সম্মিলিত নারী প্রয়াসের মানববন্ধন

মোশাররফ ঠাকুরের বক্তব্য নারী স্বাধীনতার ওপর আঘাত

Printed Edition
নারীদের পোশাক নিয়ে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্যের প্রতিবাদে নারী প্রয়াসের মানববন্ধন :  নয়া দিগন্ত
নারীদের পোশাক নিয়ে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্যের প্রতিবাদে নারী প্রয়াসের মানববন্ধন : নয়া দিগন্ত

নিজস্ব প্রতিবেদক

বিএনপি নেতা মোশাররফ আহমেদ ঠাকুর মুসলিম নারীদের ধর্মীয় বিধান নিকাব সম্পর্কে ধৃষ্টতাপূর্ণ বক্তব্য প্রদান করে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করেছেন- এমন অভিযোগ করে প্রতিবাদ জানিয়েছে সম্মিলিত নারী প্রয়াস। গতকাল জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে সংগঠনটি এক মানববন্ধনের আয়োজন করে। মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারী বিভিন্ন সংগঠনের নারী নেতৃবৃন্দ মোশাররফ আহমেদ ঠাকুরকে গ্রেফতারের দাবি জানান। এ সময় উপস্থিত সহস্রাধিক নারী অধিকার কর্মী মোশাররফ আহমেদ ঠাকুরের বিচারের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান ও প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করেন।

মানববন্ধনে সম্মিলিত নারী প্রয়াসের সভানেত্রী ডক্টর শামীমা তাসনীম বলেন, মোশাররফ আহমেদ ঠাকুর একটি রাজনৈতিক দলের দায়িত্বশীল নেতা এবং একই সাথে তিনি একজন সাংস্কৃতিক কর্মী। কিন্তু তিনি নিকাব পরিহিত নারী সমাজকে নিয়ে যে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করেছেন, তা সরাসরি নারীর স্বাধীনতা ও অধিকারের ওপর আঘাত করার শামিল। মুসলিম নারীদের নিকাবকে ইহুদি বেশ্যা নারীর পোশাক দাবি করে তিনি মুসলিম নারী সমাজকে অপমানিত ও লাঞ্ছিত করেছেন। তার এ ধৃষ্টতাপূর্ণ বক্তব্যের পর যখন তার দল বিএনপি চুপ, তখন নারী সমাজ মনে করে বিএনপি তার বক্তব্যকে সমর্থন করে। তিনি বলেন, হাদি হত্যার বিচার না হওয়া পর্যন্ত যেভাবে আন্দোলন চলছে, একইভাবে নারী সমাজের পোশাক নিয়ে অবমাননাকর বক্তব্য প্রদানকারীদের আইনের আওতায় না আনা পর্যন্ত নারী সমাজের আন্দোলন চলবে।

নারী অধিকার আন্দোলনের সেক্রেটারি নাজমুন নাহার বলেন, মোশাররফ আহমেদ ঠাকুর মুসলিম নারীদের ব্যক্তিগত স্বাধীনতা ও অধিকারে আঘাত করেছেন। তিনি যেভাবে প্রকাশ্যে মুসলিম নারীদের পোশাক নিয়ে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করেছেন, একইভাবে তাকে প্রকাশ্যে নারী সমাজের কাছে ক্ষমা চাইতে হবে।

সম্মিলিত নারী প্রয়াসের সেক্রেটারি ডক্টর ফেরদৌস আরা খানম বলেন, ইসলামে নারীর অধিকার ও মর্যাদা স্পষ্ট করে দিয়েছে কিন্তু মুসলিম দাবি করা মোশাররফ আহমেদ ঠাকুর নারীদের পোশাক নিয়ে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করে নারী সমাজকে অপমানিত করেছেন। তার এই ধৃষ্টতাপূর্ণ বক্তব্য নারী সমাজ ঘৃণার সাথে প্রত্যাখ্যান করছে। নিকাব পরিহিত একজন নারীকে বেশ্যার সাথে তুলনা করে নারী সমাজকে অপমানিত ও লাঞ্ছিত করার দায়ে অবিলম্বে মোশাররফ আহমেদ ঠাকুরকে আইনের আওতায় আনতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।

মানববন্ধনে আরো বক্তৃতা করেন, নারী অধিকার আন্দোলনের সহকারী সম্পাদিকা ডা: তাহেরা বেগম, ড. সাজেদা হুমায়ারা, অ্যাডভোকেট ফাতেমা ইয়াসমিন মহুয়া প্রমুখ।

মানববন্ধনে ‘নারী অধিকার আন্দোলন’-এর পক্ষ থেকে ছয় দফা দাবি উত্থাপিত করা হয়। দাবিগুলো হচ্ছে- ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানার দায়ে প্রচলিত আইনানুযায়ী অবিলম্বে মোশাররফ হোসেন ঠাকুরের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে, ধর্মীয় পোশাকে বাধা বা কটূক্তি বন্ধে রাষ্ট্রকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে’, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিকাব বা পর্দা নিয়ে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বিভ্রান্তি ছড়ানো এবং কুরুচিপূর্ণ ‘ট্রল’ বন্ধ করতে হবে। সাইবার নিরাপত্তা আইনের আওতায় এসব অপরাধীকে চিহ্নিত করে দ্রুত বিচারের আওতায় আনতে হবে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, কর্মস্থল এবং জনসমাগমস্থলে নিকাব পরিহিত নারীরা যাতে কোনো ধরনের বৈষম্য, হেনস্তা বা বুলিংয়ের শিকার না হন, তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নিশ্চিত করতে হবে, মোশাররফ হোসেন ঠাকুরকে তার কুরুচিপূর্ণ ও বিদ্বেষমূলক মন্তব্যের জন্য জনসম্মুখে নিঃশর্ত মাপ চাইতে হবে এবং তার বক্তব্য প্রত্যাহার করতে হবে।