- প্রধানমন্ত্রীকে বিবেচনার অনুরোধ জানালেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
- ছোটদেরকে কখনো না বলতে নেই : বিরোধীদলীয় নেতা
উপজেলা পরিষদে জাতীয় সংসদ সদস্যদের জন্য আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সংবলিত বিশেষ ‘পরিদর্শন কক্ষ’ প্রস্তুত করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে বলে সংসদকে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।
গতকাল মঙ্গলবার সংসদে প্রতিমন্ত্রী এ তথ্য জানান। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ এ সময় সভাপতিত্ব করেন।
এ সময় বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ অফিসের পাশাপাশি চলাচলের জন্য গাড়ির দাবি জানান। এবার সংসদ সদস্যদের ট্যাক্স ফ্রি গাড়ির না নেয়ার সিদ্ধান্ত থাকলেও প্রস্তাবটি বিবেচনার জন্য প্রধানমন্ত্রীকে অনুরোধ জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ। এ বিষয়ে স্পিকার বিরোধীদলীয় নেতার দৃষ্টি আকর্ষণ করলে তিনি জানান, ছোটদেরকে কখনো না বলতে নাই।
প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, সংসদ সদস্যদের দাবির প্রেক্ষিতে উপজেলায় অফিসের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। স্থানীয় সরকার ও সমবায়মন্ত্রীর পরামর্শক্রমে ইতোমধ্যে এই সংক্রান্ত সরকারি আদেশ বা জিও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের (ইউএনও) বরাবর জারি করা হয়েছে। তিনি আরো জানান, উপজেলা পরিষদে অ্যাটাচ বাথরুম ও প্রয়োজনীয় আসবাবপত্রসহ সংসদ সদস্যদের বসার জন্য একটি কক্ষ রেডি করে দেয়া হবে। বিধিমালা অনুযায়ী সংসদ সদস্যদের নামে সরাসরি কক্ষ বরাদ্দের সুযোগ না থাকায় এই কক্ষটির নাম হবে ‘পরিদর্শন কক্ষ’। এখানে বসে সংসদ সদস্যরা তাদের প্রয়োজনীয় দাফতরিক কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবেন এবং সাধারণ মানুষের সাথে সরাসরি দেখা-সাক্ষাৎ ও সময় ব্যয় করার সুযোগ পাবেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, কোনো সংসদ সদস্যের নির্বাচনী এলাকায় যদি একাধিক উপজেলা থাকে, তবে প্রতিটি উপজেলাতেই তার জন্য এমন অফিস বা পরিদর্শন কক্ষের ব্যবস্থা থাকবে। এই উদ্যোগ বাস্তবায়নে বিশেষ নির্দেশনা দেয়ার জন্য প্রতিমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং সব সংসদ সদস্যদের পক্ষ থেকে অভিনন্দন জানান। আজ থেকেই জিও জারি হওয়ায় সংসদ সদস্যদের নিজ নিজ এলাকার ইউএনওদের সাথে কথা বলে দ্রুততম সময়ের মধ্যে কক্ষটি প্রস্তুত করে নেয়ার জন্য জানান।
এরপর ফ্লোর নেন বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ। তিনি বলেন, অপজিশন থেকে আপনাদের সবাইকে থ্যাংক ইউ জানাচ্ছি, একটা বসার অন্তত জায়গা হয়েছে। আমরা লজ্জায় একটা কথা বলি না। এই পার্লামেন্টের সেকেন্ড মোস্ট জুনিয়র হিসেবে একটা কথা বলছি। ইউএনও মহোদয়ের একটা গাড়ি থাকে, উপজেলার চেয়ারম্যানের একটা গাড়ি থাকে, আমাদের ভাড়ায় গাড়ি চালাতে হয়। আমাদেরকে একটা বসার ব্যবস্থা করে দিয়েছেন। এখন মানুষের কাছে যাওয়ার জন্য যদি একটা গাড়ির ব্যবস্থা করে দেয়া হয়, তাহলে আমাদের জন্য একটু সুবিধা হয়। মানুষের কাছে যেতে পারি।
জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, এমপিদের প্রাপ্তির পরে অপ্রাপ্তির খবরটা বলতে চাচ্ছিলাম না। আমাদের প্রধানমন্ত্রী যেদিন সংসদ নেতা নির্বাচিত হয়েছেন, সেদিন পার্লামেন্টারি পার্টির মিটিংয়ে প্রথমেই দুটো অনুশাসন দিয়েছেন, আমরা এই নতুন পার্লামেন্টে জনপ্রত্যাশা অনুযায়ী আলাদা কোনো সুযোগ সুবিধা নেব না। এ জন্য বিদ্যমান আইনে আমরা একটা সংশোধনী আনব। জাতীয় সংসদের কোন সদস্য ট্যাক্স ফ্রি গাড়ি নিবে না। তবে, সংসদ সদস্যরা শুধু নন, বাংলাদেশের যেসব কর্মকর্তা গাড়ি পান, তেল পান-কেবিনেটে ডিসিশন নিয়েছি যে, এই ক্রাইসিসের সময় ৩০ শতাংশ বরাদ্দ কমিয়ে দিয়েছি। কৃচ্ছ্রতা সাধনের উদ্দেশে সরকারি কর্মকর্তাদের আপাতত লোন সুবিধা কার্টেল করা হয়েছে। আমরা সবই জনবান্ধব ও প্রত্যাশা অনুযায়ী করছি প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সংসদ সদস্যরা নিশ্চয়ই অফিস পেয়ে খুশি হয়েছেন। আবার গাড়ি না পেলে নাখোশ হবেন। তাই সংসদ সদস্যদের যানবাহনের ব্যবস্থা কিভাবে করা যায়, সেটা আলাদাভাবে সরকারি দল ও বিরোধী দল আলাপ আলোচনা করে একটা বিহিত করার জন্য প্রধানমন্ত্রীকে অনুরোধ জানাচ্ছি। এ সময় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অধিবেশনে উপস্থিত ছিলেন।
এ সময় বিরোধীদলীয় নেতা ডা: শফিকুর রহমান বলেন, আমিও ধন্যবাদ দিতে দাঁড়ালাম। কারণ বিরোধী দলেরই একজন সদস্য অফিসের দাবিটা সামনে এনেছিলেন। ট্রেজারি বেঞ্চ থেকে এটাকে বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেয়ায় ধন্যবাদ জানাই।
হাসনাত আবদুল্লাহর গাড়ির দাবি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, একটা কথা আছে যে, ছোটদেরকে কখনো না বলতে নাই। তাদের আবদারে সবসময় হ্যাঁ বলতে হয়। হাসনাত আবদুল্লাহ বলে ফেলেছে। সাথে সাথে ‘না’ না বলতে পারলে আমি বেশি খুশি হতাম। আমি চিন্তা করেছিলাম যে, এত বড় খবরের পরে বিরোধী দল থেকে কিছু মিষ্টি খাওয়ায় দিব। কিন্তু এখানে এসে বাধাগ্রস্ত হয়ে গেছি, পারলাম না। একটা ধাক্কা খাইলাম।
এ সময় বিরোধীদলীয় নেতাকে উদ্দেশ করে স্পিকার বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তার শেষ লাইনে বলেছেন যে, এটা তারা বিবেচনা করে দেখবেন।
চট্টগ্রাম থেকে নির্বাচিত শাহজাহান চৌধুরী বলেন, আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তাদের সংসদীয় দলের বৈঠকে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন যে, উনারা ট্যাক্স ফ্রি গাড়ি নিবেন না। কিন্তু আমাদের পক্ষ থেকে আমাদের আমিরে জামায়াত বিরোধীদলীয় নেতা অনেক আগেই আমাদের পক্ষ থেকে বলেছেন যে, আমরা ট্যাক্স ফ্রি গাড়ি নেব না। সাথে সাথে বলেছেন কোনো জায়গা, কোনো প্লট নেব না। এ কথা জানাতেই পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়ালাম।
মাগরিবের নামাজের বিরতির পর ঢাকা-১২ আসনের সংসদ সদস্য সাইফুল আলম খান মিলন পয়েন্ট অর্ডারে বলেন, আমরা যারা ঢাকার সংসদ সদস্য তাদের কী হবে? সেই তালিকায় বিরোধীদলীয় নেতাও আছেন। এ সময় অধিবেশনে সভাপতিত্ব করা ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল বলেন, এ বিষয়ে তো স্পিকার বলে গেছেন।



