বাংলাদেশের নতুন কোচ টমাস ডুলি

Printed Edition

ক্রীড়া প্রতিবেদক

শেষ পর্যন্ত সব জল্পনা-কল্পনারা অবসান। বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের জন্য নতুন কোচ নিয়োগ করেছে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন। তিনি হলেন টমাস ডুলি। জার্মান বংশোদ্ভূত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্বকাপ দলের এই অধিনায়কের সাথে বাফুফের চুক্তি হবে দুই বছরের। সব আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হলে আগামীকাল জাতীয় দলের ক্যাম্পে ফুটবলারদের কোচিং করাবেন তিনি। ফলে হাভিয়ার কাবরেরার পর জামাল ভূঁইয়া-হামজা চৌধুরীদের নতুন কোচ হলেন এই ডুলি। গতকাল বাফুফে টমাস ডুলির বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। গতকালই বাংলাদেশে আসেন তিনি ৬৫ বছর বয়সী এই কোচ। বিকেলে বাফুফে সভাপতি তাবিথ আওয়াল তাকে সাথে নিয়েই বাংলাদেশ ক্রীড়া লেখক সমিতির কুল বিএসপিএর সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে নিয়ে যান। সেখানে ডুলি জানান, ‘বাংলাদেশকে ফিফা র‌্যাংকিংয়ে ১৬০-এর মধ্যে নিয়ে আসতে চাই। তবে এটা আগামীকালই হবে না। হয়তো এক বছরের মধ্যেই এটা অর্জন করতে পারবো।’

৫ জুন বাংলাদেশ দল ফিফা প্রীতি ম্যাচ খেলবে ইউরোপিয়ান দেশ সানমেরিনোর বিপক্ষে। এরপর সাফ ফুটবল। রয়েছে ফিফা উইন্ডোতে ম্যাচও। এই সবই জাতীয় দলের আগামী সিডিউল। এই ম্যাচ ও আসরগুলোতে বাংলাদেশ দলকে সাফল্য এনে দেয়াই এখন ডুলির প্রধান মিশন। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের হয়ে দু’টি বিশ্বকাপ খেলেছেন তিনি। ১৯৯৪ সালে প্রথম বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ। আর ১৯৯৮ সালের বিশ্বকাপে তিনি ছিলেন দলের অধিনায়ক। খেলোয়াড়ি জীবন শেষ করেই কোচিং পেশায় আসেন। যুক্তরাষ্ট্র জাতীয় দলেই তিনি ২০১১ সাল থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত জার্মান কোচ ইয়ুর্গান ক্লিন্সম্যানের অধীনে সহকারী কোচ ছিলেন।

এরপর হেড কোচ হিসেবে দায়িত্ব পালন। এশিয়ার দেশ ফিলিপাইনের দুই দফা কোচ ছিলেন এ সাবেক ডিফেন্ডার ও ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার। প্রথমে ২০১৪ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত। এরপর ২০২২ সালে। সর্বশেষ দক্ষিণ আমেরিকার দেশ গায়ানার হেড কোচ ছিলেন। কনকাকাফ অঞ্চলে খেলা এই গায়ানার হেড কোচের দায়িত্ব ছেড়েই লাল-সবুজদের দায়িত্ব নিলেন। মাঝে তিনি মালয়েশিয়া এবং ভিয়েতনামের ক্লাব কোচ ছিলেন। অর্থাৎ এশিয়ার ফুটবল সম্পর্কে ভালোভাবেই অবগত তিনি।

দুই দফা ফিলিপাইনের কোচ থাকার সময় বড় সাফল্যটা প্রথম বার। ২০১৮ সালে তিনি ফিলিপাইনকে প্রথমবারের মতো এশিয়ান কাপের চূড়ান্ত পর্বে নিয়ে যান। তা তাজিকিস্তানকে ২-১ গোলে হারিয়ে। এই অর্জনের পরও ফিলিপাইন আর তার সাথে চুক্তি নবায়ন করেনি। ২০২৩ সালেও ফের দায়িত্ব নিয়ে অবশ্য পারেননি আসিয়ান অঞ্চলের এই দেশটিকে এশিয়ান কাপের চূড়ান্ত পর্বে নিতে। তার সময়েই ফিফা র‌্যাংকিংয়ে সর্বোচ্চ স্থানে পৌঁছায় ফিলিপাইন। এরপরই তিনি চলে যান গায়ানায়। তার অধীনে গায়ানা চার ম্যাচের প্রত্যেকটিতেই জিতেছে। ক্যারিবিয়ান দ্বীপ বোনেইরেকে ২-১ গোলে, অ্যান্টিগুয়া ও বারবুডাকে ৪-১ গোলে, ডোমেনিকাকে ২-০ গোলে এবং বেলিজকে ৩-১ গোলে হারিয়েছে। যদিও সেখানে বিবাদে জড়িয়েছিলেন কোচিং স্টাফদের সাথে। তার বিরুদ্ধে গায়ানার স্থানীয় লিগের খেলোয়াড়রা অভিযোগ করে তাদের অবহেলা করার জন্য। এই সময়েই বাফুফের প্রস্তাব পেয়ে ফিফা র‌্যাংকিংয়ে ১৫০-এ থাকা দেশটি ছেড়ে চলে আসেন ১৮১তে থাকা বাংলাদেশ দলের দায়িত্ব নিতে।

দুই বিশ্বকাপেই যুক্তরাষ্ট্রের হয়ে সবগুলো ম্যাচে অংশ নেন তিনি। এর মধ্যে আছে কলম্বিয়ার বিপক্ষে স্মরণীয় সেই ২-১ গোলে জয়ের ম্যাচও। যে ম্যাচে আত্মঘাতী গোল দিয়ে পরে দেশে ফিরে গুলিতে প্রাণ হানান কলম্বিয়ার ডিফেন্ডার আন্দ্রেস এসকোবার। জাতীয় দলের হয়ে ৮১টি ম্যাচ খেলেছেন। গোল করেছেন ৭টি। এ ছাড়া ক্লাব ফুটবলে ৪৩৩ ম্যাচে ৬৪টি গোল করেছেন। ক্লাব ফুটবলে জার্মানির বিখ্যাত বেয়ার লেভারকুজেন, শালকে এবং হামবুর্গে খেলেছেন। অবশ্য সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলেছেন অপর জার্মান ক্লাব কাইজারস্লাউটানের হয়ে।