বিমসটেক সামুদ্রিক পরিবহন চুক্তি কার্যকর

Printed Edition

কূটনৈতিক প্রতিবেদক

বিমসটেক (বহু-খাতভিত্তিক প্রযুক্তিগত ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার জন্য বঙ্গোপসাগরীয় উদ্যোগ) সামুদ্রিক পরিবহন সহযোগিতা চুক্তি (এএমটিসি) কার্যকর হয়েছে। বাংলাদেশসহ বিমসটেকের সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে আঞ্চলিক সামুদ্রিক সংযোগ এবং সামুদ্রিক সহযোগিতাকে এগিয়ে নেয়ার ক্ষেত্রে চুক্তিটি একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসাবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

বিমসটেক সদস্য রাষ্ট্রগুলো গত বছর ৩ এপ্রিল থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে অনুষ্ঠিত ষষ্ঠ শীর্ষ সম্মেলনে এএমটিসিতে স্বাক্ষর করেছিল। চুক্তিতে বলা হয়েছে, কমপক্ষে চারটি বিমসটেক সদস্য রাষ্ট্রের অনুসমর্থন, অনুমোদন বা গ্রহণের দলিল জমা দেয়ার পর এটি কার্যকর হবে। চতুর্থ সদস্য রাষ্ট্র হিসেবে মিয়ানমার গত ১৩ মে অনুসমর্থনপত্র বিমসটেক সচিবালয়ে জমা দেয়ায় চুক্তিটি কার্যকর হওয়ার শর্ত পূরণ হয়েছে। ভারত, থাইল্যান্ড এবং ভুটান আগেই অনুসমর্থনপত্র জমা দিয়েছিল। চুক্তির বিধান অনুসারে, অনুসমর্থনকারী রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে এএমটিসি কার্যকর হয়েছে। বিমসটেকের অন্য রাষ্ট্রগুলোও অনুসমর্থনের মাধ্যমে চুক্তিটি কার্যকর করতে পারে।

বিমসটেক সচিবালয় জানায়, এএমটিসি কার্যকর হওয়া বঙ্গোপসাগরে সামুদ্রিক সংযোগ বৃদ্ধির ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি। এই চুক্তিটি সামুদ্রিক পরিবহন সহযোগিতা জোরদার করা, পণ্য ও পরিষেবার নির্বিঘœ চলাচল সহজতর করা এবং সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে আইনি ও পরিচালন পদ্ধতির সমন্বয় সাধনের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ কাঠামো। আশা করা হচ্ছে, এটি আঞ্চলিক সামুদ্রিক সংযোগ বৃদ্ধিতে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখবে, পাশাপাশি আন্তঃবিমসটেক বাণিজ্য ও পর্যটন বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে।

বিমসটেক বঙ্গোপসাগরীয় অঞ্চলের সাতটি দেশ নিয়ে গঠিত। দেশগুলো হলো- বাংলাদেশ, ভুটান, ভারত, মিয়ানমার, নেপাল, শ্রীলঙ্কা এবং থাইল্যান্ড। এটি সাতটি বিস্তৃত খাতে আঞ্চলিক সহযোগিতা পরিচালনা করে। খাতগুলো হলো, কৃষি ও খাদ্য নিরাপত্তা, সংযোগ, পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন, জনগণের মধ্যে যোগাযোগ, বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও উদ্ভাবন, নিরাপত্তা এবং বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও উন্নয়ন।