বিরল প্রজাতির মাছ

Printed Edition

নয়া দিগন্ত ডেস্ক

মেক্সিকোর কাবো সান লুকাস সৈকতে বেড়াতে গিয়েছিলেন দুই বোন। হঠাৎ তারা দেখতে পান, দূরে কিছু একটা জ্বলজ্বল করছে। সৈকতে পড়ে থাকা ফিতার মতো লম্বা বস্তুটি আদতে কী, তা তারা দূর থেকে বুঝতে পারছিলেন না।

দুই বোন লম্বা বস্তুটির দিকে দৌড়ান। কাছে গিয়ে দেখেন, দুটো মাছের মতো দেখতে প্রাণী কাছাকাছি পড়ে আছে। ফিতার মতো দেখতে মাছ দুটো অনেক লম্বা। তারা আগে কখনো এমন কিছু দেখেননি।

দুই বোনের একজন মনিকা পিটেনজার মাছ দুটোর ছবি তোলেন, ভিডিও করেন। পরে তিনি ‘উই লাভ অ্যানিমেলস’ নামে একটি অ্যাকাউন্টের সাথে যৌথভাবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রামে ভিডিওটি পোস্ট করেন।

পরে জানা যায়, মাছটির নাম ‘ডুমসডে ফিশ’ বা ‘ওয়ার ফিশ’। এই মাছ খুবই বিরল। সাধারণত সমুদ্রের তিন হাজার ফুটের বেশি গভীরে এগুলোর বসবাস। অগভীর পানিতে এ মাছ বেশি সময় বেঁচে থাকতে পারে না।

মনিকা বলেন, ‘এটি জ্বলজ্বল করছিল। এটা সত্যই খুব উজ্জ্ব¡ল ছিল। সেগুলোকে যখন আমরা কাছ থেকে দেখি, বুঝতে পারি, এমন কিছু আমরা আগে কখনো দেখিনি। আমাদের মনে হয়েছিল, এটা সত্যি হতে পারে না।’

দুই বোন মাছ দু’টিকে সমুদ্রে ঠেলে পাঠানোর চেষ্টা করেছিলেন বলেও জানান। মনিকা বলেন, ‘আমার বোন কারো কষ্ট সহ্য করতে পারে না। আশপাশে আরো অনেকে দাঁড়িয়ে সেগুলোকে দেখছিল। আমার বোন তার ফোন, ব্যাগ ও গ্লাস আমার দিকে ছুড়ে দিয়ে সেগুলো ধরতে বলে। আমার মনে হয়, কেউ বুঝতে পারছিল না সেগুলো আসলে কী, এ কারণে তারা দ্বিধায় পড়েছিল। তাদের দোষ দেয়া যায় না।’

ওয়ার ফিশ খুব কমই সমুদ্রপৃষ্ঠের কাছে দেখা যায়। এটির আবাস গভীর সাগরের তলদেশে। এগুলোকে যেহেতু সমুদ্রপৃষ্ঠের কাছে দেখা যায় না, তাই এই মাছ ভেসে উঠলে অনেকে সেটিকে ভূমিকম্প বা সুনামির মতো দুর্যোগের পূর্বাভাস হিসেবে বিশ্বাস করেন। অবশ্য বিজ্ঞানীরা এমন কোনো প্রমাণ এখনো পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন।