নয়া দিগন্ত ডেস্ক
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কায় পাল্টা আঘাতের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে ইরান। যুক্তরাষ্ট্রের গণমাধ্যমগুলোতে ইরানের বেসামরিক বিদ্যুৎ অবকাঠামো ও জ্বালানি স্থাপনা লক্ষ্য করে বড় ধরনের হামলার খবর প্রকাশের পর তেহরান কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছে। ইরানের সামরিক কমান্ড জানিয়েছে, বিদেশী আগ্রাসনের জবাব দিতে তারা একটি সুনির্দিষ্ট ও বিস্তৃত পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। খবর আলজাজিরার।
ইরানের যুদ্ধকালীন সামরিক কমান্ডের প্রধান মেজর জেনারেল আলী আবদুল্লাহ গতকাল শনিবার এক বিবৃতিতে বলেন, ওয়াশিংটন অঞ্চলজুড়ে পূর্ণমাত্রায় যুদ্ধ ছড়িয়ে দেয়ার পাঁয়তারা করছে। তিনি আঞ্চলিক প্রতিবেশী দেশগুলোকে সতর্ক করে বলেন, যারা যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ রক্ষার ঢাল হিসেবে নিজেদের ভূখণ্ড ও সম্পদ ব্যবহার করতে দেবে, তাদেরও যুদ্ধের দাবানলে জ্বলতে হবে। ইরানের সংবাদ সংস্থা তাসনিম জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের যেকোনো ‘উন্মাদনা’র জবাবে তাদের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোয় আঘাত হানার পূর্ণ প্রস্তুতি তাদের রয়েছে।
এর আগে ইসরাইলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরাইল কাটজ জানিয়েছিলেন, তারা ইরানের জ্বালানি স্থাপনাগুলোতে আঘাত হানতে আগ্রহী। তবে বৈশ্বিক জ্বালানি সঙ্কটের আশঙ্কায় ওয়াশিংটন বর্তমানে তাতে সম্মতি দিচ্ছে না। মার্কিন গোয়েন্দা তথ্যের বরাত দিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যম জানিয়েছে, ডোনাল্ড ট্রাম্প এখনো ইরানজুড়ে দুই সপ্তাহব্যাপী বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন ও অবকাঠামো ধ্বংসের চূড়ান্ত অনুমোদন না দিলেও যুদ্ধের পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল হচ্ছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি সংঘাত শুরুর পর থেকেই দুই দেশ ইরানের সামরিক ও বেসামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে দফায় দফায় হামলা চালিয়েছে। এর জবাবে ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ড ও নিয়মিত সেনাবাহিনী সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতারসহ উপসাগরীয় দেশগুলোর জ্বালানি অবকাঠামোয় পাল্টা আঘাত করেছে। গত কয়েক দিনে এই সঙ্ঘাত নতুন মাত্রা পেয়েছে; ওমান উপকূলে একাধিক বাণিজ্যিক জাহাজ হামলার শিকার হয়েছে এবং কুয়েতের আকাশসীমায় ইরানের ড্রোন গুলি করে ভূপাতিত করা হয়েছে। ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব মোহাম্মদ বাকের জোলকদর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, হরমুজ প্রণালীতে সামরিক অবরোধ ও অব্যাহত হামলা বিশ্ব অর্থনীতির জন্য বিপর্যয় ডেকে আনবে। এর মাশুল মার্কিন ভোটার ও তাদের জ্বালানি বাজারকেই দিতে হবে। যদিও তেহরান জানিয়েছে, সরাসরি আলোচনার কোনো অনুরোধ তারা ওয়াশিংটনের কাছে পাঠায়নি, তবে মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে কিছু বার্তা বিনিময় হচ্ছে।
ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের কালিবাফ চলমান সামরিক অর্জনের ওপর ভিত্তি করে একটি টেকসই সমাধানের ইঙ্গিত দিয়েছেন। তবে তেহরানের রাস্তায় এখনো প্রবল প্রতিশোধের আগুন জ্বলছে। ভালিয়াশর স্কোয়ারে টাঙানো বিশাল ব্যানারে রক্তক্ষয়ী প্রতিশোধের আহ্বান জানানো হয়েছে, যেখানে সুপ্রিম লিডার আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুর পর তার সম্মানে কঠোর অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে। বাকের কালিবাফ আরো বলেন, কেউ যদি ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ নিয়ে পরিস্থিতি আরো উত্তেজনাপূর্ণ করে তোলে, তাহলে তেহরান তাৎক্ষণিকভাবে সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে প্রস্তুত। ইরানের ওই কর্মকর্তা দাবি করেন, গত ৪০ দিনের যুদ্ধ এবং পরবর্তী সংঘর্ষে দেশটির সশস্ত্রবাহিনী তাদের সামরিক সক্ষমতা ও প্রতিশোধমূলক অভিযান চালানোর দৃঢ়তা দেখিয়েছে। তাই ভবিষ্যতে প্রয়োজন হলে একই ধরনের পদক্ষেপ নিতেও তারা সক্ষম।
ইরানের জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলাকে ঘিরে ফের যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সম্ভাব্য জোট বাঁধা সম্পর্কে আরো বিস্তারিত তথ্য জানতে ইসরাইলের কর্মকর্তাদের সাথে যোগাযোগ করেছিল সিবিএস নিউজ। এক কর্মকর্তা মার্কিন এই সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ইরানে ফের যুক্তরাষ্ট্রের সাথে যৌথভাবে হামলার শুরু করার ব্যাপারে তারা এখনো কিছু জানেন না এবং যুক্তরাষ্ট্র থেকেও এখন পর্যন্ত এ ব্যাপরে কোনো যোগাযোগ করা হয়নি।
কূটনীতির দরজা বন্ধ নয়
তবে ইরান জোর দিয়ে বলেছে যে, মার্কিন আগ্রাসন মোকাবেলায় কৌশলগত সুবিধা আদায়ের জন্য তারা হরমুজ প্রণালীকে হাতছাড়া করতে চায় না। সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব মোহাম্মদ বাকের যুলকাদর শনিবার এক সংক্ষিপ্ত বার্তায় বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের অব্যাহত সামরিক হামলা ও নৌ অবরোধ হরমুজ প্রণালী এবং অন্যান্য নৌপথের পরিস্থিতিকে কেবল আরো খারাপ করছে। তিনি বলেন, “এর মূল্য বিশ্ব অর্থনীতি, মার্কিন জ্বালানি বাজার ও ভোটারদের দিতে হবে।”



