আত্মনির্ভর প্রতিরক্ষা : মধ্যপ্রাচ্যের পথরেখা

কৌশলগত সিদ্ধান্ত। ইরান নিজেকে একটি প্রতিরোধমূলক শক্তি হিসেবে গড়ে তুলেছে, বিশেষ করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন প্রযুক্তিতে। আরব দেশগুলোর অনেকেই মনে করে, শক্তিশালী মিত্র থাকলে নিজেরা এত বড় ঝুঁকি নিয়ে প্রতিরক্ষা শিল্প গড়ার প্রয়োজন নেই। তবে চিত্র একেবারে স্থির নয়। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ কয়েকটি দেশ নিজস্ব প্রতিরক্ষা শিল্প গড়ে তোলার উদ্যোগ নিচ্ছে

মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক যুদ্ধ ও ভূ-রাজনৈতিক বাস্তবতায় স্পষ্ট হয়ে উঠেছে যে, বাইরের শক্তির ওপর একচেটিয়া নির্ভরতার মাধ্যমে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। বিশেষ করে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার বা কুয়েতের মতো পেট্রো-ডলারে বিপুল সমৃদ্ধ আরব রাষ্ট্রগুলোর সামনে এখন নতুন প্রশ্ন, আর কতদিন পরনির্ভরশীলতা?

দীর্ঘদিন ধরে দেশগুলো উন্নত অস্ত্র আমদানি ও বিদেশী সামরিক জোটের ওপর নির্ভর করে নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চেয়েছে। কিন্তু সাম্প্রতিক সঙ্ঘাত, আঞ্চলিক উত্তেজনা ও বহিঃনির্ভরতার সীমাবদ্ধতা তাদের নতুন করে ভাবতে বাধ্য করছে। এখন তাদের পেট্রো-ডলার ব্যয় করে নিজস্ব সামরিক শক্তি উন্নয়নের পথে এগুতে হবে।

এটি হবে স্বাধীন নিরাপত্তা কাঠামো গড়ে তোলার চেষ্টা। যখন কোনো রাষ্ট্র নিজস্ব প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি তৈরি করতে সক্ষম হয়, তখন তার সিদ্ধান্ত গ্রহণের স্বাধীনতা বাড়ে। বাইরের চাপ বা শর্তের কাছে তাকে নতিস্বীকার করতে হয় না। এই দৃষ্টিকোণ থেকে স্থানীয়ভাবে সামরিক প্রযুক্তি উন্নয়ন ও সমরাস্ত্র তৈরি শুধু অস্ত্র উৎপাদন নয়, বরং সার্বভৌমত্বের বাস্তব রূপ।

এখন আধুনিক যুদ্ধের চরিত্র বদলে গেছে; এখন ড্রোন, সাইবার সক্ষমতা এবং নির্ভুল ক্ষেপণাস্ত্রই শক্তির নতুন মানদণ্ড। তাই এসব প্রযুক্তিতে দক্ষতা অর্জন মানে কেবল সামরিক শক্তি বৃদ্ধি নয়; বরং একটি জ্ঞানভিত্তিক অর্থনীতির দিকেও অগ্রসর হওয়া।

এটি হবে এক ধরনের মানসিক রূপান্তরের প্রতিফলন। দীর্ঘদিনের বিলাসনির্ভর অর্থনীতি ও নিরাপত্তানির্ভরতা থেকে বেরিয়ে এসে আত্মনির্ভরতার পথে হাঁটা সহজ নয়। কিন্তু বর্তমান বাস্তবতা আরব বিশ্বকে সেই কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করছে। ‘অন্যের ছায়ায় নিরাপত্তা’ থেকে ‘নিজস্ব সক্ষমতায় নিরাপত্তা’- এই পরিবর্তনই এখন সময়ের দাবি।

তবে এই পথ পুরোপুরি ঝুঁকিমুক্ত নয়। প্রতিরক্ষা শিল্প গড়ে তোলা ব্যয়বহুল, সময়সাপেক্ষ এবং প্রযুক্তিগতভাবে জটিল। পাশাপাশি অস্ত্র প্রতিযোগিতা বাড়ার ঝুঁকিও রয়েছে, যা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করতে পারে। তাই এই উদ্যোগকে কেবল সামরিক দৃষ্টিকোণ থেকে নয়; বরং কূটনৈতিক ভারসাম্য ও আঞ্চলিক সহযোগিতার সঙ্গে সমন্বয় করে এগিয়ে নিতে হবে।

আরব দেশগুলোর জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো বিলাসিতা থেকে বাস্তবতায় ফেরা। যদি তারা নিজেদের নিরাপত্তা, প্রযুক্তি ও কৌশলগত সক্ষমতা গড়ে তুলতে পারে, তবে সেটিই হবে টেকসই ভবিষ্যতের ভিত্তি।

মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক বাস্তবতা এক অনিবার্য সত্য সামনে নিয়ে এসেছে। নিরাপত্তা কখনোই স্থায়ীভাবে ‘আউটসোর্স’ করা যায় না। যদি যুক্তরাষ্ট্র এই অঞ্চল থেকে তার প্রভাব ও সামরিক উপস্থিতি কমিয়ে আনে, তবে আরব বিশ্বকে সরাসরি একটি শক্তিশালী ও আত্মবিশ্বাসী ইরানের মুখোমুখি হতে হবে।

বর্তমানে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বেগের বড় কারণ এর উচ্চমাত্রার ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ সক্ষমতা। প্রায় ৬০ শতাংশ পর্যন্ত সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুদ করেছে ইরান। এটি অস্ত্রমান না হলেও সেই সীমার খুব কাছাকাছি। এই বাস্তবতা নতুন করে মধ্যপ্রাচ্যের কৌশলগত ভারসাম্যের সংজ্ঞা নিরূপণ করছে এবং আরব রাষ্ট্রগুলোর জন্য স্পষ্ট বার্তা বহন করছে যে, ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা পরিবেশ হবে আরো জটিল, অনিশ্চিত।

এই প্রেক্ষাপটে অতীতের কিছু ঘটনা গভীর তাৎপর্যবহ। ২০১৯ সালে সৌদি আরামকোর স্থাপনায় ড্রোন হামলা, যা সৌদি আরবের জ্বালানি অবকাঠামোকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছিল, শুধু একটি সামরিক আঘাতই ছিল না- এটি ছিল নিরাপত্তা ধারণার ওপর একটি মৌলিক প্রশ্নচিহ্ন। একইভাবে ২০২২ সালে আরব আমিরাতে ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীর হামলাও দেখিয়েছে, আঞ্চলিক হুমকি বাস্তব এবং তাৎক্ষণিক।

এসব ঘটনার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, যুক্তরাষ্ট্রের প্রত্যক্ষ ও কঠোর প্রতিক্রিয়ার অভাব। এটি আরব দেশগুলোকে একটি নীরব কিন্তু শক্তিশালী বার্তা দিয়েছে : বহিঃনির্ভর নিরাপত্তা সবসময় নির্ভরযোগ্য নয়। আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে প্রতিটি রাষ্ট্র শেষ পর্যন্ত নিজের স্বার্থকেই অগ্রাধিকার দেয়; ফলে মিত্রতার সীমাবদ্ধতা অনিবার্য। এই বাস্তবতা আরব বিশ্বকে নতুন চিন্তার দিকে ঠেলে দিচ্ছে। অন্যের কৌশল ও সামরিক শক্তির ওপর নির্ভর না করে নিজেদের নিরাপত্তা নিজেদেরই নিশ্চিত করা এখন আর তাত্ত্বিক বিষয় নয়, বাস্তব কৌশলগত বাধ্যবাধকতা।

আঞ্চলিক সমন্বিত প্রতিরক্ষা কাঠামো
এক্ষেত্রে সবচেয়ে কার্যকর পথ হতে পারে একটি যৌথ আঞ্চলিক নিরাপত্তা কাঠামো গড়ে তোলা। সৌদি আরব, আরব আমিরাত, কাতার, কুয়েত, বাহরাইন ও জর্দান- এই দেশগুলো যদি সমন্বিত প্রতিরক্ষাব্যবস্থা, গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় এবং যৌথ সামরিক মহড়ার মাধ্যমে সমন্বিত প্ল্যাটফর্ম তৈরি করতে পারে, তবে তা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার শক্তিশালী ভিত্তি হতে পারে।

তবে এই কাঠামোর সাফল্যের জন্য কিছু মৌলিক নীতি অপরিহার্য। প্রথমত, প্রতিটি রাষ্ট্রের আঞ্চলিক অখণ্ডতা ও সার্বভৌমত্বের প্রতি পারস্পরিক সম্মান থাকতে হবে। দ্বিতীয়ত, বহিঃশক্তির মাধ্যমে সরকার পরিবর্তনের প্রচেষ্টার বিরোধিতা করতে হবে, কারণ এমন হস্তক্ষেপ দীর্ঘমেয়াদে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করে। তৃতীয়ত, আঞ্চলিক দ্বন্দ্বগুলো সংলাপ ও কূটনীতির মাধ্যমে সমাধান করতে হবে, যাতে উত্তেজনা নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়।

