পাটওয়ারীর ওপর হামলার নিন্দা

ঈমানদীপ্ত তরুণরাই সত্য প্রতিষ্ঠার অগ্রসৈনিক : গোলাম পরওয়ার

Printed Edition
রাজধানীতে জামায়াতে ইসলামী আয়োজিত যুব দায়িত্বশীল সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন মিয়া গোলাম পরওয়ার : নয়া দিগন্ত
রাজধানীতে জামায়াতে ইসলামী আয়োজিত যুব দায়িত্বশীল সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন মিয়া গোলাম পরওয়ার : নয়া দিগন্ত

নিজস্ব প্রতিবেদক

ভয়হীন ও ঈমানদীপ্ত তরুণরাই সত্য প্রতিষ্ঠার অগ্রসৈনিক বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি মিয়া গোলাম পরওয়ার। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সা:-এর আহ্বানে তার তরুণ সাহাবারা দ্বীনের জন্য জীবনের ঝুঁকি নিয়ে জিহাদের ময়দানে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন। ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়, ইসলামের প্রতিটি জাগরণে যুবকরাই সবচেয়ে সাহসী ও অগ্রণী ভূমিকার অধিকারী ছিল।

গতকাল শুক্রবার রাজধানীর আল ফালাহ মিলনায়তনে জামায়াতের যুব ও ক্রীড়া বিভাগের কেন্দ্রীয় সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন। সকাল সাড়ে ৮টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত দিনব্যাপী এ সম্মেলনে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আগত যুব প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

প্রধান অতিথির বক্তৃতায় মিয়া গোলাম পরওয়ার আরো বলেন, যুব সমাজের মাঝে দ্বীনের দাওয়াত পৌঁছে দিতে এ ধরনের সম্মেলন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। তিনি হাদিসে বর্ণিত আরশের ছায়াপ্রাপ্ত সাত শ্রেণীর মানুষের প্রসঙ্গ তুলে ধরে যুবকদের আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের আহ্বান জানান। তিনি বলেন, বার্ধক্য আসার আগেই যৌবনকে সঠিক পথে পরিচালিত করতে হবে। আল্লাহর ভয়ে ভীত হয়ে অশ্রু ফেলতে হবে, নিজের যৌবনের হেফাজত করতে হবে এবং তাকওয়া, আত্মশুদ্ধি ও নৈতিকতার মাধ্যমে নিজেদের গড়ে তুলতে হবে।

তিনি বলেন, যুব বিভাগ কোনো নির্দিষ্ট বয়সের ফ্রেমে সীমাবদ্ধ নয়; বরং যার অন্তরে সাহস, উদ্যম ও ত্যাগের মানসিকতা রয়েছে, সেই প্রকৃত যুবক। তারুণ্য মানেই শক্তি, সাহস ও সম্ভাবনা। যুবকরাই পারে একটি সমাজকে ধ্বংসের দিক থেকে ফিরিয়ে এনে নির্মাণ ও উন্নয়নের পথে এগিয়ে নিতে। তাই টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া পর্যন্ত দেশের প্রতিটি তরুণের মাঝে আদর্শ, নৈতিকতা ও মানবিকতার জাগরণ সৃষ্টি করে ঐক্যবদ্ধ শক্তিতে যুব বিভাগকে একটি সুসংগঠিত ও কার্যকর শক্তিতে পরিণত করার আহ্বান জানান তিনি।

সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন যুব ও ক্রীড়া বিভাগের সভাপতি অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের এবং অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন বিভাগের সদস্যসচিব মঞ্জুরুল ইসলাম ভূঁইয়া। বিশেষ অতিথি হিসেবে দারসে কুরআন পেশ করেন দলের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আবদুল হালিম। সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন যুব ও ক্রীড়গা বিভাগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ডা: মো: ফখরুদ্দিন মানিক, কামাল হোসেন এমপি, মুহাম্মদ ইয়াসিন আরাফাত, ড. মোবারক হোসাইন, শেখ মঞ্জুরুল হক রাহাত এমপি এবং ইফসুর সেক্রেটারি জেনারেল ড. মোস্তফা ফয়সাল পারভেজসহ নেতৃবৃন্দ।

সভাপতির বক্তব্যে অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, জামায়াতের কেন্দ্রীয় যুব ও ক্রীড়া বিভাগের কার্যক্রম দিন দিন বিস্তৃত হচ্ছে। যুব সমাজের সর্বোচ্চ শক্তি ও সামর্থ্যকে মানবিক, সামাজিক ও কল্যাণমূলক কাজে সম্পৃক্ত করতে হবে। তিনি জাতীয় বিভিন্ন দিবস ও সামাজিক ইস্যুকে কেন্দ্র করে যুবকদের নিয়ে বহুমুখী কর্মসূচি গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি আরো বলেন, মাদক, সন্ত্রাস ও রাহাজানির বিরুদ্ধে যুবকদের ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। সুসংগঠিত ও আদর্শবান যুবসমাজ গড়ে উঠলে দেশ ও জাতির জন্য যোগ্য নেতৃত্ব সৃষ্টি হবে ইনশাআল্লাহ।

এ দিকে এক বিবৃতিতে জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ধর্ষকের সর্বোচ্চ শাস্তি ‘প্রকাশ্যে মৃত্যুদণ্ড’ প্রদানকে মধ্যযুগীয় বলে মূলত রাসূল সা:-এর বিচারব্যবস্থাকে অবজ্ঞা করেছেন, যা দেশের আপামর মুসলিম জনগোষ্ঠীর ধর্মীয় অনুভূতিতে চরম আঘাত হেনেছে। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সরকারি দলের নীতিনির্ধারকরা প্রায়ই ‘মদিনার সনদের আলোকে রাষ্ট্র পরিচালনা’ এবং ‘শরিয়া-বিরোধী কোনো আইন প্রণয়ন না করার’ মৌখিক অঙ্গীকার ব্যক্ত করে থাকেন। অথচ বাস্তব ক্ষেত্রে ইসলামী শরিয়া আইনকে ‘মধ্যযুগীয়’ বলে হেয়প্রতিপন্ন করার মাধ্যমে তাদের আদর্শিক দেউলিয়াত্ব, সস্তা রাজনৈতিক অবস্থান এবং চরম দ্বিচারিতারই বহিঃপ্রকাশ ঘটল। এই অবমাননাকর মন্তব্য দেশের নাগরিক সমাজকে ক্ষুব্ধ ও উসকে দিয়েছে উল্লেখ করে অবিলম্বে তা প্রত্যাহারের আহ্বান জানান তিনি।

নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর হামলার নিন্দা

অপর এক বিবৃতিতে জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের ঝিনাইদহে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর হামলা ও ডিম নিক্ষেপের ঘটনার তীব্র নিন্দা ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক সমাজে রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকতেই পারে, তাই বলে ভিন্ন মতের কারণে হামলা, সহিংসতা ও অপমানজনক আচরণ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এই ঘটনা রাজনৈতিক সহনশীলতা ও গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির পরিপন্থী। রাজনৈতিক অঙ্গনে সহিংসতা, উসকানি ও প্রতিহিংসার রাজনীতি বন্ধের দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, প্রত্যেক রাজনৈতিক নেতা ও কর্মীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। তিনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে নিরপেক্ষভাবে ঘটনার তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ এবং দেশের রাজনৈতিক পরিবেশ শান্তিপূর্ণ ও সহনশীল রাখার জন্য সবার প্রতি আহ্বান জানান।