নিজস্ব প্রতিবেদক
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) সেকেন্ডারি বর্জ্য অপসারণের ঠিকাদারি কাজে এমন কিছু কঠিন শর্ত দেয়া হচ্ছে, যার ফলে নতুন ও দীর্ঘদিন বঞ্চিত থাকা ঠিকাদারদের যুক্ত হওয়ার সুযোগ সঙ্কুচিত হয়ে পড়েছে। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সুবিধাভোগী কর্মকর্তাদের তৈরি করা শর্তের বেড়াজালের কারণে মূলত পালিয়ে যাওয়া পুরনো আওয়ামী ঠিকাদারদেরই পুনর্বাসনের পথ তৈরি হচ্ছে।
একাধিক ঠিকাদার অভিযোগ করে বলেন, ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের উচ্চপর্যায়ের কয়েকটি পদে রদবদল হলেও বাকি পদগুলোতে এখনো বিগত আমলের সুবিধাভোগী কর্মকর্তারাই বহাল রয়েছেন। গত ১৬ বছর ধরে নির্দিষ্ট কিছু ঠিকাদারের সাথে মিলেমিশে কাজ করা এসব কর্মকর্তা কোনোভাবেই চাইছেন না যে, নতুন কোনো উদ্যোক্তা এই খাতে আসুক। নতুন কেউ কাজ পেলে আগের মতো অনৈতিক সুবিধা পাওয়া যাবে না- এমন শঙ্কা থেকেই পুরনো ঠিকাদারদের পুনর্বাসন এবং নতুনদের বাদ দেয়ার এই অপচেষ্টা চলছে।
সংশ্লিষ্টদের তথ্যমতে, গত ৫ আগস্টের পর পুরনো ঠিকাদাররা আত্মগোপনে চলে গেলে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় নতুনদের সুযোগ না দিয়ে সিটি করপোরেশনের অবসরপ্রাপ্ত কয়েকজন কর্মকর্তাকে এসব ঠিকাদারি কাজ দেয়া হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে বর্তমান নির্বাচিত সরকার দায়িত্ব নেয়ার পর রাজনৈতিক প্রশাসক নিয়োগ দেয়া হলেও বিগত ১৬ বছর ধরে অবহেলা ও বঞ্চনার শিকার হওয়া সাধারণ ঠিকাদাররা এখনো কাজের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
ভুক্তভোগী ঠিকাদারেরা জানান, গত ৫ মে উত্তর সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে সেকেন্ডারি বর্জ্য অপসারণের জন্য একটি ই-টেন্ডার (ইলেকট্রনিক দরপত্র) আহ্বান করা হয়। এই দরপত্রের বেশ কিছু শর্তের মধ্যে একটিতে উল্লেখ করা হয়েছে- আবেদনকারী প্রতিষ্ঠানের ‘কমপক্ষে তিন বছরের কাজের অভিজ্ঞতা’ থাকতে হবে। কর্মকর্তারা এই শর্তটিকেই যোগ্যতার মূল মাপকাঠি হিসেবে গণ্য করছেন; কিন্তু নতুন আবেদনকারী ঠিকাদারদের কারো এই নির্দিষ্ট কাজের তিন বছরের অভিজ্ঞতা নেই; কারণ বিগত ১৬ বছর তারা রাজনৈতিক কারণে সিটি করপোরেশনের কোনো দরপত্র প্রক্রিয়াতেই অংশ নিতে পারেননি। ফলে এই শর্তের কারণে নতুনরা স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাদ পড়ে যাবেন এবং কাজ পেতে হলে ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে পুরনো সুবিধাভোগী ঠিকাদারদেরই ডেকে আনতে হবে।
এই টেন্ডার প্রক্রিয়া এবং ঠিকাদারদের অভিযোগের বিষয়ে জানতে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসকের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।



