রাশিয়ার অগ্রযাত্রা রুখে দিয়েছে ইউক্রেন

মার্কিন থিংক ট্যাঙ্ক’র রিপোর্ট

Printed Edition

আলজাজিরা

গত কয়েক মাস ধরে রাশিয়ার অগ্রযাত্রার গতি কমিয়ে দেয়ার পর, এপ্রিল মাসে ইউক্রেন যুদ্ধের মোড় ঘুরিয়ে দিতে সক্ষম হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রের অবস্থান বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ইউক্রেন এই সময়ে হারানো অঞ্চলের চেয়ে উদ্ধার করা অঞ্চলের পরিমাণ বাড়িয়েছে।

ওয়াশিংটন-ভিত্তিক থিংক ট্যাংক ‘ইনস্টিটিউট ফর দ্য স্টাডি অব ওয়ার’ (আইএসডব্লিউ) জানিয়েছে, এপ্রিল মাসে রুশ বাহিনী নিট ১১৬ বর্গকিলোমিটার এলাকা হারিয়েছে। এই হিসাবে কেবল উভয় পক্ষের দৃঢ় নিয়ন্ত্রণে থাকা অঞ্চলগুলো ধরা হয়েছে; ‘গ্রে জোন’ বা যেসব এলাকায় দুই পক্ষের সেনারা অবস্থান করছে, তা অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। আইএসডব্লিউ-এর মতে, রুশ বাহিনী অনুপ্রবেশের কৌশল ব্যবহার করে এমন একটি ধারণা তৈরি করতে চেয়েছিল যে, তারা ফ্রন্টলাইনে ক্রমাগত এগিয়ে যাচ্ছে। ক্রেমলিনের এই প্রচারণামূলক যুদ্ধের লক্ষ্য ছিল তাদের সাফল্যকে বাড়িয়ে দেখানো। তবে বাস্তবে ওই অনুপ্রবেশ করা এলাকাগুলো রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণে নেই। সংস্থাটি আরো লক্ষ্য করেছে যে, গত ১৮ মাসে রাশিয়ার অগ্রযাত্রার হার অন্তত দুই-তৃতীয়াংশ কমেছে। ২০২৬ সালের প্রথম চার মাসে রুশ বাহিনী প্রতিদিন গড়ে ২.৯ বর্গকিলোমিটার এলাকা দখল করেছে, যেখানে ২০২৫ সালের একই সময়ে এই গড় ছিল ৯.৭৬ বর্গকিলোমিটার।

রুশ প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিন বর্তমানে পূর্ব ইউক্রেনের দনেৎস্কের অবশিষ্টাংশ দখলের ওপর জোর দিচ্ছেন। ইউক্রেনের সেনাপ্রধান ওলেক্সান্ডার সিরস্কি জানিয়েছেন, এপ্রিলে এই অঞ্চলে রুশ হামলা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। মস্কো দাবি করেছে তারা কস্ত্যন্তিনিভকা শহরটি দখল করে নিচ্ছে; কিন্তু আইএসডব্লিøউ-এর পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে রুশ বাহিনী শহরটির মাত্র ১০.১৪ শতাংশে অনুপ্রবেশ করেছে এবং পূর্ব উপকণ্ঠের মাত্র ০.৭ শতাংশে এগোতে পেরেছে। ইউক্রেন আরো দাবি করেছে, রাশিয়া যে হারে নতুন সেনা নিয়োগ দিচ্ছে তার চেয়ে বেশি সেনা তারা যুদ্ধে হারাচ্ছে। প্রতিরক্ষামন্ত্রী মাইখাইলো ফেদোরভ জানান, এপ্রিলে ৩৫ হাজার ২০৩ জন রুশ সেনা নিহত বা গুরুতর আহত হয়েছেন। গত মার্চে প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানান, ইউক্রেনীয় গোয়েন্দাদের হাতে আসা রুশ নথিপত্র অনুযায়ী হতাহতদের ৬২ শতাংশই মারা গেছেন, যা আগের ধারণার চেয়ে অনেক বেশি।

জেলেনস্কি সম্প্রতি জানান, ইউক্রেনের লক্ষ্য এখন রাশিয়ার পেছনের সারিতে মাঝারি পাল্লার হামলা বাড়ানো, যাতে যুদ্ধক্ষেত্রে পৌঁছানোর আগেই রসদ ধ্বংস করা যায়। ফেদোরভ জানান, এপ্রিলে ২০ কিলোমিটারের বেশি দূরত্বের হামলার সংখ্যা মার্চের তুলনায় দ্বিগুণ ছিল।

রাজস্ব যুদ্ধ : রাশিয়ার রফতানি আয় কমিয়ে দিতে গত সপ্তাহে ইউক্রেন বেশ কয়েকটি শোধনাগার ও তেল স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে। এর মধ্যে কৃষ্ণসাগরের তুয়াপসে শোধনাগার এবং রাশিয়ার এক হাজার কিলোমিটার অভ্যন্তরে পার্ম শোধনাগারে হামলা চালানো হয়। এ ছাড়া সারফেস ড্রোনের সাহায্যে কৃষ্ণসাগরে রুশ তেল ট্যাংকারে এবং বাল্টিক সাগরে একটি তেল টার্মিনালে সফল অভিযান চালানো হয়েছে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, লেনিনগ্রাদ অঞ্চলের একটি শোধনাগারের তিনটি ডিস্টিলেশন টাওয়ার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় এর কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেছে।

এসব হামলার ফলে রাশিয়ার তেলের রাজস্বে বড় ধরনের প্রভাব পড়েছে।

কূটনৈতিক সাফল্য : ইউরোপীয় ইউনিয়নের তহবিল এবং সদস্যপদ নিয়ে হাঙ্গেরি ও স্লোভাকিয়ার সাথে ইউক্রেনের সম্পর্কের টানাপড়েন থাকলেও গত সপ্তাহে তার উন্নতি হয়েছে। স্লোভাকিয়ার প্রধানমন্ত্রী রবার্ট ফিকো ইউক্রেনের ইইউ সদস্যপদের আলোচনায় ভেটো দিলেও পরে তা তুলে নিয়েছেন। অন্য দিকে হাঙ্গেরির সাবেক প্রধানমন্ত্রী ভিক্টর আরবানের জব্দ করা ৮২ মিলিয়ন ডলারের সম্পদ ফেরত দিয়েছে দেশটির বর্তমান সরকার। জেলেনস্কি এই পদক্ষেপকে গঠনমূলক ও ইতিবাচক বলে অভিহিত করেছেন। তবে হাঙ্গেরির জনগণের একটি বড় অংশ এখনো ইউক্রেনের ইইউ সদস্যপদ এবং সামরিক সহায়তার বিপক্ষে অবস্থান করছে।

ইউক্রেনীয় হামলার ভয়ে বিজয় দিবসের জাঁকজমক কমাল রাশিয়া

৯ মে রাশিয়ার ক্যালেন্ডারে একটি অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ দিন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে নাৎসি জার্মানির বিরুদ্ধে সোভিয়েত ইউনিয়নের বিজয় স্মরণে প্রতি বছর মস্কোর রেড স্কয়ারে ক্রেমলিনের সামনে বিশাল সামরিক কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠিত হয়।