আমেরিকার সম্ভাব্য প্রস্থান : নিরাপত্তা ও শক্তির ভারসাম্য
বিশ্বরাজনীতির ইতিহাসে এমন কিছু মুহূর্ত আছে, যা কেবল একটি অঞ্চলের নয়, সমগ্র আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার গতিপথ বদলে দেয়। ভিয়েতনাম যুদ্ধ (১৯৫৫-৭৫) বা আফগানিস্তান যুদ্ধের (২০০১-২১) অভিজ্ঞতা আরব দেশগুলোর সিদ্ধান্ত নিতে সহায়ক হতে পারে। যদি একই ধরনের পরিস্থিতি মধ্যপ্রাচ্যে ঘটে এবং যুক্তরাষ্ট্র তার সামরিক উপস্থিতি গুটিয়ে নেয়, তবে এর প্রভাব হবে দূরপ্রসারী। উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক যুদ্ধে মধ্যপ্রাচ্যের ১৯টি মার্কিন ঘাঁটি যেখানে ৪০ হাজার সৈন্য মজুদ ছিল, ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অনেক ঘাঁটি ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধে আমেরিকা বিরাট ক্ষয়ক্ষতি ও প্রাণহানির মুখোমুখি হয়েছে যা কল্পনাতীত।

উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও সৈন্য মোতায়েন কেবল প্রতিরক্ষা সহযোগিতাই নয়; বরং একটি ‘নিরাপত্তা ছাতা’ হিসেবে কাজ করে এসেছে। এই ছাতা হঠাৎ সরে গেলে প্রথম যে বাস্তবতা সামনে আসবে, তা হলো নিরাপত্তাশূন্যতা। শূন্যতা কখনই দীর্ঘসময় খালি থাকে না। বরং এটি নতুন শক্তির উত্থান ও প্রতিযোগিতার ক্ষেত্র তৈরি করে। এমন পরিস্থিতিতে আঞ্চলিক শক্তিগুলোর মধ্যে প্রভাব বিস্তারের প্রতিযোগিতা তীব্রতর হতে পারে। বিশেষত ইরান, তুরস্ক এবং ইসরাইল নিজেদের কৌশলগত অবস্থান শক্তিশালী করতে আরো সক্রিয় হয়ে উঠতে পারে। এর ফলে মধ্যপ্রাচ্য একটি নতুন শক্তির ভারসাম্যের দিকে অগ্রসর হবে, যেখানে পুরনো জোট ও সমীকরণগুলো ভেঙে গিয়ে নতুন বাস্তবতার জন্ম দেবে।

পরিবর্তিত পরিস্থিতির সবচেয়ে বড় কৌশলগত সুবিধা পেতে পারে ইরান। দেশটি ইতোমধ্যেই ইরাক, সিরিয়া, লেবানন ও ইয়েমেনে প্রভাব বিস্তার করেছে। মার্কিন সামরিক চাপ কমে গেলে এই প্রভাব আরো সুসংহত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এতে আরব রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে নিরাপত্তা উদ্বেগ তীব্র হবে এবং তারা নিজেদের প্রতিরক্ষাব্যবস্থা নতুনভাবে সাজাতে বাধ্য হবে।

তবে এই প্রস্থান মানেই যে আরব দেশগুলো সম্পূর্ণ নিরাপত্তাহীন হয়ে পড়বে, তা নয়। বরং তারা বিকল্প শক্তির দিকে ঝুঁকতে পারে। বৈশ্বিক শক্তির নতুন সমীকরণে চীন ও রাশিয়া গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে। চীন অর্থনৈতিক বিনিয়োগ ও প্রযুক্তি সহায়তার মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করতে পারে, আর রাশিয়া সামরিক সহযোগিতায় নতুন নিরাপত্তা কাঠামো গড়ে তুলতে পারে।

এমন পরিস্থিতিতে আরব দেশগুলোও নিজেদের সামরিক সক্ষমতা বাড়ানোর দিকে মনোযোগ দেবে। বিশেষ করে সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মতো দেশগুলো প্রতিরক্ষা ব্যয় বাড়াবে, উন্নত অস্ত্র সংগ্রহ করবে এবং স্বনির্ভর সামরিক শক্তি গড়ে তোলার চেষ্টা করবে। এমনকি কিছু রাষ্ট্র পারমাণবিক সক্ষমতা অর্জনের দিকেও এগোতে পারে।

মধ্যপ্রাচ্যের অনেক রাষ্ট্রের শাসনব্যবস্থা বহুলাংশে বাইরের নিরাপত্তা সহায়তার ওপর নির্ভরশীল। এই সহায়তা হঠাৎ কমে গেলে বা বন্ধ হয়ে গেলে অভ্যন্তরীণ বিদ্রোহী গোষ্ঠী সক্রিয় হয়ে উঠতে পারে, গৃহযুদ্ধের ঝুঁকি বাড়তে পারে এবং রাষ্ট্রীয় কাঠামো দুর্বল হয়ে পড়তে পারে, বিশেষ করে ইরাকে। এজন্য আরব দেশগুলোকে শাসন কাঠামোয় জনগণের অংশগ্রহণ ও সম্পৃক্ততা বাড়ানোর দিকে মনোযোগ দিতে হবে।

