নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়ছেই

আব্দুল কাইয়ুম
Printed Edition
  • গণপরিবহনে ঘটছে যৌন হয়রানি ও ধর্ষণ
  • বিচারহীনতায় বাড়ছে নারী ও শিশু নির্যাতন
  • নারী ও শিশুর জন্য নিরাপদ নগরের দাবি বিশেষজ্ঞদের
  • যৌন হয়রানি রোধে চাকরিচ্যুতি অধ্যাদেশ

সাম্প্রতিক সময়ে ধর্ষণ, হত্যা ও নির্যাতনের ঘটনা বৃদ্ধিতে দেশে নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা ঝুঁকি ক্রমেই বাড়ছে। বাসা, অফিস, গণপরিবহন, সড়ক ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ সব জায়গায় নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে অধিকাংশ নারী ও শিশু। এতে নারী ও শিশুদের মানসিক বিকাশ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। শিশু নির্যাতন ও শিশু অপহরণের মতো ঘটনা যেন এখন সাধারণ ঘটনায় রূপ নিয়েছে। দুঃখের বিষয় হলো নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা বিধানে অনেক আইন থাকলেও বাস্তবে কোনোটারই কঠোর প্রয়োগ দেখা যায় না। এ কারণে নির্যাতনের শিকার হয়েও নারীরা বিভিন্ন সময় চুপ থাকতে বাধ্য হয়। তার পরেও অনেকে বিচারের আশায় মামলা করছেন।

পুলিশ সদর দফতরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৫ সালে উদ্ধার-সংক্রান্ত মামলাসহ মোট এক লাখ ৮১ হাজার ৭৩৭টি মামলা নথিভুক্ত হয়েছে। এতে দেখা যায়, সবচেয়ে বেশি দায়ের হয়েছে নারী ও শিশু নির্যাতনের মামলা। গত বছর সব মিলিয়ে ২১ হাজার ৯৩৬টি নারী ও শিশু নির্যাতনের মামলা হয়েছে।

বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের প্রকাশিত বার্ষিক প্রতিবেদন বলছে, ২০২৫ সালের ১১ মাসে সারা দেশে নির্যাতনের শিকার হয়েছে দুই হাজার ৫৪৯ নারী ও কন্যাশিশু। মোট নির্যাতিতের প্রায় অর্ধেকই কন্যাশিশু ও কিশোরী।

সাইবার সাপোর্ট ফর উইমেন অ্যান্ড চিলড্রেন প্ল্যাটফর্ম’-এর তথ্য মতে, ২০২৫ সালের প্রথম ছয় মাসে সাইবার সহিংসতার শিকার হওয়াদের মধ্যে ৯৭ শতাংশই নারী ও শিশু। অঞ্চল হিসেবে সবচেয়ে বেশি ১৩টি ঘটনা ঘটেছে ঢাকা শহরে। রাজধানী হিসেবে ঢাকা ডিজিটাল অপরাধের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠছে। ভুক্তভোগীদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ৭৬ শতাংশ নারী, ২১ শতাংশ অপ্রাপ্তবয়স্ক কন্যাশিশু আর তিন শতাংশ পুরুষ। নারী ও শিশুদের বিরুদ্ধে সাইবার সহিংসতার মধ্যে সবচেয়ে বেশি ব্ল্যাকমেইল, ধর্ষণ, পর্নোগ্রাফি কনটেন্ট ছড়ানো এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে নগ্ন ছবি তৈরি করে ব্ল্যাকমেইল করার মতো ঘটনা রয়েছে। কিছু ক্ষেত্রে ৮ থেকে ১২ বছর বয়সী শিশুদের ভিডিও ধারণ করে ব্ল্যাকমেইল করার ঘটনাও ঘটেছে। ৭০ শতাংশের বেশি ঘটনায় একই সাথে ধর্ষণ, ভিডিও ধারণ, ব্ল্যাকমেইল ও ডিজিটাল কনটেন্ট ছড়ানোর মতো অপরাধ করা হয়েছে।

