আগডুম বাগডুম কবিতা গুলো

Printed Edition
আগডুম বাগডুম কবিতা গুলো
আগডুম বাগডুম কবিতা গুলো

কোরবানি

নজরুল ইসলাম শান্তু

আরবের বুকে মরু প্রান্তরে ছিল না বসত বাড়ি

সেখানে প্রথম ঠিকানা গড়েন মহীয়সী এক নারী

নারীর গর্ভে জন্মালো-এক ফুটফুটে শিশু ছেলে

মায়ের আদরে বুকের চাঁদরে কুদরতি জ্ঞান জ্বেলে।

সেই ইতিহাস আল্লাহর পথে বনি আদমের গায়ে

নহর সৃজন আবে জম-জম, সেই শিশুটির পায়ে

ইবরাহীম ও বিবি হাজেরার ইতিহাস যদি জানি

বিশ্বাস করে সত্যের পথে দিতে হবে কোরবানি।

শোন মুসলিম ইমানের জোরে নিজ পুত্রের গলে

অস্ত্র চালান পিতা ইবরাহিম সচেতন বাহুবলে

পুত্রের গলে হাঁকেন ছুরি বার বার যতবার

আল্লাহর পথে এই ত্যাগ যেন ঈমানের অধিকার।

পুত্রের গলে চোখবেঁধে পিতা চালান আবার ছোরা

আল্লাহর কাছে উৎসর্গিত প্রাণ হলো এক জোড়া

পুত্র অক্ষত পাশে দুম্বা জবাই যে ময়দানে

চোখ খুলে পিতা সেজদায় লুটেন আল্লাহর গুণগানে।

ইবরাহিম-এর অবুঝ বালক হাজেরার আঁখিমনি

বাবার সাথে দেন স্বজোরে আল্লাহু আকবার ধ্বনি

ইবরাহিম ও ইসমাঈলে’র ত্যাগের মহিমায় আজ

কোরবানি হয় যুগে যুগে দেখি জ্বালিয়ে মনের তাজ।


প্রথম কোরবানি

আব্দুস সালাম

বিবি হওয়া প্রথম নারী ছিলেন যে অনন্যা

জন্ম দিতেন একই সাথে পুত্র এবং কন্যা

এক গর্ভের যমজ যারা-সহোদর বোন-ভাই

তাদের মাঝে বিয়ে হারাম বিধান ছিল তাই।

কিন্তু কাবিল মানবে না তা আকলিমাকেই চায়

আদম বলেন- তোমরা যমজ কেমনে মানি হায়!

আল্লাহ শুধু কবুল করেন মুত্তাকিদের কর্ম

তাইতো যারা মুত্তাকী হয় তারাই বোঝেন ধর্ম।

কাবিল জেদি একরোখা সে বিবেক না তার জাগে

বাবা বলেন- প্রভুর জন্য কোরবানি দাও আগে

কোরবানি যার ভস্ম হবে সেই তো হবে ধন্য

হাবিল দিল দুম্বা এবং কাবিল কৃষি পণ্য।

হাবিল তাতে জয়ী হলো দেখতে পেল আগুন

কাবিলেরটা হয়নি কবুল ম্লান হলো তার ফাগুন

ক্ষোভের আগুন বাড়লো দ্বিগুণ হুমকি দেয় অগত্যা

অবশেষে সংগোপনে কাবিল করে হত্যা।

খুব পেরেশান কাবিল তখন- বলতে পারো কেহ

করবো কী, হায়! রাখবো কোথায় ভাইয়ের মৃতদেহ?

রাখলো ঢেকে নিজের ভাইয়ের খুঁড়ল মাটি কাকে

শিক্ষা দিল কাকটি তখন এমনি ভাবে তাকে।


প্রিয় কবি নজরুল

নূর মোহাম্মদ

প্রিয় কবি নজরুল

নেই যার কোনো তুল

আদর্শ পথ থেকে- সরতো না এক চুল

আমাদের নজরুল

কানজোখা ছিল চুল

বাতিলের হুঙ্কারে- করতো না কোনো ভুল

আজকের কবিকুল

তার থেকে পেলো মূল

লেখনীতে মিথ্যারা- হয়ে যাক নির্মূল।


মামা ও জামা

কাজী নাজিম উদ্দিন সুমন

মামা এলেন জামা নিয়ে

মামি গেলেন কই?

