ক্রীড়া ডেস্ক
নিউ ইয়র্ক নিউ জার্সি স্টেডিয়ামে হাইভোল্টেজ ম্যাচ। কাতার বিশ্বকাপের রানার্সআপ ফ্রান্সের মুখোমুখি হচ্ছে আফ্রিকার ‘তেরঙ্গার সিংহ’ খ্যাত সেনেগাল। বাংলাদেশ সময় আজ রাত ১টায় শুরু হবে ম্যাচটি। শক্তিশালী আক্রমণভাগ ও চমৎকার স্কোয়াড নিয়ে এই ম্যাচে স্পষ্ট ফেবারিট ফরাসিরা। অপর দিকে ২০০২ সালের অঘটনের পুনরাবৃত্তি ঘটাতে প্রস্তুত রয়েছে সাদিও মানের দেশটি। দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপানে অনুষ্ঠিত ওই বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন ফ্রান্সকে ১-০ গোলে হারিয়ে এক বিশাল অঘটনের জন্ম দিয়েছিল সেনেগাল। ম্যাচের ৩০ মিনিটে পাপা বুবা দিউফের একমাত্র জয়সূচক গোলটি করেছিলেন। স্কোয়াডের গভীরতা এবং সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সের বিচারে ফ্রান্স সবচেয়ে শক্তিশালী দলগুলোর একটি হলেও ২০০২ আসরের পুনরাবৃত্তি ঘটাতে চায় সেনেগাল।
বিশ্বকাপের মূল পর্বে নামার আগে গত ৪ জুন আইভরি কোস্টের কাছে প্রীতিম্যাচে ২-১ গোলে হারের ফলে বিশ্বকাপে ফ্রান্সের ফেবারিটের যোগ্যতা নিয়ে কিছুটা সন্দেহ তৈরি হয়েছিল। কিন্তু চার দিন পরই উত্তর আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে মাইকেল ওলিসের দক্ষতায় ৩-১ গোলের জয়ে ছন্দে ফেরে ব্লুজরা। সব কিছুর পরও ২০২২ বিশ্বকাপের রানার্স-আপ ফ্রান্স দুর্দান্ত ফর্মে রয়েছে। বর্তমান দলটি ভারসাম্যপূর্ণ ও তারকা সমৃদ্ধ। তাদের স্কোয়াডকে অত্যন্ত শক্তিশালী করেছে দলের আক্রমণভাগে বিশ্বসেরা ফরোয়ার্ড কিলিয়ান এমবাপ্প। ভয়ঙ্কর আক্রমণভাগের নেতৃত্বে থাকা এমবাপে ফ্রান্সের হয়ে ৫৬ গোল নিয়ে বিশ্বকাপে খেলতে নামবেন। যা তাকে কাতারে অলিভিয়ের জিরুদের গড়া পুরুষদের সর্বকালের রেকর্ড থেকে মাত্র এক গোল দূরে রেখেছে। তার সাথে আছেন উসমান দেম্বেলে ও মাইকেল ওলিসের মতো বিশ্বমানের আক্রমণভাগের খেলোয়াড়। ২০১৮ সালের চ্যাম্পিয়ন ও ২০২২ সালের ফাইনালিস্ট ফ্রান্স টানা তৃতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ জয়ের জন্য মাঠে নামছে।
চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনালে পিঠের চোট বেড়ে যাওয়ায় আর্সেনালের উইলিয়াম সালিবা পুরো টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে যেতে পারেন, এমন খবরে ফ্রান্স বেশ ধাক্কা খেয়েছিল। কিন্তু এই সেন্টার-ব্যাককে নিয়ে আশঙ্কা দ্রুতই দূর হয় এবং এই ম্যাচের আগে সম্পূর্ণ অনুশীলনে ফিরেছেন সালিবা। উত্তর আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে জয়ের সময় জুলস কুন্দেও পেশিতে টান লাগা সত্ত্বেও খেলার জন্য প্রস্তুত।
অপর দিকে বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে অপরাজিত থেকে টানা তৃতীয়বারের মতো বিশ্বমঞ্চে খেলার অপেক্ষায় রয়েছে সেনেগাল। রাশিয়ায় গ্রুপ পর্ব থেকে বাদ পড়ার পর ২০২২-এর বিশ্বকাপে তারা শেষ ষোলো থেকে বিদায় নেয়। এই দু’টি বিশ্বকাপ অভিযানের মধ্যে ‘লায়ন্স অফ টেরাঙ্গা’ ২০২১ সালের আফ্রিকা কাপ অফ নেশন্সের শিরোপা ঘরে তোলে। আফকনের মহাযজ্ঞে ‘অ্যাটলাস লায়ন্স’দের হারানোর পর পাপে থিয়াওয়ের দল প্রীতিম্যাচে পেরু ও গাম্বিয়াকে হারিয়েছে। তার পরও প্রস্তুতি পর্বের শেষ ম্যাচে সহ-আয়োজক যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ৩-২ গোলে হারের পর সৌদি আরবের সাথে ০-০ গোলে ড্র করে।
‘টেরেঙ্গা লায়ন্স’ খ্যাত সেনেগাল শারীরিক সক্ষমতা ও ক্ষিপ্রতায় অত্যন্ত শক্তিশালী। বিশ্বকাপের আগে সর্বশেষ আন্তর্জাতিক প্রীতিম্যাচে সৌদি আরবের সাথে গোলশূন্য ড্র করলেও পরের ম্যাচে যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে হার। তবে সাদিও মানে জোড়া গোল দলের আত্মবিশ্বাসকে বাড়িয়ে দিয়েছে। এবার খেলার জন্য পুরোপুরি ফিট ও প্রস্তুত মানে। থিয়াওয়ের দলে কিছু ছোটখাটো সমস্যা রয়েছে। আসানে দিয়াও আঘাতজনিত কারণে এই সপ্তাহের শুরুতে অনুশীলনে অনুপস্থিত ছিলেন। শেরিফ এনদিয়ে গত শনিবার অজ্ঞাত কারণে অনুপস্থিত ছিলেন। সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে পুরো সেশনটি শেষ করেননি এভারটনের অভিজ্ঞ খেলোয়াড় ইদ্রিসা গুয়ে।
রেকর্ড অনুযায়ী এই দুই দলের হওয়া আগের দু’টি ম্যাচের প্রতিটিতেই জয়ী হয়েছে সেনেগাল। সুতরাং ফ্রান্সের জন্য এটি যেমন প্রতিশোধের ম্যাচ, ফের তেমনই বড় কোনো অঘটনের জন্ম দেয়ার সুযোগের সামনে দাঁড়িয়ে সেনেগাল।



