বিশেষ সংবাদদাতা
৫৫ হাজার কোটি টাকার থোক বরাদ্দ রেখে মোট তিন লাখ কোটি টাকার এডিপি জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদে (এনইসি) অনুমোদনের জন্য উত্থাপন করা হচ্ছে।
এনইসির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে এই সভাটি আজ সোমবার শেরেবাংলা নগরের পরিকল্পনা কমিশনে অনুষ্ঠিত হবে। আগামী ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (এডিপি) মোট প্রকল্পের সংখ্যা ১১৫০, এর মধ্যে স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা ও করপোরেশনের নিজস্ব অর্থায়নে প্রকল্প রয়েছে ৪৫টি। উল্লেখ্য, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সংশোধিত এডিপির আকার ছিল দুই লাখ কোটি টাকা। ফলে গত বছরের তুলনায় আগামী অর্থবছরের এডিপির আকার বেড়েছে ৫০ শতাংশ। প্রস্তাবিত বাজেটে অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে এক লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকা এবং বৈদেশিক উৎস থেকে এক লাখ ১০ হাজার কোটি টাকা সংস্থান করা হবে।
নতুন এডিপিতে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়া হয়েছে পরিবহন ও যোগাযোগ খাতে। এ খাতে এডিপিতে প্রকল্পের সংখ্যা নির্ধারণ করা হয়েছে ১৭৮টি। মোট বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে ৫০ হাজার ৯২ কোটি টাকা, যা মোট বরাদ্দের ১৬.৭০ শতাংশ।
বরাদ্দের দিক থেকে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে শিক্ষা খাত। এবারকার এডিপিতে শিক্ষা খাতে অর্থ বরাদ্দ দেয়া হয়েছে ৪৭ হাজার ৫৯ কোটি টাকা, যা মোট এডিপির ১৬ শতাংশ। শিক্ষা খাতে মোট প্রকল্পের সংখ্যা ১০৭টি।
এডিপি বরাদ্দের তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে স্বাস্থ্য খাত। এডিপি এ খাতে বরাদ্দ রয়েছে ৩৫ হাজার ৫৩ কোটি টাকা, যা মোট বরাদ্দের ১২ শতাংশ।
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে বরাদ্দ দেয়া হয়েছে ৩২ হাজার ৬৬ কোটি টাকা যা মোট এডিপির ১১ শতাংশ।
পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, এবার এডিপিতে মোট ৫৫ হাজার কোটি টাকারও বেশি থোক বরাদ্দ রাখা হচ্ছে। এগুলোকে বিশেষ উন্নয়নসহায়তা হিসেবে বিবেচন করা হয়েছে। থোকের মধ্যে বিশেষ প্রয়োজন উন্নয়নসহায়তা খাতে ৩৮ হাজার কোটি টাকা এবং বিশেষ প্রয়োজনে সামাজিক উন্নয়ন সহায়তা খাতে রাখা হয়েছে আরো ১৭ হাজার কোটি টাকা।
জানা গেছে, ১৭ হাজার কোটি টাকা থোক বরাদ্দের মধ্যে সরকার ঘোষিত ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ডও রয়েছে।
চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের শুরুতে সরকার দুই লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকার এডিপি অনুমোদন দিয়েছিল। তবে পরে তা সংশোধন করে দুই লাখ কোটি টাকায় নামিয়ে আনা হয়। এর মধ্যে এক লাখ ২৮ হাজার কোটি টাকা ছিল অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে এবং ৭২ হাজার কোটি টাকা বৈদেশিক সহায়তা থেকে। তারপরও এডিপি বাস্তবায়নে কোনো গতি নেই।
৮ মাসে এডিপি বাস্তবায়ন ৩০%, টাকার অঙ্কে ৫ বছরে সর্বনি¤œ
চলতি অর্থবছরের জুলাই-ফেব্রুয়ারি সময়ে বা আট মাসে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) বাস্তবায়ন হয়েছে মাত্র ৩০ দশমিক ৩১ শতাংশ। টাকার অঙ্কে যা পাঁচ বছরের মধ্যে সর্বনি¤œ।
চলতি অর্থবছরের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত আট মাসে উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে ৬৩ হাজার ৩২৭ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে, যা মূল এডিপির ৩০ দশমিক ৩১ শতাংশ।
আইএমইডির তথ্য : পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের (আইএমইডি) হালনাগাদ প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত আট মাসে উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে ৬৩ হাজার ৩২৭ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে, যা মূল এডিপির ৩০ দশমিক ৩১ শতাংশ।
২০২৪-২৫ অর্থবছরের আলোচ্য সময়ে ২৯ দশমিক ৮৭ শতাংশ বা ৬৭ হাজার ৫৫৩ কোটি, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ৩৩ দশমিক ৬৫ শতাংশ বা ৮৫ হাজার ৬০২ কোটি টাকার এডিপি বাস্তবায়ন হয়েছিল।
এর আগে ২০২২-২৩ অর্থবছরের আলোচ্য সময়ে এডিপি বাস্তবায়ন হার ৩৪ দশমিক ৭৪ শতাংশ, যা টাকার অঙ্কে ৮২ হাজার ১৬৯ কোটি টাকা। ২০২১-২২ অর্থবছরে ৩৮ দশমিক ৬০ শতাংশ এডিপি বাস্তবায়ন হয়েছিল, টাকার হিসাবে যা ছিল ৮৪ হজার ৭৬৫ কোটি টাকা। ফলে গত পাঁচ বছরের মধ্যে চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম আট মাসে এডিপি বাস্তবায়নে সবচেয়ে কম টাকা খরচ করা হয়েছে।



