ক্রীড়া ডেস্ক
বিশ্বকাপের গ্রুপ ‘জি’-এর গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে দারুণ লড়াইয়ের পর ১-১ গোলে ড্র করেছে মিসর ও বেলজিয়াম। সিয়াটেল স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ছিল তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা, যেখানে মিসর দীর্ঘ সময় এগিয়ে থেকেও শেষ মুহূর্তে আত্মঘাতী গোলে পয়েন্ট হারায় ফ্যারাওরা।
ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক পরিকল্পনা নিয়ে নামে মিসর। কোচ হোসাম হাসান বড় সিদ্ধান্ত নিয়ে তারকা ফরোয়ার্ড মোহাম্মদ সালাহকে সেন্ট্রাল পজিশনে খেলান, যা শুরুতেই কার্যকর প্রমাণিত হয়। বেলজিয়ামের রক্ষণভাগকে চাপে রেখে দ্রুত আক্রমণ সাজাতে থাকে মিসর।
খেলার নিয়ন্ত্রণ ধীরে ধীরে মিসরের দিকে যেতে থাকে। ১৯ মিনিটে আসে ম্যাচের প্রথম গোল। মাঝমাঠ থেকে নিখুঁত পাস পেয়ে বল নিয়ন্ত্রণে নেন ইমাম আশুর। এরপর প্রায় ২০ গজ দূর থেকে ডান পায়ে শক্তিশালী শট নেন তিনি, যা দারুণভাবে বাঁ দিকের নিচের কোণায় গিয়ে জালে জড়ায়। এটি ৩০তম আন্তর্জাতিক ম্যাচে ক্যারিয়ারের প্রথম গোল তার।
বিশ্বের শীর্ষ গোলরক্ষকদের একজন থিবো কোর্তোয়া চেষ্টা করেও বল আটকাতে পারেননি। তার শটের গতি ও নিখুঁত কোণ বেলজিয়ামের রক্ষণভাগকে হতবাক করে দেয়। গোলের পর মিসর আরো আত্মবিশ্বাসী হয়ে ওঠে এবং চাপ বাড়ায়।
প্রথমার্ধে মিসর ছিল অনেক বেশি কার্যকর। তাদের দুইটি শটই লক্ষ্যে ছিল, যেখানে বেলজিয়াম বেশ কয়েকটি আক্রমণ তৈরি করলেও গোলরক্ষককে পরীক্ষা করতে পারেনি। বিশেষ করে প্রান্ত থেকে আক্রমণ চালালেও মিসরের ডিফেন্সিভ লাইন ছিল অত্যন্ত সংগঠিত।
৩৩ মিনিটে মিসর দ্বিতীয় গোলের খুব কাছাকাছি পৌঁছে যায়। তবে মেহেদী বা অন্য আক্রমণভাগের শট দুর্দান্ত ডাইভে রুখে দেন কুর্তোয়া। প্রথমার্ধে স্পষ্টতই এগিয়ে ছিল মিসর, কিন্তু ব্যবধান বাড়াতে পারেনি তারা।
দ্বিতীয়ার্ধে ম্যাচের গতি ও আক্রমণের ধার আরো বেড়ে যায়। বেলজিয়াম গোল পরিশোধে আরো আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে এবং বক্সে চাপ তৈরি করতে থাকে। অন্য দিকে মিসর দ্রুত পাল্টা আক্রমণে গিয়ে সুযোগ তৈরি করে।
৫৫ মিনিটে আবারো সুযোগ পায় মিসর। সালাহর একটি হেডার দুর্দান্তভাবে সেভ করেন কুর্তোয়া, যা ম্যাচের অন্যতম সেরা মুহূর্ত ছিল। মিসর তখন দ্বিতীয় গোলের জন্য পুরোপুরি মরিয়া হয়ে ওঠে।
কিন্তু ৬৬ মিনিটে ম্যাচে আসে বড় মোড়। বেলজিয়াম কোচ পরিবর্তন এনে মাঠে নামান অভিজ্ঞ স্ট্রাইকার রোমেলু লুকাকুকে। মাঠে নামার মাত্র কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই তিনি ম্যাচে প্রভাব ফেলেন।
থমাস মেউনিয়েরের একটি ক্রস বক্সে পৌঁছালে লুকাকু দ্রুত প্রতিক্রিয়া দেখান। দুই ডিফেন্ডারের মাঝখানে জায়গা তৈরি করে তিনি শটের চেষ্টা করেন। সেই মুহূর্তে বিশৃঙ্খলার মধ্যে বল ডিফেন্ডার মোহাম্মদ হানির পায়ে লেগে দিক পরিবর্তন করে এবং শেষ পর্যন্ত এটি আত্মঘাতী গোলে পরিণত হয়। মাত্র কয়েক সেকেন্ডের ব্যবধানে বেলজিয়াম সমতায় ফিরে আসে।
এরপর ম্যাচ আরো উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে ওঠে। দুই দলই জয়ের জন্য মরিয়া হয়ে আক্রমণ চালায়। মিসর একাধিক কাউন্টার অ্যাটাক তৈরি করে, যেখানে ওমার মারমুশ কয়েকবার বিপজ্জনক শট নেন কিন্তু বেলজিয়ামের ডিফেন্স শেষ মুহূর্তে সফলভাবে বাধা দেয়।
ম্যাচের ৭৫ মিনিটে সালাহকে তুলে নেয়া হলে মিসরের আক্রমণ কিছুটা দুর্বল হয়ে পড়ে।
অন্য দিকে বেলজিয়াম শেষ দিকে চাপ বাড়ালেও মিসরের রক্ষণভাগ দৃঢ়ভাবে দাঁড়িয়ে থাকে। শেষ বাঁশির সাথে ম্যাচ শেষ হয় ১-১ সমতায়। মিসর দারুণ পারফরম্যান্স করেও জয় থেকে বঞ্চিত হয়, আর বেলজিয়াম শেষ মুহূর্তের গোলে হার এড়াতে পেরে স্বস্তি পায়। এই ড্র গ্রুপ জি-এর পয়েন্ট টেবিলকে আরো প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ করে তুলেছে।