এছাড়া ইসরাইলের নিরাপত্তা ও কৌশলগত অবস্থানেও বড় পরিবর্তন আসতে পারে। যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরে ইসরাইলের প্রধান নিরাপত্তা গ্যারান্টর হিসেবে কাজ করেছে। এই গ্যারান্টি দুর্বল হলে ইসরাইলের আক্রমণাত্মক প্রতিরক্ষা কৌশল দুর্বল হতে পারে।

ইরান পারলে আরবরা কেন পারবে না
সামরিক সক্ষমতা ও নিরাপত্তা কাঠামো যদি ইরান গড়ে তুলতে পারে আরবরা কেন পারবে না। প্রশ্নটা সহজ মনে হলেও বাস্তবতা বেশ জটিল। ‘পারবে না’ এটা ঠিক নয়; বরং বলা ভালো, অনেক আরব দেশ এখন সেই পথটি নেয়নি বা নিতে চায়নি, যেভাবে ইরান এগিয়েছে।

ইরানের বাস্তবতা ছিল ভিন্ন। ১৯৭৯ সালের ইরানি বিপ্লবের পর থেকেই দেশটি দীর্ঘদিন আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার মধ্যে ছিল। অস্ত্র কেনার সুযোগ সীমিত হয়ে যাওয়ায় তারা বাধ্য হয়েই নিজস্ব প্রযুক্তি ও সামরিক শিল্প গড়ে তোলে। এই ‘বাধ্যতামূলক স্বনির্ভরতা’ই তাদের বড় শক্তিতে পরিণত হয়েছে।

অন্যদিকে, অনেক আরব দেশ, বিশেষ করে উপসাগরীয় রাষ্ট্রগুলো দশকের পর দশক ধরে যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা শক্তির নিরাপত্তা ছাতার ওপর নির্ভর করেছে। এরা বিপুল অর্থ ব্যয়ে উন্নত অস্ত্র কেনে; কিন্তু নিজস্ব গবেষণা ও উৎপাদন খাতে কম বিনিয়োগ করে। ফলে তারা মুখ্যত ‘ক্রেতা’, ‘উৎপাদক’ নয়।

দ্বিতীয়ত, রাজনৈতিক কাঠামো ও অগ্রাধিকারও বড় বিষয়। অনেক আরব রাষ্ট্রে শাসনব্যবস্থা এমনভাবে গড়ে উঠেছে যেখানে দ্রুত ফল পাওয়া যায় এমন খাতে বিনিয়োগকে বেশি গুরুত্ব দেয়া হয়। যেমন অবকাঠামো, বিলাসী নগরায়ন বা পরিষেবা অর্থনীতি। দীর্ঘমেয়াদি সামরিক গবেষণা, যা ফল দিতে দশকের পর দশক লেগে যায়, সেখানে ধৈর্য ও ধারাবাহিকতা প্রয়োজন, যা সব রাষ্ট্র সমানভাবে দেখাতে পারেনি।

তৃতীয়ত, মানবসম্পদ ও প্রযুক্তিগত ইকোসিস্টেম। ইরান শিক্ষা, প্রকৌশল ও সামরিক গবেষণায় নিজস্ব দক্ষ জনবল তৈরি করেছে। অনেক আরব দেশে উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার উন্নতি হলেও এখনো বিদেশী বিশেষজ্ঞের ওপর নির্ভরশীল।

চতুর্থত, কৌশলগত সিদ্ধান্ত। ইরান নিজেকে একটি প্রতিরোধমূলক শক্তি হিসেবে গড়ে তুলেছে, বিশেষ করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন প্রযুক্তিতে। আরব দেশগুলোর অনেকেই মনে করে, শক্তিশালী মিত্র থাকলে নিজেরা এত বড় ঝুঁকি নিয়ে প্রতিরক্ষা শিল্প গড়ার প্রয়োজন নেই। তবে চিত্র একেবারে স্থির নয়। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ কয়েকটি দেশ নিজস্ব প্রতিরক্ষা শিল্প গড়ে তোলার উদ্যোগ নিচ্ছে।

সারকথা, আরব দেশগুলো পারবে না এমন নয়; বরং তারা এখনো সেই পর্যায়ে পৌঁছায়নি, যেখানে ইরান পৌঁছে গেছে। রাজনৈতিক সদিচ্ছা থাকলে আরবদের পক্ষেও তা সম্ভব। অন্যের নিরাপত্তা ছাতার নিচে থাকলে সাময়িক স্বস্তি পাওয়া যায় কিন্তু স্থায়ী নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায় না।

লেখক : অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা

[email protected]