বেড়িবাঁধ সংস্কারের নামে বনায়ন ধ্বংস উপড়ে ফেলা হয়েছে পাঁচ শতাধিক গাছ

Printed Edition
মৌডুবী ইউনিয়নের কেউর হাওলা ও ভাঙ্গার খাল এলাকায় স্কেভেটর দিয়ে গাছ উপড়ে ফেলা হচ্ছে	:  নয়া দিগন্ত
মৌডুবী ইউনিয়নের কেউর হাওলা ও ভাঙ্গার খাল এলাকায় স্কেভেটর দিয়ে গাছ উপড়ে ফেলা হচ্ছে : নয়া দিগন্ত

রফিকুল ইসলাম রাঙ্গাবালী (পটুয়াখালী)

পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলার মৌডুবী ইউনিয়নে বেড়িবাঁধ ও সড়ক সংস্কারের নামে বন বিভাগের সামাজিক বনায়ন প্রকল্পের প্রায় পাঁচ শতাধিক গাছ উপড়ে ফেলার অভিযোগ উঠেছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) ও সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সমন্বয়হীনতা এবং উদাসীনতায় একদিকে যেমন পরিবেশের ক্ষতি হচ্ছে, অন্যদিকে সরকারের বিশাল অঙ্কের রাজস্ব হারানোর শঙ্কা তৈরি হয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, মৌডুবী ইউনিয়নের কেউর হাওলা ও ভাঙ্গারখাল এলাকায় বেড়িবাঁধ সংস্কারের সময় কোনো নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করেই এস্কাভেটর (ভেকু) দিয়ে ২০ বছরের পুরনো গাছগুলো উপড়ে ফেলা হয়েছে। উপড়ে ফেলা এসব মেহগনি, রেইনট্রি ও চাম্বল গাছ স্থানীয় কতিপয় ব্যক্তি সুযোগ বুঝে সরিয়ে নিচ্ছে। এতে ২০ বছর ধরে রক্ষণাবেক্ষণ করা উপকারভোগীরা চরম আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।

বনায়ন প্রকল্পের উপকারভোগীদের দাবি, বন বিভাগের স্থানীয় কর্মকর্তা শোয়েব খান আর্থিক সুবিধার বিনিময়ে নিয়মবহির্ভূতভাবে গাছগুলো অপসারণের সুযোগ করে দিয়েছেন। দরিদ্র উপকারভোগীরা গাছগুলো কাটতে বা সরাতে চাইলে তাদের অনুমতি দেয়া হয়নি, অথচ নিলামের জন্য মার্ক করা (চিহ্নিত) গাছগুলো রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে বিক্রির পাঁয়তারা চলছে বলে অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয়রা। তারা লুট হওয়া গাছ উদ্ধার করে সরকারি কোষাগারে রাজস্ব জমা দেয়ার দাবি জানিয়েছেন।

বন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ২০০৩-২০০৪ ও ২০১০-২০১১ অর্থবছরে পাউবোর অনুমতি নিয়ে মৌডুবীর বেড়িবাঁধের প্রায় ৬০ কিলোমিটার অংশে বনায়ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হয়। বর্তমানে ৩.২৫ কিলোমিটার অংশে সংস্কার কাজ চলছে।

সবুজ বনায়ন প্রকল্পের উপকারভোগী কমিটির সভাপতি আক্কাস ফরাজী বলেন, আমরা ২০ বছর ধরে এই গাছগুলো আগলে রেখেছি। সংস্কারের নামে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান প্রায় ৫০০ গাছ উপড়ে ফেলেছে, যার বাজারমূল্য প্রায় ১০ লাখ টাকা। বাধা দিলেও ঠিকাদারের লোকজন শোনেনি, এমনকি বন বিভাগকেও জানানো হলেও কাজ হয়নি।

রাঙ্গাবালী উপজেলা বন কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদ বলেন, পাউবো আমাদের পর্যাপ্ত সময় না দিয়েই ঠিকাদারের মাধ্যমে গাছ উপড়ে ফেলেছে, যা সম্পূর্ণ নিয়মবহির্ভূত। পাউবো গত ২৬ জানুয়ারি গাছ অপসারণের চিঠি দেয়, অথচ আমাদের সর্বশেষ নিলাম হয়েছে ১০ জানুয়ারি। পরবর্তী নিলামের জন্য আমরা গাছের মার্কিং সম্পন্ন করে জেলা কমিটির অনুমোদনের অপেক্ষায় ছিলাম। তার আগেই ঠিকাদার এই ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছে। অন্যদিকে, ঠিকাদারের প্রতিনিধি জামাল বলেন, পাউবোর নির্দেশেই কাজ শুরু হয়েছে। বৃষ্টির আগেই কাজ শেষ করার তাড়া রয়েছে।

পটুয়াখালীর কলাপাড়া পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী শাহ আলম বলেন, তিন মাস আগেই বন বিভাগকে ব্যবস্থা নিতে চিঠি দেয়া হয়েছে। বর্ষার আগে এলাকাটি ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় দ্রুত সংস্কার করতে হচ্ছে। তবে ঠিকাদারকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে যেন আর কোনো গাছ নষ্ট না করা হয়।