এ দিকে শারীরিক, মৌখিক, ইঙ্গিতপূর্ণ ও অনলাইনে সংঘটিত সব ধরনের অনাকাক্সিক্ষত ও অপমানজনক আচরণকে যৌন হয়রানি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত করে কর্মক্ষেত্র ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যৌন হয়রানি এবং পারিবারিক সহিংসতা প্রতিরোধে পৃথক দুই অধ্যাদেশের খসড়া নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে সরকার। এসব অপরাধের শাস্তির মধ্যে রয়েছে তিরস্কার থেকে শুরু করে পদাবনতি, চাকরিচ্যুতি বা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে বহিষ্কার পর্যন্ত। অধ্যাদেশটি অবিলম্বে কার্যকর হবে এবং দেশের সব কর্মক্ষেত্র ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রযোজ্য হবে।

সড়কেও নেই নিরাপত্তা : সবশেষ গত ২৮ জানুয়ারি বেলা ১১টার দিকে সুমাইয়া আক্তার তার তিন বছর বয়সী ছেলেকে নিয়ে রাজধানীর মুগদা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল থেকে মালিবাগের মৌচাক মার্কেটে যাওয়ার জন্য একটি রিকশা ভাড়া করেন। ছেলে পানি পান করতে চাইলে রিকশায় তাকে রেখে সুমাইয়া একটি দোকান থেকে পানি কিনতে গেলে অটো রিকশাচালক শিশুটাকে নিয়ে পালিয়ে যায়। পরে রথ্যাবের অভিযানে অপহরণকৃত শিশুটিকে গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলা থেকে উদ্ধার করা হয়।

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বাড়ছে নিরাপত্তাহীনতা : গত ১৮ জানুয়ারি রাজধানীর নয়াপল্টনে শারমিন একাডেমি নামের একটি স্কুলে শিশু নির্যাতনের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়। ভিডিওতে দেখা যায়, স্কুল ইউনিফর্ম পরা আনুমানিক চার বছর বয়সী এক শিশুকে টানা-হেঁচড়া করে একটি কক্ষে নিয়ে যাওয়া হয়। তখন এক নারী শিশুটিকে বসিয়ে বারবার চড় মারছেন এবং ধমক দিচ্ছেন। পরে এক পুরুষ শিক্ষক স্ট্যাপলার হাতে শিশুর মুখের দিকে হুমকি দিয়েছেন। পুরো ঘটনার সময় শিশুটির মধ্যে চরম ভয় ও মানসিক আতঙ্কের লক্ষণ স্পষ্টভাবে দেখা যায়।

বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব হেলথ সায়েন্সেস (বিইউএইচএস) প্রকাশিত ‘ভায়োলেন্স এগেইনস্ট চিলড্রেন অ্যান্ড ইটস অ্যাসোসিয়েটেড ফ্যাক্টরস ইন আরবান এরিয়া অব ঢাকা, বাংলাদেশ’ (ঢাকা শহরে শিশুর প্রতি সহিংসতা ও সম্পর্কিত কারণ) শিরোনামের গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এখনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ৫৬ শতাংশ শিশু শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শাস্তির নামে এ ধরনের সহিংস আচরণ শুধু শিশুদের শারীরিক ক্ষতিই করে না, বরং দীর্ঘমেয়াদে তাদের মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর গভীর প্রভাব ফেলে। তারা এটিকে শিশুদের জীবনের প্রতি সরাসরি হুমকি হিসেবে দেখছেন। তাদের মতে, পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কিংবা সমাজের কোনো স্তরেই শারীরিক শাস্তির বৈধতা নেই।

গণপরিবহনে ঘটছে যৌন হয়রানি ও ধর্ষণ : প্রতি দিনের কাজ করতে গিয়ে ভিড় ঠেলে বাসে উঠতেই শুরু হয় দিনের প্রথম যুদ্ধ। নারী, শিশু ও প্রতিবন্ধীদের জন্য সংরক্ষিত সিটে আরাম করে বসে থাকেন পুরুষ যাত্রীরা। জায়গা না পেয়ে গা ঘেঁষাঘেঁষি করে দাঁড়িয়ে থাকতে হয় নারীদের। খারাপ রাস্তা আর বেপরোয়া গতির কারণে সোজা দাঁড়িয়ে থাকা কঠিন হয়ে যায়। একটুতেই ধাক্কা লাগে কারো না কারো গায়ে। প্রতিটি মুহূর্ত অস্বস্তি আর অনিরাপত্তা নিয়ে গন্তব্যে পৌঁছতে হয় তাদের। এ ছাড়াও প্রতিনিয়ত ঘটছে যৌন হয়রানি থেকে শুরু করে ধর্ষণের মতো ঘটনাও।

