হোয়াইটওয়াশের স্বপ্ন দেখছে বাংলাদেশ

Printed Edition

ক্রীড়া প্রতিবেদক

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ২১ বছর পর ওয়ানডে জয়। এক দিন পর আবারো অসিদের হারিয়ে ২-০ ব্যবধানে সিরিজ জিতে ইতোমধ্যেই ইতিহাস গড়েছে বাংলাদেশ। প্রথমবারের মতো পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের বিপক্ষে দ্বিপক্ষীয় ওয়ানডে সিরিজ নিজেদের করে নেয়ার পর এবার টাইগারদের সামনে নতুন লক্ষ্য-অস্ট্রেলিয়াকে হোয়াইটওয়াশ করা! সেই মিশনে আজ বেলা ১১টায় মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামের মাঠে নামছে মেহেদী হাসান মিরাজ বাহিনী।

মিরপুরে সিরিজের তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডের আগে গতকাল দলের প্রতিনিধি হয়ে সংবাদ সম্মেলনে কথা বলেন সৌম্য সরকার। জানালেন- সিরিজ জয় যেমন বড় অর্জন, তেমনি ৩-০ ব্যবধানে সিরিজ শেষ করতে পারলে সেটি হবে আরও স্মরণীয় সাফল্য। তার কথায়, ‘হোয়াইটওয়াশ অবশ্যই অনেক বড় অর্জন হবে। যখন সিরিজ জিতেছি, এটাই অনেক বড় অর্জন। এটাই অনেক বড়ভাবে উদযাপন করা উচিত ছিল। ৩-০ ব্যবধানে জিততে পারলে আরো বড় অর্জন হবে। আমাদের সবার লক্ষ্যও থাকবে এটি। ইতিবাচক ক্রিকেট খেলব। যারা তিন বিভাগেই ভালো করবে, তারাই জিতবে।’

দীর্ঘদিন পর জাতীয় দলের একাদশে সুযোগ পাওয়া সৌম্য আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে হঠাৎ করে ফিরে আসার চাপের বিষয়টিও তুলে ধরেন। তিনি মনে করেন, এটি কেবল তার জন্য নয়, যেকোনো ক্রিকেটারের ক্ষেত্রেই চ্যালেঞ্জিং। সৌম্যে বলছিলেন, ‘শুধু আমার জন্য না, যেকোনো ক্রিকেটার যখন হুট করে আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলতে যায় চাপ থাকে। শুধু আমার জন্য না। আমরা ক্রিকেটার, খেলতে হবে। পরিস্থিতি অনুযায়ী দলকে ভালো কিছু উপহার দিতে হবে।’

জাতীয় দলে সুযোগ পাওয়া বা বাদ পড়ার বিষয়ে এখন আগের তুলনায় বেশি স্বচ্ছতা রয়েছে বলেও জানান এই বাঁ হাতি ব্যাটার। তিনি বলেন, ‘এখন অনেক ভালো। এখন অনেক ক্লিয়ার থাকে সবাই। জানানো বা বোঝানোর চেষ্টা করে কী কারণে হচ্ছে। দলেরও লক্ষ্য আছে, সেটার মধ্য দিয়েই সবাই যাচ্ছে।’

তবে সংবাদ সম্মেলনে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পেয়েছে বাংলাদেশের পেস আক্রমণ। সাম্প্রতিক সময়ে দেশের ফাস্ট বোলারদের ধারাবাহিক পারফরম্যান্সে মুগ্ধ সৌম্য তাদের বাংলাদেশের অন্যতম শক্তি হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন।

তিনি বলেন, আমার দেখা যেটা, অন্যতম সেরা পেস বোলিং ইউনিট আমাদের যেকোনো কন্ডিশনে, যেকোনো দেশে। যেকোনো দল আমাদের সাথে খেলতে গেলে অবশ্যই চিন্তা করবে। আমাদের যে অ্যাটাক আছে তাদের নিয়ে। বাইরে খেলতে গেলেও চিন্তা করবে ফাস্ট বোলিং বান্ধব পিচ বানাব কি না। খুব ভালো সময় যাচ্ছে পেসারদের, এত ভালো করছে।

পেসারদের দীর্ঘমেয়াদি পরিচর্যার ওপরও গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি। সৌম্য বলেন, উইনিং রেশিওতে আগে স্পিন অনেক সহায়তা করত, এখন যেটা ফাস্ট বোলাররা করছে। তাদের অনেক যতœ করা উচিৎ যেন লম্বা সময় দলকে ভালোর দিকে নিয়ে যেতে পারে এবং তাদের দেখে পরবর্তীরা ভালো করতে পারে, নিজেকে তৈরি করে পাইপলাইনে এসে যারা আছে ওদের নক করতে পারে। তাহলে ভালো প্রতিযোগিতাও হবে, ভবিষ্যতেও ঘাটতি হবে না।

এ দিকে তৃতীয় ওয়ানডের আগে বাংলাদেশ দলে যুক্ত হয়েছেন অলরাউন্ডার শেখ মাহেদী হাসান। দলের সাথে থাকলেও অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজের ম্যাচ খেলার সক্ষমতা নিয়ে এখনো পুরোপুরি নিশ্চিত নয় টিম ম্যানেজমেন্ট। বিসিবি জানিয়েছে, তার শারীরিক অবস্থা ম্যাচের দিন আরো পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর মূল্যায়ন করা হবে।

তৃতীয় ওয়ানডের বাংলাদেশ দল

মেহেদী হাসান মিরাজ (অধিনায়ক), সৌম্য সরকার, সাইফ হাসান, তানজিদ হাসান তামিম, নাজমুল হোসেন শান্ত (সহ-অধিনায়ক), তৌহিদ হৃদয়, লিটন কুমার দাস, মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত, কাজী নুরুল হাসান সোহান, রিশাদ হোসেন, তানভীর ইসলাম, মোস্তাফিজুর রহমান, তাসকিন আহমেদ, শরিফুল ইসলাম, নাহিদ রানা ও শেখ মাহেদী হাসান।