রান্না ঘরে কান্না করেন

ঘটনা কি ওই?

কাঁদার কারণ খোঁজতে গিয়ে

খুকি পেল এই

রঙিন জামায় সবি ছিল

গোলাপি রঙ নেই।


বিদ্রোহী নজরুল

আশরাফ মাহতাব

অন্যায়কে অন্যায় হেঁকে

তাঁর মতো কে বলতে পারে?

ন্যায়ের পথে বুক চিতিয়ে

তাঁর মতো কে চলতে পারে?

অসাম্য-মঞ্চে সাম্যের গানটি

তাঁর মতো কে গাইতে পারে?

বৈষম্যহীন একটি সমাজ

তাঁর মতো কে চাইতে পারে?

অত্যাচারীর অলীক মুখোশ

তাঁর মতো কে খুলতে পারে?

অগ্নীবিণায় বিপ্লবী সুর

তাঁর মতো কে তুলতে পারে?

বলতে নিশ্চয়ই পারবে তুমি

চিনতে নিশ্চয়ই হয়নি ভুল?

সে যে আমার সাম্যের কবি

ন্যায়ের কবি বিদ্রোহী নজরুল।


মেঘের ছড়া

সোমা মুৎসুদ্দী

গড়গড়িয়ে মেঘের ছড়া

যাচ্ছে মেঘের দেশে

মেঘের ছড়া পড়ছে মেঘও

মিষ্টি মধুর হেসে।

যাবে খোকা মেঘের দেশে

থাকবে মেঘের বাড়ি

তারই সাথে মেঘের মিছিল

দেখবে সারি, সারি।


গরুর কেচ্ছা

আহমদ আমিন

বলল গরু হাম্বা

মালিক তুমি থামবা?

ধরে গলার দড়ি

টানছ... কী যে করি!

আর কতদূর হাঁটব

একটু জাবর কাটব

ছায়ার নিচে বসি?

আর টেনো না রশি

হাট তো অনেক দূরে

যাচ্ছে মাথা ঘুরে।

মালিক চেঁচায় হে-রে

হাঁট না নেড়েচেড়ে

যাচ্ছে বিকেল পাটে

তুলব তোকে হাটে

থামলে বারেক দামড়া

খিচব পিঠের চামড়া।

গরুর শিংয়ে কালো

শাইনিং চমকালো

মারল গুঁতো সটাং

মালিক তো চিৎপটাং

আহা মালিক গরুর

লজ্জা পেল জরুর।

ঠিক ঘটনা হ, ভাই

হাততালি দেন সবাই

এটাই গরুর কেচ্ছা

সবাইকে শুভেচ্ছা।


পশু কোরবান

জাহাঙ্গীর চৌধুরী

কোরবান হল আল্লার নিকট

শুদ্ধ আত্মা বাছাই

অন্তর তোমার কেমন শুদ্ধ

নিজে করো যাচাই।

হালাল গোশত বণ্টন করে

গরিবদেরকে দাও

আত্মীয় স্বজন সাথে নিয়ে

নিজেরা-ও খাও।


ঈদ

কাজী আবুল কাসেম রতন

এ বাড়িতে ঈদ এসেছে

সবার মুখে হাসি

নতুন জামা পরে সবাই

বাজায় নতুন বাঁশি।

ও বাড়িতে ঈদ আসেনি

সবার চোখে পানি

ঈদের দিনে ভাত জোটেনি

কাপড় একটু খানি।


খোকার স্বপ্ন

সেলিম এমরাজ

খোকা বাবু স্বপ্ন দেখে

হবে নিজে কবিজাত

লিখে লিখে বড় হবে

অনেক বড়, অভিজাত

নতুন নতুন বই বেরুবে

রঙিন রঙিন ছবিজাত।