জাতীয় সংসদে ‘সুপ্রিমকোর্ট সচিবালয় (রহিতকরণ) বিল’ পাসের মাধ্যমে স্বাধীন বিচার বিভাগীয় সচিবালয় ভেঙে দিয়ে বিচারিক স্বায়ত্তশাসন হরণ করার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির। গতকাল ২০ মে এক যৌথ বিবৃতিতে ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম এবং সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ এই প্রতিবাদ জানান।
বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, ‘একটি স্বাধীন, নিরপেক্ষ ও শক্তিশালী বিচার বিভাগ ছিল জুলাই অভ্যুত্থানের অন্যতম প্রধান আকাক্সক্ষা। বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে ‘সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ-২০২৫’ জারির মাধ্যমে বিচার বিভাগের পূর্ণ স্বাধীনতার যে ঐতিহাসিক পথ উন্মোচিত হয়েছিল, গতকাল সংসদের এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে তার অপমৃত্যু ঘটানো হয়েছে। বিচার বিভাগকে আবার আইন মন্ত্রণালয়ের অধীনে ফিরিয়ে নেয়ার বিএনপি সরকারের এই পদক্ষেপ বিচারব্যবস্থার ওপর নির্বাহী বিভাগের নগ্ন হস্তক্ষেপ এবং আদালতকে পুনরায় দলীয় আজ্ঞাবহ প্রতিষ্ঠানে রূপদানের এক অপচেষ্টা।’
নেতৃবৃন্দ বলেন, ‘বিচারকদের প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ, বদলি ও নিয়োগের ক্ষমতা নির্বাহী বিভাগের হাতে ন্যস্ত করার এই আত্মঘাতী প্রক্রিয়া দেশে আবারো ফ্যাসিবাদের অন্ধকার অধ্যায়ের চারণভূমি তৈরি করবে। অতীতে আমরা দেখেছি, কিভাবে আদালতকে দলীয় হাতিয়ার বানিয়ে গুম, খুন, ক্রসফায়ার এবং রাজনৈতিক নিপীড়নের মতো ভয়াবহ রাষ্ট্রীয় জুলুমকে বৈধতা দেয়া হয়েছিল। সুপ্রিমকোর্ট সচিবালয় রদ করার এই সিদ্ধান্ত সেই পুরনো স্বৈরতান্ত্রিক অপসংস্কৃতি ও ভীতিকর পরিবেশের পুনরাবৃত্তির শঙ্কাকে তীব্র করে তুলেছে।’
বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘বুকের রক্ত দিয়ে ফ্যাসিবাদ বিদায় করা এ দেশের সচেতন ছাত্রসমাজ নতুন কোনো লেবাসে স্বৈরতন্ত্রের পুনরুত্থান বা বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নস্যাতের কোনো অপচেষ্টা বরদাশত করবে না। আমরা সরকারকে এই হঠকারী সিদ্ধান্ত অবিলম্বে প্রত্যাহার করে স্বাধীন সুপ্রিমকোর্ট সচিবালয় পুনর্বহাল করার জোর দাবি জানাচ্ছি। বিজ্ঞপ্তি।



