ক্রীড়া ডেস্ক
যুক্তরাষ্ট্র-কানাডা-মেক্সিকোয় আগামী ১১ জুন থেকে শুরু হবে ফুটবলের সবচেয়ে বড় আসর বিশ্বকাপ। এই প্রথম মেগা আসরটি ৩২ দল থেকে উন্নীত হয়ে ৪৮ দল নিয়ে হতে যাচ্ছে। ২০২৬ বিশ্বকাপ বিশেষ হওয়ার কারণ শুধু এটিই নয়, বরং এই আসরটি বিশেষ হবে তিন মহান তারকার লিওনেল মেসি, ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো ও নেইমার জুনিয়রের শেষ আসর হিসেবেও। তবে এই আসরটি ফুটবল ভক্তদের এই তিন কিংবদন্তিকে একই টুর্নামেন্টে মুখোমুখি হতে দেখার সুযোগ করে দিতে পারে, যা ফুটবলের স্বর্ণযুগের অন্যতম অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটাবে।
ব্রাজিলের কোচ কার্লো অ্যানচেলোত্তি ও পর্তুগাল কোচ রবার্তো মার্টিনেজ উত্তর আমেরিকা সফরের জন্য ২৬ জন খেলোয়াড়ের আনুষ্ঠানিক তালিকা প্রকাশ করেছে। দু’জনের স্কোয়াডে দুই সেরা তারকা নেইমার ও রোনালদো তাদের ভক্তদের রোমাঞ্চিত করলেও, মেসির জন্য একই কাজ এখনো করেননি আর্জেন্টিনার কোচ লিওনেল স্কালোনি। তবে ৫৫ জনের প্রাথমিক তালিকায় নাম থাকায় তার জায়গা নিশ্চিত বলেই ধরে নেয়া হচ্ছে।
আসন্ন মেগা টুর্নামেন্টে তিন গ্রুপে রয়েছে ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা ও পর্তুগাল। যার ফলে গ্রুপ পর্বের ম্যাচে দেখা হবে না তিন সেরা তারকার। আর নকআউট রাউন্ডে মেসি, নেইমার ও রোনালদোর মধ্যে কোনো সরাসরি মুখোমুখি হওয়ার সম্ভাবনাও নেই। তবে প্রতিটি দল নিজ নিজ গ্রুপে কেমন ফল করে তার ওপর নির্ভর করে চূড়ান্ত পর্বে ঐতিহাসিক ম্যাচ হওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে কিনা।
গ্রুপ সি-তে ব্রাজিল মুখোমুখি হবে মরক্কো, হাইতি ও স্কটল্যান্ডের; গ্রুপ জে-তে আর্জেন্টিনা খেলবে আলজেরিয়া, অস্ট্রিয়া ও জর্দানের বিপে এবং গ্রুপ কে-তে পর্তুগাল মোকাবেলা করবে ডিআর কঙ্গো, উজবেকিস্তান ও কলম্বিয়ার। টুর্নামেন্টের ব্র্যাকেট কেমন হয় তার ওপর নির্ভর করে নেইমার ও মেসি সেমিফাইনালে অথবা সরাসরি ফাইনালে মুখোমুখি হতে পারেন। রোনালদো ও নেইমারের েেত্রও একই কথা প্রযোজ্য, যারা টুর্নামেন্টের শেষের দিকের রাউন্ডেই কেবল মুখোমুখি হতে পারেন। যদি দু’জনেই নিজ নিজ গ্রুপে প্রথম না হয়েও পরের রাউন্ডে যান, তবে তারা রাউন্ড অফ ১৬-এ মুখোমুখি হতে পারেন; কিন্তু যদি তাদের মধ্যে যদি একটি দল দ্বিতীয় হয়, তবে সে ক্ষেত্রে তাদের দেখা হতে পারে সেমিফাইনালে অথবা সরাসরি ফাইনালে।
আরেকটি ম্যাচ যা ব্যাপক মনোযোগ আকর্ষণ করছে, তা হলো মেসি বনাম রোনালদো। সেই স্বপ্ন সত্যি হতে পারে শেষ ষোলোতে, যদি পর্তুগাল তাদের গ্রুপে জয়ী হয় এবং আর্জেন্টিনা সেরা তৃতীয় স্থানাধিকারীদের হিসেবে পরের রাউন্ডে যায়। আর উভয় দলই যদি দ্বিতীয় হয়, তাহলে শেষ ষোলোতে মুখোমুখি হতে পারে দুই দল। সবচেয়ে সম্ভাব্য পরিস্থিতি হলো কোয়ার্টার ফাইনালে তাদের দেখা হওয়া। সে ক্ষেত্রে আর্জেন্টিনা ও পর্তুগাল উভয়ই তাদের গ্রুপে প্রথম স্থান অর্জন করে ও পরবর্তী রাউন্ডে উত্তীর্ণ হয়।
২০২৬ বিশ্বকাপ ফুটবলের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ টুর্নামেন্টের নতুন সংস্করণই নয়, বরং আধুনিক ক্রীড়াজগতের তিন কিংবদন্তির জন্য একটি সম্ভাব্য যৌথ বিদায়ের মঞ্চও হতে পারে আসন্ন আসরটি। যেখানে ভাগ্য তাদের আবার মাঠে একত্রিত করে কিনা তা দেখার প্রত্যাশাও থাকছে ফুটবল ভক্তদের।
এদিকে ফের ইনজুরিতে পড়েছেন নেইমার। যদিও চোটটা গুরুতর নয়।



