লিটনের হান্ড্রেডই টার্নিং পয়েন্ট : নাহিদ

Printed Edition

ক্রীড়া প্রতিবেদক

নাহিদের মতে, লিটনের ইনিংসটিই ছিল ম্যাচে ফেরার জন্য বাংলাদেশের টার্নিং পয়েন্ট। এ ছাড়া লোয়ার অর্ডারে শরিফুল ইসলামের ধৈর্যশীল ব্যাটিংয়ের প্রশংসাও করেছেন নাহিদ। শরিফুল করেছিলেন ৩০ বলে ১২ রান। তিনি অপরাজিতই ছিলেন। গতকাল সংবাদ সম্মেলনে নাহিদ বলেন, ‘আমি বলব লিটন দার ব্যাটিং, শেষের দিকে তাইজুল ভাই, তাসকিন ভাই, শরিফুল ভাইয়ের ব্যাটিং। বোলিং তো আলহামদুলিল্লাহ ভালো খেলেছি। লিটন দার হান্ড্রেড না হলে ব্যাকফুটে থাকতাম। তাই আমি মনে করি টার্নিং পয়েন্ট ছিল তার হান্ড্রেড।’

বাউন্স দিলে ছাড় নেই

নাহিদ রানার বাউন্সারে ঘায়েল হন প্রতিপক্ষের সব ব্যাটার। সেই বোলার নাহিদ যখন ব্যাট করতে নামেন, তখন তাকে একটি বাউন্সারও দিতে দেখা যায়নি। পাকিস্তানি বোলাররা কি খুব সতর্কতার সাথেই এড়িয়ে গেলেন ব্যাপারটি! নাহিদও অবশ্য হুঙ্কার দিয়েছেন যে তাকে কেউ বাউন্সার দিলে তিনিও ছেড়ে কথা বলবেন না। অবশ্য এটি সিলেটে গতকাল উত্থাপিত হলেও এর সূত্রপাত মিরপুর টেস্টে। নাহিদের দুর্দান্ত বাউন্সার নিয়ে অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত মন্তব্য করেছিলেন যে প্রতিপক্ষ বোলাররাও তাকে বাউন্সার দেয়ার আগে ভাববে- সেটিই ঘটেছে। নাহিদ প্রথম ইনিংসে চারটি বল মোকাবেলা করলেও তাকে একটিও বাউন্সার দেয়া হয়নি। এই ব্যাপারে নাহিদ বলেন, ‘বাউন্সার দিতে ভাববে কি না জানি না। তবে এতটুকু বলতে পারি, আমাকে কেউ বাউন্সার দিলে তাকে ছেড়ে কথা বলব না।’

সারাদিন ব্যাটিংয়ের পরিকল্পনা

সিলেট টেস্টের প্রথম দিনেই অলআউট হয় বাংলাদেশ। ২৭৮ রান সংগ্রহ করে স্বাগতিকরা। বাংলাদেশের পক্ষে সেঞ্চুরি হাঁকান লিটন দাস। ১৫৯ বলে ১২৬ রানের ইনিংস খেলেন তিনি। পাকিস্তান প্রথম ইনিংসে অলআউট হয়েছে ২৩২ রানে। দিন শেষে দ্বিতীয় বাংলাদেশের সংগ্রহ তিন উইকেটে ১১০ রান। বাংলাদেশের লিড ১৫৬ রান। টেস্টের গেল মাত্র দু’দিন, বাকি আরো তিন দিন। এরই মধ্যে পতন ঘটেছে ২৩ উইকেটের। সিলেট টেস্ট আহামরি কিছু না হলে চার দিনের মধ্যেই ফলাফল বের হওয়ার কথা। টেস্ট শুরুর আগে সিলেটে বৃষ্টি হবে এমন কথা ছিল। বিসিবি পরিকল্পনাও করেছিল এই টেস্টও ঢাকায় রাখা যায় কি না। শেষপর্যন্ত সিলেটেই মাঠে গড়িয়েছে খেলা, বৃষ্টিরও বাধা আসেনি। পাকিস্তানকে যত বেশি সময় সম্ভব খাটাতে চান শান্ত-লিটনরা। লিড পাকিস্তানের ধরাছোঁয়ার বাইরে নেয়ার আগপর্যন্ত ব্যাট করতেই থাকবে টাইগাররা। নাহিদ রানা বলেন, ‘বর্তমানে একটাই পরিকল্পনা, যেহেতু আরো তিন দিন আছে, কাল যতক্ষণ পারব ব্যাট করব। ২০০-৩০০ এমন কোনো লক্ষ্য নেই। কালকের পর আরো দু’দিন আছে। তাই চেষ্টা করব সারাদিন ব্যাট করার।’

