ক্রীড়া প্রতিবেদক
২০২৫ সালের বিপিএলে ম্যাচ ফিক্সিংয়ের অভিযোগে অন্তত পাঁচজন ক্রিকেটারের জড়িত থাকার প্রমাণ পেয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। গতকাল সংবাদ সম্মেলনে বিসিবির অ্যাডহক কমিটির প্রধান তামিম ইকবাল এই তথ্য নিশ্চিত করেন। বিশেষ করে ১২তম আসরে দুর্নীতি, জুয়া (বেটিং) এবং তদন্তে অসহযোগিতার দায়ে বড় পদপে নিয়েছে বিসিবি। আইসিসির দুর্নীতিবিরোধী নীতিমালা লঙ্ঘনের অভিযোগে একজন ফ্র্যাঞ্চাইজি মালিক, একজন ক্রিকেটার এবং দুইজন টিম ম্যানেজারকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। একই সাথে বিপিএলের একাধিক আসরে দুর্নীতির দায়ে সামিনুর রহমান নামে এক ব্যক্তিকে বহিষ্কার করেছে বোর্ড।
২০২৫ সালের বিপিএল চলাকালেই ফিক্সিংয়ের অভিযোগ ওঠে। বিষয়টি গুরুত্বের সাথে বিসিবির তৎকালীন সভাপতি ফারুক আহমেদ একটি উচ্চমতাসম্পন্ন তদন্ত কমিটি গঠন করেন। দীর্ঘ সময় অনুসন্ধানের পর কমিটি বিসিবির কাছে প্রায় ৯০০ পৃষ্ঠার একটি বিশাল তদন্ত রিপোর্ট জমা দেয়। সেই রিপোর্ট এরপর তুলে দেয়া হয় বিসিবির ইন্টিগ্রিটি ইউনিটের প্রধান অ্যালেক্স মার্শালকে।
এরপর যাচাই-বাছাই করে কয়েকজন ক্রিকেটার এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ফিক্সিংয়ে জড়িত থাকার প্রমাণ পান। যদিও প্রাথমিক পর্যায়ে তদন্তের স্বার্থে কারও নাম প্রকাশ করা হয়নি। অবশেষে গতকাল মিরপুরে সংবাদমাধ্যমের সামনে তামিম জানান, ‘পাঁচজন ক্রিকেটারকে এই অপরাধের জন্য চিহ্নিত করা হয়েছে এবং তাদের জন্য শাস্তি অপো করছে। তদন্তে অপরাধ প্রমাণিত হয়েছে। পাঁচজন বড় ধরনের শাস্তি পেতে যাচ্ছেন।’
সংবাদ সম্মেলনে তামিম জানিয়েছেন, ‘একটি স্বনামধন্য দল ছাড়া বিপিএলে কেউই ব্যাংক গ্যারান্টির নিয়ম মানেনি। এই টুর্নামেন্ট এক সময় লাভ করত সেখানো ১৪-১৬ কোটি টাকা লস হয়েছে। এভাবে করে আর কয় দিন। ইনশাআল্লাহ যদি দায়িত্বে আসি, যদি যথাযথ ফ্র্যাঞ্চাইজি না পাই, তাহলে মনে হয় না বিপিএলটা করা উচিত।’
দুর্নীতি দমন বিভাগের বিভিন্ন ধারা লঙ্ঘনের দায়ে বেশ কয়েকজন খেলোয়াড়, দলীয় কর্মকর্তা, ফ্র্যাঞ্চাইজি মালিক এবং অংশগ্রহণকারীর বিরুদ্ধে অভিযোগ এনেছে বিসিবি। বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ টি-২০ দ্বাদশ আসর সম্পর্কিত দুর্নীতিমূলক আচরণ, প্রাসঙ্গিক যোগাযোগ গোপন ও মুছে ফেলা, জুয়াসংক্রান্ত কার্যকলাপ, দুর্নীতি দমন তদন্তে অসহযোগিতা এবং তদন্তে বাধা দেয়ার অভিযোগে বিসিবি ইন্টিগ্রিটি ইউনিট (বিসিবিআইইউ) কর্তৃক পরিচালিত তদন্তের ভিত্তিতে এই অভিযোগগুলো আনা হয়েছে।
অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন
মো: লাবুলুর রহমান (টিম ম্যানেজার)
ধারা ২.৪.৬ কোডের অধীনে সম্ভাব্য দুর্নীতিমূলক আচরণের বিষয়ে ড্যাকো কর্তৃক পরিচালিত তদন্তে সহযোগিতা করতে ব্যর্থ হওয়া বা অস্বীকার করা, ধারা ২.৪.৭ কোডের অধীনে সম্ভাব্য দুর্নীতিমূলক আচরণের বিষয়ে তদন্তে বাধা দেয়া বা বিলম্ব করা, যার মধ্যে প্রাসঙ্গিক যোগাযোগ ও তথ্য গোপন করা, মুছে ফেলা বা ধ্বংস করাও অন্তর্ভুক্ত।
মো: তৌহিদুল হক তৌহিদ (ফ্র্যাঞ্চাইজির সহমালিক)
ধারা ২.৪.৬ কোডের অধীনে ড্যাকোকে সহযোগিতা করতে ব্যর্থ হওয়া বা অস্বীকার করা, যার মধ্যে কোডের ধারা ৪.৩ এর অধীনে জারি করা দাবি নোটিশ মেনে চলতে ব্যার্থ। ধারা ২.৪.৭Ñ কোডের অধীনে সম্ভাব্য দুর্নীতিমূলক আচরণের বিষয়ে তদন্তে বাধা দেয়া বা বিলম্ব করা, যার মধ্যে প্রাসঙ্গিক যোগাযোগ এবং তথ্য গোপন করা, মুছে ফেলা বা ধ্বংস করা অন্তর্ভুক্ত।
অমিত মজুমদার (ঘরোয়া ক্রিকেটার)
ধারা ২.২.১ ক্রিকেট ম্যাচের ফলাফল, অগ্রগতি, পরিচালনা বা অন্য কোনো দিক সম্পর্কিত বাজি রাখা, গ্রহণ করা, বাজি ধরা বা অন্য কোনোভাবে বাজিতে প্রবেশ করা।
রেজওয়ান কবির সিদ্দিকী (টিম ম্যানেজার)
ধারা ২.২.১ ক্রিকেট ম্যাচের ফলাফল, অগ্রগতি, পরিচালনা বা অন্য কোনো দিক সম্পর্কিত বাজি রাখা, গ্রহণ করা, বাজি ধরা বা অন্য কোনোভাবে বাজিতে প্রবেশ করা।
সামিনুর রহমান (জুয়াড়ি)
নবম, দশম ও একাদশ আসরসহ বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ টি-২০-এর (বিপিএল টি-২০) একাধিক আসর সম্পর্কিত কথিত দুর্নীতিমূলক কর্মকাণ্ডের তদন্তের পর বিসিবি বহিষ্কৃত ব্যক্তি নীতিমালার অধীনে সামিনুর রহমানের বিরুদ্ধে একটি বহিষ্কার আদেশ জারি করেছে। তদন্তে জুয়াসংক্রান্ত কার্যকলাপ, খেলোয়াড় ও এজেন্টদের কাছে দুর্নীতিমূলক প্রস্তাব দেয়া, দেশীয় ও আন্তর্জাতিক জুয়া এবং দুর্নীতি নেটওয়ার্কের সাথে যুক্ত ব্যক্তিদের সাথে যোগাযোগ এবং ক্রিকেট ম্যাচ সম্পর্কিত দুর্নীতিমূলক কর্মকাণ্ডে সহায়তা করার অভিযোগ চিহ্নিত হয়েছে।
অভিযুক্ত অংশগ্রহণকারীদের সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে এবং অভিযোগের নোটিশ প্রাপ্তির তারিখ থেকে ১৪ দিনের মধ্যে তাদের অভিযোগের জবাব দিতে হবে।



