শীতের শেষে গাছে গাছে থোকায় থোকায় শোভা পায় লিচু ফুল, লিচু মুকুল; বসন্তের হাওয়ায় যেন ওদের দোলা দেওয়া । লিচু গাছে মুকুল আসে মাঘের শেষ সপ্তাহ থেকে চৈত্রের প্রথম ভাগে। লিচুর মুকুল ছোট, হালকা সবুজ। ফুল ফোটার কিছু দিন পর তা হলদে-সবুজ ও খয়েরি-হলুদে রূপ নেয়। এগুলো সুগন্ধযুক্ত ও ছোট ছোট ফুলের গুচ্ছের মতো দেখায়। যা বেরিয়ে আসে গাছের ডালের ডগা থেকে। পরে এগুলো ঝাঁকড়া হয়ে ছড়িয়ে পড়ে। মৌমাছি ও অন্যান্য পরাগায়ণকারী পোকাকে আকর্ষণ করে মুকুল। এর প্রতিটি গুচ্ছের আকার প্রায় ৩০-৩২ সেন্টিমিটার।
ফুল থেকে তৈরি হয় সবুজ ছোট লিচুর গুটি। এগলো এতোটাই ছোট যে, দেখতে অনেকটা সোনারঙা নাকফুলের মতো লাগে। মুকুলে থাকে পরাগধানী। ফুলে নেই কোনো পাপড়ি। ফুলের মধু থেকে পাওয়া যায় এক ধরনের নির্যাস, যা সুগন্ধি তৈরিতে ব্যবহৃত হয়।
ফুলের দুটো আকর্ষণীয় জাত মোজাফফর বা দেশী এবং বোম্বাই বা চায়না-৩; আরো আছে বেদানা, কাঁঠালি, কদমি, চায়না-১, চায়না-২ প্রভৃতি উন্নতজাতের মুকুল। এসব মুকুলের মৌ মৌ গন্ধে ভরে যায় গাছের আশপাশ। লিচু মুকুলের রাজ্য হিসেবে পরিচিত পাবনার ঈশ্বরদী। এর আরো নামকরা জায়গাগুলো হলো রাজশাহী, দিনাজপুর, পাবনা, নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ প্রভৃতি।
মুকুল বেশি আসে গাছের পুরনো ডালপালার কচি অংশে। লিচু সংগ্রহ করা যায় ফুল বা মুকুল ফোটার প্রায় ১৫০ দিন পর থেকে।
মুকুল আসার পর এবং ফুল ফোটার পর নিয়ম মেনে গাছে কীটনাশক ও ছত্রাকনাশক স্প্রে করলে মুকুল ও ফল ঝরে পড়ে না। তবে অতিমাত্রায় নাইট্রোজেন সার প্রয়োগ করলে তাতে গাছ বৃদ্ধি পেলেও মুকুল কম আসে। মুকুল ঝরে পড়ে শুষ্ক আবহাওয়া ও উপযুক্ত হরমোনের অভাবেও। এর গুটি মটরদানার সমান হলে মিরাকুলান স্প্রে করলে মুকুল কম ঝরে।
অনেক সময় মুকুলের গোছায় পাউডারি মিলডিউ রোগ দেখা দেয়। তাতে মুকুলের গোড়া ফ্যাকাসে হয়ে ঝরে পড়ে। খুব ছোট সাদা মাকড় এর ক্ষতি করে। মাকড়গুলো পাতার নিচের সবুজ অংশ খেয়ে ফেলে। এমন অবস্থায় গাছের গোড়ায় উর্বর মাটি ও পাতায় কীটনাশক প্রয়োগ করলে মাকড়গুলো মরে যায়। তাতে মুকুল যেমন ভালো থাকে, তেমনি ফলের স্বাস্থ্যও ভালো হয়।
লিচুর মুকুল বা ফুল থেকে সংগৃহীত মধু খুবই পুষ্টিকর, যা খেলে মানুষের উচ্চ রক্তচাপ, হরমোন সমস্যা প্রভৃতি থেকে কমবেশি মুক্তি পাওয়া যায়। ।



