নিজস্ব প্রতিবেদক
চলনে বলনে মার্জিত এবং কথা বলার ক্ষেত্রে মন্ত্রী-এমপিদের সতর্ক থাকার নির্দেশনা দিয়েছেন বিএনপি চেয়ারম্যান ও সংসদ নেতা তারেক রহমান। গতকাল সকালে জাতীয় সংসদ ভবনে বিএনপির সংসদীয় দলের প্রথম সভায় তিনি এ পরামর্শ দেন।
সভায় উপস্থিত একাধিক এমপি জানান, তারেক রহমান মন্ত্রী এবং তাদের চলনে বলনে মার্জিত ও সতর্ক থাকতে বলেছেন। এ ছাড়া গণমাধ্যমে কথা বলার ক্ষেত্রেও সতর্ক থাকতে বলেছেন। বিশেষ করে যার যে দায়িত্ব, তার বাইরে যেন কেউ মন্তব্য না করেন, এ বিষয়ে জোর দিয়েছেন। গতকাল বেলা সোয়া ১১টায় সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে সভা শুরু হয়ে শেষ হয় বেলা ১টায়। সভায় সংসদের চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি স্বাগত বক্তব্য দেন। এরপর বক্তব্য দেন বিএনপি মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। সভার মঞ্চে প্রধানমন্ত্রীর এক পাশে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও সালাহউদ্দিন আহমদ এবং অন্য পাশে চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি বসেন। সভায় বিএনপির ২০৯ জন এমপি অংশ নেন।
সভাপতির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বিএনপির নেয়া জনকল্যাণমুখী বিভিন্ন কর্মসূচি এবং সামনের দিনগুলোতে করণীয় বিষয়ে মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যদের দিকনির্দেশনা দেন।
সভায় মন্ত্রিসভার তরুণ সদস্যদের নিয়মিত ও সময়মতো অফিস করার ওপর জোর দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মন্ত্রিসভায় অনেক জ্যেষ্ঠ নেতা আছেন। বিশেষ করে তরুণদের সকাল ৯টার মধ্যে অফিসে যেতে হবে। অফিসে যাওয়া-আসার ক্ষেত্রে ট্রাফিক আইন মেনে চলবেন। আমি নিজেও ট্রাফিক আইন মেনে চলি ।
এ ছাড়া দৈনন্দিন জীবনযাপনের প্রতিটি ক্ষেত্রে কৃচ্ছ্রসাধনের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি, বিশেষ করে ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের উত্তেজনা বিশ্ব অর্থনীতিতে চাপ সৃষ্টি করছে।
সভায় বিএনপির নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচির প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের ফ্যামিলি কার্ড নিয়ে অনেকে অনেক কথা বলেছে। কিন্তু ভোটের আঙুলের কালির দাগ মোছার আগেই আমরা প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন শুরু করেছি, এটাই হচ্ছে বিএনপি। এই বিএনপিকেই মানুষ দেখতে চায়। জনগণের কাছে দলের সফলতা ও ইতিবাচক দিকগুলো তুলে ধরতে হবে। যারা সমালোচনা করছেন বা করবেন তাদের সাথে রাজনীতির ভাষায় কথা বলবেন।
বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী জানান, দ্রুততম সময়ের মধ্যে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি বাস্তবায়নের পাশাপাশি সারা দেশে খাল খনন কর্মসূচি শুরু করা হবে। সামনে ডেঙ্গুর মৌসুমকে সামনে রেখে পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে। এ সময় সংশ্লিষ্টদের সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনারও পরামর্শ দেন প্রধানমন্ত্রী। জুলাই জাতীয় সনদের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি বলেন, সনদের কিছু বিষয়ে বিভিন্ন পক্ষের ‘নোট অব ডিসেন্ট’ রয়েছে। সরকার যেসব বিষয় বাস্তবায়নযোগ্য, সেগুলো বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেবে।
সংসদীয় দলের সভায় জাতীয় সংসদের নতুন স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচনের দায়িত্ব সংসদ নেতা তারেক রহমানের ওপর ন্যস্ত করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংসদের চিপ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি। তিনি বলেন, সংসদীয় দলের সভায় স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচনের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। আমরা সিদ্ধান্ত দিয়েছি, সংসদ নেতা স্পিকার এবং ডেপুটি স্পিকার নির্ধারিত করবেন। এই পদে কে হবেন তা বৃহস্পতিবার সবাই জানতে পারবেন। সংসদ উপনেতার বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়েছেন কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, এই বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। সংসদ নেতা এ বিষয়েও সিদ্ধান্ত নেবেন। তিনি আরো জানান, বৃহস্পতিবার স্পিকারের চেয়ার খালি রেখে সংসদ অধিবেশনের কার্যক্রম শুরু হবে। শুরুতে একজন পবিত্র কুরআন তিলাওয়াত করবেন। এরপর সংসদ নেতা এই সভায় সভাপতিত্ব করার জন্য কোনো একজন জ্যেষ্ঠ নেতার নাম প্রস্তাব করবেন, একজন সংসদ সদস্য তা সমর্থন করবেন তারপর ওই সদস্য সভাপতিত্ব করবেন। তার সভাপতিত্বে স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচিত হবেন।
এদিকে বৈঠক শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, রাষ্ট্রপতি মো: সাহাবুদ্দিন জাতীয় সংসদে ভাষণ দেবেন। জুলাই জাতীয় সনদের বিষয়ে বিএনপি যতটুকুতে সম্মত হয়েছে, সরকার ততটুকুই বাস্তবায়ন করবে। জাতীয় সংসদের এই অধিবেশন জাতীয় জীবনে খুবই গুরুত্বপূর্ণ এবং ঐতিহাসিক। দীর্ঘ ১৬-১৭ বছরের রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের মধ্য দিয়ে গণতান্ত্রিক উত্তরণে আমরা উপনীত হয়েছি। বৃহস্পতিবার সেই ঐতিহাসিক দিন। ইনশাআল্লাহ, এদিন বেশ কিছু ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত হবে।
তিনি জানান, প্রথম দিন সংসদ নেতা, প্রধানমন্ত্রী প্রারম্ভিক স্বাগত বক্তব্য রাখবেন। সংসদের বিধি মোতাবেক রাষ্ট্রপতি স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারকে শপথ পড়াবেন। এরপর আবার অধিবেশন বসবে। সেই অধিবেশনের শুরুতে সভাপতিমণ্ডলীর প্যানেল চূড়ান্ত করা হবে। তারপর শোক প্রস্তাব, শোক প্রস্তাবের ওপর আলোচনা, আইনমন্ত্রী ১৩৩টি অধ্যাদেশ উপস্থাপনের পর রাষ্ট্রপতির ভাষণ হবে। তার আগে সংসদের বিজনেস অ্যাডভাইজারি কমিটিসহ আরো কয়েকটি কমিটি হবে। রাষ্ট্রপতির ভাষণের পরে অধিবেশন মুলতবি হবে।



