বদলি হলেও স্টেশন ছাড়ছেন না সরিষাবাড়ীর পিআইও

৯ বছরেই সম্পদের পাহাড়

Printed Edition

খাদেমুল বাবুল জামালপুর

১০ম গ্রেডের একজন সাধারণ সরকারি কর্মচারী হয়ে মাত্র ৯ বছরের চাকরি জীবনেই যেন ‘আলাদিনের চেরাগ’ পেয়েছেন জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলার প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) শওকত জামিল। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের ক্ষমতাধর ব্যক্তির পরিচয় ও রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে ও দুর্নীতির মাধ্যমে তিনি গড়ে তুলেছেন বাণিজ্যিক প্লট, বিলাসবহুল বাড়ি ও গাড়িসহ কোটি কোটি টাকার অবৈধ সম্পদের পাহাড়। সম্প্রতি দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় তাকে বদলি করা হয়েছে। কিন্তু অদৃশ্য শক্তির জোরে তিনি এখনো সরিষাবাড়িতেই বহাল-তবিয়তে আছেন।

সূত্র জানায়, ময়মনসিংহের মুক্তাগাছার বাসিন্দা শওকত জামিল আ’লীগ সরকারের বিশেষ সুবিধায় ২০১৮ সালে পিআইও হিসেবে নিয়োগ পান। ওই বছরের সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৪ সালের মার্চ পর্যন্ত নেত্রকোনার মদন উপজেলায় কর্মরত ছিলেন। দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) পাঠানো অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, মদন উপজেলায় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের বরাদ্দকৃত প্রায় ১৮০ কোটি টাকার প্রকল্পে শওকত জামিলের অঘোষিত কমিশন (পিসি) ছিল ২০ শতাংশ। সেখানে অবস্থানকালেই তিনি প্রায় ৪০ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জন করেন।

বর্তমানে সরিষাবাড়ী উপজেলায় কর্মরত এই কর্মকর্তার দুর্নীতির মাত্রা অন্তর্বর্তী সরকারের আমলেও কমেনি। স্থানীয়দের অভিযোগ, সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন প্রকল্পের প্রায় ৩০ কোটি টাকা বরাদ্দ থেকে তার কমিশনের হার বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩০ শতাংশে। এ ছাড়া জেলার ইসলামপুর উপজেলার অতিরিক্ত দায়িত্ব পালনের সময়ও তিনি বিপুল অর্থ হাতিয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের সহযোগী হিসেবে আ’লীগ সরকারের কৃষিমন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাকের কথিত চাচাত ভাই অফিস সহকারী এরশাদ হোসাইনের নামও এসেছে।

দুর্নীতির অর্থ দিয়ে শওকত জামিল ঢাকার রামপুরায় আবাসিক ফ্ল্যাট, ময়মনসিংহের গাঙ্গিনাপাড় এলাকায় বাণিজ্যিক প্লটের শেয়ার এবং ক্যান্টনমেন্ট বাউন্ডারি রোডে বিলাসবহুল ফ্ল্যাট কিনেছেন। ব্যবহার করছেন নিজস্ব বিলাসবহুল প্রাইভেট কার (ঢাকা-মেট্রো-গ ২৯-৬৮১১)। নিজ গ্রামে করেছেন মাছের প্রজেক্ট ও মসজিদ নির্মাণ। শুধু তাই নয়, টাঙ্গাইলের মধুপুরে শ্বশুরবাড়িতে গড়ে তুলেছেন গরুর খামার, পেপে, আম ও আদা চাষের বিশাল সাম্রাজ্য। নিজের দুর্নীতি আড়ালের উদ্দেশ্যে শাশুড়ি, শ্বশুর ও শালীদের নামেও কিনেছেন কয়েক বিঘা জমি এবং নির্মাণ করেছেন বিলাসবহুল বাড়ি।

সরকারি বিধি লঙ্ঘন করে ১০ লক্ষাধিক টাকা ব্যয়ে নিজের অফিস কক্ষকে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ও বিলাসবহুল করেছেন তিনি। এ ছাড়া, ব্রিজ বা রাস্তা পরিদর্শনের জন্য ঢাকা থেকে আসা কর্মকর্তাদের সম্মানী দেয়ার অজুহাতে প্রতিটি ইউনিয়ন পরিষদ থেকে চাঁদা তোলার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

বর্তমানে স্থানীয় এমপি ফরিদুল কবির তালুকদার শামীমের নাম ভাঙিয়ে মাসুম নামে এক কালোবাজারি এই পিআইও অফিসে অঘোষিত দাপট চালাচ্ছেন। গণমাধ্যমকর্মী পরিচয় গোপন করে শওকত জামিলের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করলে তিনি নিজে কথা না বলে মাসুমের মাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ না করার অনুরোধ জানান।

এ বিষয়ে জামালপুর জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ হেল কাফি বলেন, সরিষাবাড়ীর পিআইও শওকত জামিলের বদলির আদেশ পেয়েছি।