সাকিবকে টপকে গেলেন নাহিদ রানা

বিদেশের মাঠে কিংবা ঘরের মাঠে যেখানেই হোক, পাকিস্তানকে পেলে জ্বলে উঠছেন নাহিদ রানা। আগুনে বোলিংয়ে পাকিস্তানকে কাবু করছেন এই গতিতারকা। এবার তিনি ভাঙলেন সাকিব আল হাসানের রেকর্ড। সিলেট টেস্টের দ্বিতীয় দিনের লাঞ্চ বিরতির পর পাকিস্তানের ছয় উইকেট ভাগাভাগি করে নিয়েছেন রানা-তাইজুল। খুররম শেহজাদ, সাজিদ খানকে ফিরিয়ে পাকিস্তানের ইনিংসের ইতি টেনেছেন রানা। তিন উইকেট নিয়ে পাকিস্তানের বিপক্ষে টেস্টে এখন রানার উইকেট ১৫। তাতে পেছনে চলে গেলেন সাকিব। টেস্টে পাকিস্তানের বিপক্ষে সাকিব নিয়েছেন ১৪ উইকেট।

পাকিস্তানের বিপক্ষে টেস্টে সর্বোচ্চ উইকেটশিকারীর তালিকায় রানা অবস্থান করছেন পাঁচ নম্বরে। এই তালিকায় সবার ওপরে থাকা তাইজুলের রয়েছে প্রায় দ্বিগুণ উইকেট। এশিয়ার এই দলটির বিপক্ষে সর্বোচ্চ ২৯ উইকেট রয়েছে তার ঝুলিতে। দুই ও তিনে থাকা মেহেদী হাসান মিরাজ ও মোহাম্মদ রফিকের উইকেট ২০ ও ১৭। পাকিস্তানের বিপক্ষে টেস্টে সেরা পাঁচে থাকা উইকেটশিকারীর তালিকায় রানাই একমাত্র পেসার। বাকিরা সবাই স্পিনার।

মিরপুর, সিলেটে দুই টেস্টেই রানার খেলার ধরন একই। যেখানে মিরপুরে প্রথম টেস্টের প্রথম ইনিংসে এক উইকেট পেয়েছিলেন রানা। দ্বিতীয় ইনিংসে নিয়েছিলেন পাঁচ উইকেট। এবার সিলেটে দ্বিতীয় টেস্টে পাকিস্তানের প্রথম ইনিংসেও উইকেট পেয়েছেন তিনি। শুরুতেও মুক্ত হস্তে রান বিলিয়ে দিলেও প্রয়োজনের সময় উইকেট পেয়েছেন। ৪.৭৩ ইকোনমিতে পেয়েছেন তিন উইকেট।

পাকিস্তানের বিপক্ষে টেস্টে রানা ১৫ উইকেটের মধ্যে বাবরকেই আউট করেছেন তিন বার। চলমান সিরিজে ৯ উইকেট পেয়েছেন। আর সাকিব ২০২৪ সালের অক্টোবর থেকে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে খেলছেন না। সেই সুযোগে তার রেকর্ড ভেঙে দিয়েছেন তাইজুল-রানারা।

পাকিস্তানের বিপক্ষে টেস্টে বাংলাদেশের বোলারের উইকেট

বোলার উইকেট

তাইজুল ২৯

মিরাজ ২০

রফিক ১৭

নাহিদ রানা ১৫

সাকিব ১৪