- দলীয় প্রশাসক নিয়োগ দিয়ে চলছে সিটি করপোরেশন ও জেলা পরিষদ
- দ্রুত নির্বাচন দিয়ে জনপ্রতিনিধিদের দায়িত্ব দিতে পরামর্শ বিশেষজ্ঞদের
ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের পর উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সিটি করপোরেশন, জেলা পরিষদ, পৌরসভা ও উপজেলা পরিষদ ভেঙে দিয়েছিল অন্তর্বর্তী সরকার। বর্তমানে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত নতুন সরকার ক্ষমতায় এসে এসব প্রতিষ্ঠানের প্রশাসক পদে আমলাদের সরিয়ে দলীয় নেতাদের নিয়োগ দিলেও নির্বাচনের কোনো দৃশ্যমান উদ্যোগ নেই। স্থানীয় সরকার বিভাগ ও নির্বাচন কমিশন (ইসি) সূত্রে জানা গেছে, ১২টি সিটি করপোরেশনসহ এক হাজার ৪০০-এর বেশি স্থানীয় প্রতিষ্ঠান এখন পুরোপুরি নির্বাচন উপযোগী হয়ে আছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, এসব প্রতিষ্ঠানে নির্বাচন আয়োজনে কোনো আইনগত বাধা, সীমানা বিরোধ বা মামলাজনিত জটিলতা নেই। এমনকি অনেক ক্ষেত্রে আইন নির্ধারিত সময়সীমাও পার হয়ে গেছে। ইসি চাইলে যেকোনো সময় তফসিল ঘোষণা করতে পারে, তবে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের আনুষ্ঠানিক নির্দেশনার অভাবে কমিশন তা করতে পারছে না। সরকারের পক্ষ থেকে সবুজ সঙ্কেত পেলেই নির্বাচনী প্রক্রিয়া শুরু করবে ইসি।
স্থানীয় সরকার আইন অনুযায়ী, পরিষদ ভেঙে দেয়ার ১৮০ দিনের মধ্যে নির্বাচন করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। কিন্তু জাতীয় নির্বাচনের আগে স্থানীয় ভোট নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে মতপার্থক্য থাকায় নির্ধারিত সময়ে ভোট হয়নি। ২০২৪ সালের ১৯ আগস্ট তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকার ১২টি সিটি করপোরেশনের মেয়রদের অপসারণ করে। আইন অনুযায়ী ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি সময়ের মধ্যেই ভোট হওয়ার কথা থাকলেও তা হয়নি। বর্তমানে এসব পদে বিএনপি দলীয় নেতারা প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
মাঠ পর্যায়ের তথ্য অনুযায়ী, ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ, সিলেট, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, বরিশাল, রংপুর ও খুলনা- এই ১২টি সিটি করপোরেশনই এখন নির্বাচন উপযোগী। ঢাকার দুই সিটির মেয়াদ ২০২৫ সালের জুনে এবং চট্টগ্রামের মেয়াদ গত ফেব্রুয়ারিতে শেষ হয়েছে। এ ছাড়া অন্যান্য সিটির মেয়াদ ২০২৭ থেকে ২০২৯ সালের মধ্যে থাকলেও মেয়রদের অপসারণ করায় পদগুলো অনেক আগেই শূন্য হয়েছে।
অন্য দিকে দেশের ৬১টি জেলা পরিষদ এবং ৪৯৫টি উপজেলার অধিকাংশতেই নির্বাচন আয়োজনে কোনো আইনি বাধা নেই। পৌরসভার ক্ষেত্রেও ৩৩০টির মধ্যে প্রায় সব ক’টিই নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত। তবে রাঙ্গামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ি জেলা পরিষদে ২০২২ সালে নির্বাচন হয়নি। এ ছাড়া সাড়ে চার হাজার ইউনিয়ন পরিষদের মধ্যে অন্তত ৬০০টিতে চলতি এপ্রিল মাসের মধ্যেই নির্বাচন হওয়া সম্ভব। আইন অনুযায়ী, মেয়াদ শেষের ১৮০ দিন আগে ভোট করার যে বিধান রয়েছে, অনেক ক্ষেত্রে সেই সময়সীমাও শুরু হয়ে গেছে।
নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের সদস্য ও নির্বাচন বিশেষজ্ঞ ড. মো: আব্দুল আলীম নয়া দিগন্তকে বলেন, সিটি করপোরেশন ও জেলা পরিষদের মতো পদগুলোতে রাজনৈতিক নেতাদের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেয়া বেআইনি নয়। তবে যেহেতু এসব পদে সরাসরি জনগণের সমস্যার সাথে সম্পৃক্ত থাকতে হয়, তাই অতি দ্রুত নির্বাচনের মাধ্যমে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের হাতে দায়িত্ব তুলে দেয়া উচিত।