গত ১৪ জানুয়ারি রাতে রাজধানীর একটি কলেজের এক ছাত্রী সাভারের রেডিওকলোনি থেকে আশুলিয়া যাওয়ার জন্য বাসে উঠেন। বাসে তখন দুইজন যাত্রী ছিলেন। পরে যাত্রীরা নামার পর বাসের চালক ও তার সহকারীরা ওই ছাত্রীকে আটকে রেখে স্বর্ণালঙ্কার, টাকা ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয়। পরে বাসটি বিভিন্ন জায়গায় ঘোরাফেরা করে ওই ছাত্রীকে রাতভর সঙ্ঘবদ্ধ ধর্ষণ করে ও তার ভিডিও ধারণ করে। পরদিন দুপুরে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের ঢাকাগামী লেনের করটিয়া আন্ডারপাস এলাকায় মহাসড়কের ওপর সন্দেহজনক অবস্থায় দাঁড়ালে হাইওয়ে পুলিশ বাসসহ সবাইকে আটক করতে সক্ষম হয়। ব্র্যাকের ‘নারীর জন্য যৌন হয়রানি ও দুর্ঘটনামুক্ত সড়ক’ শীর্ষক এক গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশের গণপরিবহনে যাতায়াতের সময় ৯৪ শতাংশ নারী মৌখিক, শারীরিক বা অন্য কোনোভাবে যৌন হয়রানির শিকার হচ্ছেন। ৪১ থেকে ৬০ বছর বয়সী পুরুষদের দ্বারাই যৌন হয়রানির শিকার হন বেশির ভাগ নারী- এর হার ৬৬ শতাংশ। নারীদের যৌন হয়রানির মূল কারণ হচ্ছে আইনের সুষ্ঠু প্রয়োগ না থাকা, বাসে অতিরিক্ত ভিড়, যানবাহনে পর্যাপ্ত আলোর অভাব ইত্যাদি। আইন ও সালিশ কেন্দ্রের হিসাব মতে, ধর্ষণ ও যৌন সহিংসতার মাত্র ২০ ভাগ ঘটনায় থানায় মামলা হয়। বাকি প্রায় ৮০ ভাগ থেকে যায় বিচারের বাইরে।

নারী ও শিশু নিরাপত্তায় বিশেষজ্ঞদের ভাবনা

বিশ্লেষকরা বলছেন, চব্বিশের জুলাইয়ের পর মানুষ স্বপ্ন দেখেছিল, নারী ও শিশুর অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার যে পারিবারিক ও রাষ্ট্রীয় দায় রয়েছে, তা নতুন সরকার দৃঢ়তার সাথে পালন করবে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নত হবে, ধর্ষণ ও নির্যাতনের মামলার দ্রুত নিষ্পত্তি হবে এবং অপরাধীরা দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি পাবে। কিন্তু পরিসংখ্যান দেখাচ্ছে বাস্তবতার ভিন্ন রূপ। নারী ও শিশুর প্রতি নির্যাতনের এ সংখ্যা প্রমাণ করে, পরিবার বা সমাজের কোনো স্তরেই মেয়েদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায়নি। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে শুরু করে কর্মক্ষেত্র, এমনকি সবচেয়ে নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে পরিচিত পরিবারেও নারীরা নিরাপদ নয়।

