আলজাজিরা
তিউনিসিয়ার প্রেসিডেন্ট কায়েস সাঈদের নাটকীয় ক্ষমতা দখলের পাঁচ বছর পর, ২০১১ সালের ঐতিহাসিক বিপ্লব থেকে যে আশার সঞ্চার হয়েছিল, তা এখন বিলীন হওয়ার পথে। বিপ্লব-পরবর্তী সময়ে একটি নতুন সংবিধান ও গণতান্ত্রিক কাঠামোর গঠনে জনগণের অংশগ্রহণের যে তাগিদ দেখা গিয়েছিল, তা এখন অনেকটাই অনুপস্থিত। ২০১১ সালের গণ-অভ্যুত্থানের সময় যেসব রাজনৈতিক আলোচনা সম্প্রচার মাধ্যমে প্রাধান্য পেত, সেগুলোর স্থান এখন নিয়েছে খেলাধুলা ও বিনোদনমূলক অনুষ্ঠান।
দেশের অর্থনীতি যা ২০১১ সালের বিপ্লবের মূল চালিকাশক্তি এবং ২০২১ সালে সাঈদের ক্ষমতা দখলের অযুহাত ছিল- তা ক্রমাগত অবক্ষয়ের দিকে যাচ্ছে। অনাবৃষ্টি, তীব্র দাবদাহ ও দাবানলের বিপর্যয়ের মধ্যে নিয়মিত বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্নতার ঘটনা জনগণের অসন্তোষকে আরো বাড়িয়ে তুলেছে। সম্প্রতি প্রেসিডেন্টের একচ্ছত্র শাসন ও জীবনযাত্রার মান অবনতির বিরুদ্ধে রাজধানী তিউনিসের রাজপথে নেমে প্রতিবাদ জানান কয়েক হাজার বিক্ষোভকারী। একই সময়ে তার সমর্থকরাও পতাকা হাতে পাল্টা জমায়েত করে বিরোধীদের কারাদণ্ডের দাবি জানিয়ে সেøাগান দেয়। সংবাদমাধ্যমের ওপর সরকারের কঠোর নজরদারি ও প্রশাসনিক চাপের ফলে স্থানীয় সাংবাদিকরা সেই অনুযায়ী সংবাদ সংগ্রহ করতে বাধ্য হচ্ছেন।
হিউম্যান রাইটস ওয়াচের তিউনিসিয়া পরিচালক সালসাবিল চেল্লালি জানান, সরকারের সমালোচনা কোনোভাবেই বরদাস্ত করা হবে না- এমন বার্তা এখন স্পষ্ট। তার মতে, গত পাঁচ বছরে কায়েস সাঈদ তিউনিসিয়ার গণতান্ত্রিক উত্তরণকে বাধাগ্রস্ত করে দেশকে একনায়কতন্ত্রের দিকে ফিরিয়ে নিয়ে গেছেন। আইনের শাসন ভেঙে ফেলা এবং বিরোধী দল, নাগরিক সমাজ ও গণমাধ্যমকে ধারাবাহিকভাবে কোণঠাসা করার মাধ্যমে তিউনিসীয়দের নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
দাবদাহ ও পরিকল্পনার অভাব
ইতালি ও আলজেরিয়ার সহায়তার পরও ইদানীং ছড়ানো দাবানলে দেশজুড়ে আনুমানিক চার হাজার চারশত হেক্টরেরও বেশি বনভূমি ও জমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রচণ্ড গরমে অতিরিক্ত বিদ্যুৎ চাহিদা সামলাতে রাষ্ট্রীয় বিদ্যুৎ ও গ্যাস কোম্পানি (ঝঞঊএ) ধাপে ধাপে যে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্নকরণ শুরু করেছে, তার প্রভাব পড়ছে কৃষি ও শিল্প খাতে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক তিউনিসিয়াভিত্তিক এক বিশ্লেষক জানান, জলবায়ু ও মৌসুমি চাহিদার পূর্বাভাস থাকা সত্ত্বেও তা মোকাবেলায় সরকারের কোনো সুনির্দিষ্ট বিনিয়োগ বা কেন্দ্রীয় পরিকল্পনা নেই। তবে তিনি উল্লেখ করেন, সাঈদ এখনো সমাজের একটি অংশের সমর্থন পাচ্ছেন, যারা কায়েস সাঈদের ক্ষমতা দখলের আগের পার্লামেন্টের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও অচলাবস্থার কথা মনে রেখেছে।
সমস্যাগুলো স্বীকার করলেও পার্লামেন্ট ও গণমাধ্যমে রাষ্ট্রপতির সমর্থকরা কাঠামোগত পরিবর্তনের চেয়ে সংস্কারের বিষয়টিকে গুরুত্ব দিচ্ছেন। তারা বিদ্যমান পরিস্থিতিকে ২০২২-পূর্ববর্তী সংসদীয় ব্যবস্থার সাথে তুলনা করছেন।
সংস্কারের সম্ভাবনা ক্ষীণ
আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির কারণেও তিউনিসিয়ায় সাঈদের শাসন ব্যবস্থা সুসংহত হয়েছে। অভিবাসন প্রবাহ নিয়ন্ত্রণের উদ্দেশ্যে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ঊট) অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক ও গণতান্ত্রিক সংকটের চেয়ে স্থিতিশীলতাকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে এবং সরকারটির সাথে একাধিক সমঝোতায় পৌঁছেছে।



