যমুনার গ্রাসে বিলীন হচ্ছে সাপধরী ও মুন্নিয়া গ্রাম

Printed Edition
সাপধরী এলাকায় যমুনার ভাঙন : নয়া দিগন্ত
সাপধরী এলাকায় যমুনার ভাঙন : নয়া দিগন্ত

খাদেমুল বাবুল জামালপুর

জামালপুরের ইসলামপুরে মূল যমুনা নদী গতিপথ পরিবর্তন করলেও এর রেখে যাওয়া শাখা নদীগুলো এখন জনপদের জন্য আশীর্বাদের চেয়ে অভিশাপ হয়ে দাঁড়িয়েছে। শুষ্ক মৌসুমে এসব শাখা নদী ধু-ধু বালুচরে পরিণত হলেও বর্ষায় পানি বাড়ার সাথে সাথেই শুরু হয় প্রলয়ঙ্করী ভাঙন। এ বছর বন্যা শুরুর আগেই যমুনার তিনটি শাখা নদীর ভাঙনে দিশেহারা হয়ে পড়েছে ইসলামপুর উপজেলার মডেল ইউনিয়ন সাপধরী ও বেলগাছা ইউনিয়নের ঐতিহ্যবাহী মুন্নিয়ার চরসহ বিস্তীর্ণ জনপদ।

ভয়াবহ নদী ভাঙনের মুখে পড়েছে বিস্তীর্ণ জনপদ ও ফসলি মাঠ। যমুনার পানি বাড়ার সাথে সাথে একে একে নদীতে বিলীন হচ্ছে সাপধরী ইউনিয়নের বসতবাড়ি, রাস্তাঘাট ও শত শত একর ফসলি জমি। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় ভাঙন ঠেকাতে বিভিন্ন পয়েন্টে বালুর বস্তা (জিও ব্যাগ) ফেলা হলেও তীব্র স্রোতে সেগুলো ভেসে গেছে বলে জানান স্থানীয়রা। ফলে কোনো কাজেই আসছে না এসব উদ্যোগ।

অন্যদিকে, ইসলামপুরের ‘সেন্ট মার্টিন’ হিসেবে পরিচিত বেলগাছা ইউনিয়নের ঐতিহ্যবাহী মুন্নিয়ার চরও এখন অস্তিত্ব সঙ্কটে। প্রায় ২০০ বছর আগে জেগে ওঠা এই চরে গড়ে উঠেছিল সমৃদ্ধ জনবসতি, স্কুল-কলেজ, মাদরাসা ও হাটবাজার। শাখা নদীগুলোর নাব্যতা সঙ্কটের কারণে পানি বাড়লেই তীব্র স্রোত তীরের স্থাপনাগুলোকে গ্রাস করছে।

ভাঙন ও জনদুর্ভোগের এই পরিস্থিতির মধ্যেই আশার কথা শুনিয়েছেন জামালপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য সুলতান মাহমুদ বাবু। তিনি জানান, যমুনার মূল ধারা বর্তমানে পশ্চিম দিকে সরে যাওয়ায় ইসলামপুরের মানচিত্র ক্ষতবিক্ষত হয়ে একাধিক শাখা নদী ও চরাঞ্চলের সৃষ্টি হয়েছে। চরাঞ্চলের মানুষের দীর্ঘ দিনের দুর্ভোগ লাঘবে বর্তমান সরকার যমুনার শাখা নদীর ওপর ৮০০ মিটার দৈর্ঘ্যরে দু’টি সেতু (মোট ১৬০০ মিটার), ৪০ কিলোমিটার পাকা রাস্তা এবং বন্যা নিয়ন্ত্রণে ৩৫ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ নির্মাণের প্রস্তাব গ্রহণ করেছে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়, সেতু মন্ত্রণালয় এবং স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় এসব প্রকল্প বাস্তবায়ন করবে।

সাপধরী ইউনিয়নের বাসিন্দা আজিজুর রহমান চৌধুরী জানান, ইসলামপুরের চরাঞ্চলভুক্ত চারটি ইউনিয়ন জামালপুরের শস্যভাণ্ডার হিসেবে পরিচিত। তবে যাতায়াতের সুব্যবস্থা না থাকায় এখানকার লক্ষাধিক মানুষ চরম কষ্টে যাতায়াত করেন। প্রস্তাবিত সেতু ও বেড়িবাঁধ নির্মাণ হলে বগুড়ার সারিয়াকান্দি এবং জামালপুরের ইসলামপুর ও মেলান্দহ উপজেলার মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপিত হবে। এতে কৃষকরা তাদের পণ্যের ন্যায্যমূল্য পাবেন।

সাপধরী ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান জয়নাল আবেদিন বিএসসি বলেন, এই প্রকল্পগুলো বাস্তবায়িত হলে সাপধরী হবে একটি পর্যটন কেন্দ্র, যা সরকারের রাজস্ব আয়ের বড় উৎস হতে পারে।

বেলগাছা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুর রৌফ দানু মুন্নিয়ার চরের ঐতিহ্য রক্ষায় দ্রুত পদক্ষেপ নেয়ার আহ্বান জানান। তিনি মনে করেন, সংসদ সদস্যের গৃহীত উদ্যোগগুলো দ্রুত বাস্তবায়ন হলে ২০০ বছরের পুরনো এই জনপদ রক্ষা পাওয়ার পাশাপাশি চরাঞ্চলবাসীর ভাগ্যের আমূল পরিবর্তন ঘটবে।