স্ট্রিট চিলড্রেন অ্যাক্টিভিস্টস নেটওয়ার্ক (স্ক্যান) বাংলাদেশের সাধারণ সম্পাদক মনিরুজ্জামান মুকুল বলেন, ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে নভেম্বর পর্যন্ত শিশু-সংক্রান্ত মোট এক হাজার ৪৮৫টি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন সংবাদপত্রে প্রকাশিত হয়েছে। এর মধ্যে শিশু নির্যাতন ও সহিংসতা-সংক্রান্ত প্রতিবেদন ছিল ১৫ দশমিক ৬৩ শতাংশ, শিশু পাচার ও যৌন নিপীড়ন ৮ দশমিক ৭৫ শতাংশ, শিশু স্বাস্থ্য ও সুরক্ষা ৯ দশমিক ৭০ শতাংশ এবং শিক্ষা খাতে ঝুঁকি-সংক্রান্ত প্রতিবেদন ছিল ছয় দশমিক ৯৪ শতাংশ। শিশুদের বিরুদ্ধে অপরাধ ও দুর্ঘটনার সংখ্যায় ঢাকা বিভাগ শীর্ষে রয়েছে। এই বিভাগে ২৯৮ জন নিহত, ২৮৪ জন শিশু আহত ও দুই হাজার ৩৭৬ জনকে ভুক্তভোগী হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে।

মনিরুজ্জামান মুকুল আরো বলেন, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী সব রাজনৈতিক দলের নির্বাচনী ইশতেহারে শিশু অধিকার নিশ্চিতের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট অঙ্গীকার থাকতে হবে। শিশুদের রাজনৈতিক সহিংসতা থেকে দূরে রাখতে কঠোর আইন ও রাজনৈতিক ঐকমত্য প্রয়োজন। শিশু ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় দ্রুত বিচার ও কঠোর শাস্তির ওপর গুরুত্বারোপ করে সব ক্ষেত্রে শিশুদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তিনি। বাংলাদেশ শিশু একাডেমির মহাপরিচালক আরজু আরা বেগম বলেন, শিশু কল্যাণে সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে এবং নারী ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের বাজেটের ৬৬ শতাংশ সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিতে ব্যয় করা হচ্ছে। শিশুবিষয়ক একটি পৃথক অধিদফতর গঠনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে, যা এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।

নারী ও শিশুর জন্য নিরাপদ নগর থাকতে হবে জানিয়ে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগের অধ্যাপক ইশরাত ইসলাম বলেন, নগর পরিকল্পনায় পক্ষাঘাতগ্রস্ত নারী ও শিশুদের কথা ভাবা হয়নি। সামাজিক নিরাপত্তা খাতের ৮৫ শতাংশ ব্যয় হয় গ্রামে। আর বাকি ১৫ শতাংশ ব্যয় হয় শহরের জন্য। ঢাকার গণপরিবহনও নারীবান্ধব নয়। চলন্ত বাসে নারী নির্যাতন, যৌন হয়রানি ও হত্যার মতো ঘটনা ঘটছে। টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রায় (এসডিজি) নারী ও শিশুর উন্মুক্ত স্থানে হাঁটাচলা, খেলাধুলা, সময় কাটানোর নির্দিষ্ট একটি লক্ষ্য নির্ধারিত আছে; কিন্তু উন্মুক্ত স্থানগুলোতে ব্যক্তিস্বার্থেই ইমারত নির্মাণ করা হচ্ছে। ঢাকায় ১৪৪টি প্রাতিষ্ঠানিক মাঠ আছে; এগুলোতে নারী এবং শিশু-কিশোরদের জন্য খেলাধুলার ব্যবস্থা করতে হবে। নারী অধিকার ও সমতাকে খাটো করে দেখা হয়।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সাবরিনা ওবায়েদ আনিকা বলেন, সড়কে নারীবান্ধব যানবাহন না থাকাই তাদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের বড় কারণ। নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে নারীবান্ধব যানবাহন, চালক ও সহকারী থাকতে হবে। পরিবর্তন আনতে হবে যাত্রীদের মানসিকতায়ও। নারী ও শিশু নির্যাতন বন্ধে সামাজিক আন্দোলন বা প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও কর্মক্ষেত্রে যৌন হয়রানি রোধে হাইকোর্টের রায়ের দিকনির্দেশনার অনুকরণে আইন প্রণয়ন করা। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের যৌথ উদ্যোগে নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। আর কোনো নারী বা শিশু যেন নির্যাতন কিংবা ধর্ষণের শিকার না হয়। স্কুল বা কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয়গামী কোনো ছাত্রী যেন কোনোভাবে ইভটিজিং বা যৌন নিপীড়ন বা ধর্ষণের শিকার না হন।