদেশের জন্য বৃহত্তর মাস্টারপ্ল্যান হাতে নিয়েছি, আমাদের নেতা বলেছেন, ‘আই হ্যাভ এ প্ল্যান’। আমরা বলি ‘উয়ি হ্যাভ এ প্ল্যান’, সেই প্ল্যান বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে। দেশের মানুষ দেখতে শুরু করেছে। একে একে এই ভোটের কালি মুছে যাওয়ার আগেই বাস্তবায়ন করা শুরু হয়েছে।
পরে প্রধানমন্ত্রী গাড়ি চালিয়ে ডুলাহাজারা সাফারি পার্ক পরিদর্শনে যান। এ সময় সাথে ছিলেন তার সহধর্মিণী ডা: জুবাইদা রহমান। পরিদর্শনকালে সাফারি পার্কের মূল ফটক প্রাঙ্গণে একটি নাগলিঙ্গম গাছের চারা রোপণ করেন প্রধানমন্ত্রী। পরে তিনি পার্কের স্মারক বইয়ে সই করেন। একইসাথে স্মারক বইয়ে সই করেন ডা: জুবাইদা রহমান। সাফারি পার্কে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু এবং প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম।
দেশব্যাপী ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন : প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশব্যাপী ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেছেন। বেলা ২টা ৫৫ মিনিটে কক্সবাজারের পিএমখালির ডুলাহাজারার মালুমঘাট সংরক্ষিত বনে গর্জন গাছের চারা রোপণের মধ্য দিয়ে এই কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। একইসাথে পরিবেশমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদসহ অন্য মন্ত্রী-এমপিরা ১১ প্রজাতির গাছের চারা রোপণ করেন।
ক্ষমতায় এসে সারা দেশে পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ বিএনপির নির্বাচনী অঙ্গীকার। কক্সবাজারের বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করে আরেকটি নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নের কাজ শুরু করলেন প্রধানমন্ত্রী। পরিবেশ সংরক্ষণ এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবেলার লক্ষ্যে পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয় আগামী পাঁচ বছরে এই বিশাল বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করবে। প্রথম ধাপে দেড় কোটি চারা ৪৯ জেলার ১৪৯ উপজেলায় রোপণ করা হবে।
মালুমঘাট সংরক্ষিত বনে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির এই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম, পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক ও ভূমি প্রতিমন্ত্রী মীর মো: হেলাল উদ্দিন, পাট ও বস্ত্র প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলম, পরিবেশ সচিব রায়হান কাওছার প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন শেষে বক্তব্যে দেশের প্রত্যেক নাগরিককে একটি করে গাছের চারা রোপণের অনুরোধ জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেছেন, ‘আমি দেশের সবার কাছে আহ্বান জানাব আপনার সন্তানের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে, আপনার সন্তান যেন একটি সুন্দর পরিবেশে বুক ভরে শ্বাস নিতে পারে এই বিষয়টি মাথায় রেখে, এই চিন্তা থেকে আজকে থেকে প্রত্যেকে দয়া করে যার যেখানে সম্ভব সেখানে একটি করে বৃক্ষের চারা রোপণ করবেন।’
প্রধানমন্ত্রী তার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির কথা উল্লেখ করে বলেন, ‘নির্বাচনের আগে আমরা দেশের মানুষের কাছে ওয়াদা করেছিলাম নির্বাচনের প্রতিশ্রুতি যেগুলো দিয়েছিলাম তার মধ্যে একটি প্রতিশ্রুতি ছিল যে আমরা যদি আল্লাহর রহমতে সরকার গঠন করতে পারি তাহলে আমরা দেশে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি শুরু করব এবং আমাদের লক্ষ্য থাকবে বছরে অন্তত আল্লাহর রহমতে পাঁচ কোটি গাছ লাগানো। আগামী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি গাছের চার রোপণ করব আমরা।’
সারা দেশের জেলা প্রশাসকদের প্রতি অনুরোধ রেখে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আপনাদের সবার কাছে আমার নির্দেশনা থাকবে যে- আপনার নিজ নিজ জেলাকে সুন্দর সবুজ অভয়ারণ্য করার জন্য উদ্যোগ গ্রহণ করবেন। তিনি বলেন, আমি আনুষ্ঠানিকভাবে আজকে এই বৃক্ষরোপণ অভিযান ঘোষণা করছি।
পেকুয়া পৌরসভার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন : প্রধানমন্ত্রী পৃথক এক কর্মসূচিতে কক্সবাজার জেলার পেকুয়া উপজেলায় নবগঠিত পেকুয়া পৌরসভার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছেন। শনিবার দুপুর দেড়টায় পেকুয়া পৌরসভার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের পরে দোয়া ও মুনাজাত করা হয়।
ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন শেষে উপস্থিত জনতার উদ্দেশে হাত নেড়ে শুভেচ্ছা জানান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। পরে জনতার উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ২৫ বছর পূর্বে মরহুমা বেগম খালেদা জিয়া পেকুয়া উপজেলার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছিলেন। আজ তারই দল বিএনপি সরকার ফের এই পৌরসভার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছে। এর মাধ্যমে একটি কথা বারবার প্রমাণিত হয় যে বিএনপির যখন রাষ্ট্র ক্ষমতায় থাকে তখন জনগণের জন্য কাজ করে, দেশের কল্যাণে কাজ করে।


