‘দুই পাতা এক কুঁড়ি’র রানী জেসমিন ৩ বার দেশসেরা পাতা চয়নকারী

Printed Edition
‘দুই পাতা এক কুঁড়ি’র রানী জেসমিন ৩ বার দেশসেরা পাতা চয়নকারী
‘দুই পাতা এক কুঁড়ি’র রানী জেসমিন ৩ বার দেশসেরা পাতা চয়নকারী

মো: ফজলুল করিম ফটিকছড়ি (চট্টগ্রাম)

চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির নেপচুন চা বাগানের শ্রমিক জেসমিন আক্তার টানা তিনবার দেশের সেরা পাতা চয়নকারী নির্বাচিত হয়েছেন। ৫৮ বছর বয়সী এই চা-শ্রমিক সম্প্রতি অনুষ্ঠিত ষষ্ঠ জাতীয় চা দিবসের প্রতিযোগিতায় মাত্র ৩০ মিনিটে ১৩ কেজি চা পাতা তুলে হ্যাটট্রিক গড়েন।

দেশের ১৬৮টি চা বাগানের লক্ষাধিক শ্রমিকের মধ্য থেকে নির্বাচিত হওয়া জেসমিন বর্তমানে চা-বাগানজুড়ে পরিচিতি পেয়েছে ‘দুই পাতা এক কুঁড়ি’র রানী হিসেবে।

কুমিল্লার এক সাধারণ পরিবারে জন্ম নেয়া জেসমিন ৪২ বছর আগে স্বামী আবদুল বারেকের সাথে ফটিকছড়ির নেপচুন চা বাগানে আসেন। তখন তার বয়স ছিল মাত্র ১৬ বছর। সংসারের প্রয়োজনে স্বামীর সাথে চা পাতা তোলার কাজ শুরু করেন। সেই শুরু, এরপর কেটে গেছে চার দশকের বেশি সময়।

এখনো তার হাতে পাতা তোলার গতি ও নিখুঁত দক্ষতা মুগ্ধ করে সবাইকে। তিনি প্রতি ঘণ্টায় প্রায় ৪৯ কেজি চা পাতা তুলতে পারেন। গত এক বছরে তিনি ২৬ হাজার ২১৭ কেজি চা পাতা সংগ্রহ করেছেন বলে উল্লেখ রয়েছে।

জেসমিনের সাফল্য শুধু ব্যক্তিগত নয়, এটি একটি শ্রমজীবী পরিবারের সংগ্রামের গল্পও। তার স্বামী, ছেলে-মেয়েসহ পরিবারের আট সদস্য একই বাগানে কাজ করেন।

জেসমিন বলেন, ‘টানা তিনবার দেশের সেরা হতে পারাটা আনন্দের। তবে সবচেয়ে বড় তৃপ্তি হলো, এই বাগানই আমাদের পুরো পরিবারের জীবন-জীবিকার ভরসা।’

ফটিকছড়ির প্রায় দুই হাজার ৭০০ একরজুড়ে বিস্তৃত নেপচুন চা বাগান দীর্ঘদিন ধরেই নানা অর্জনের জন্য পরিচিত। ২০২৩ সালেও এই বাগানের আরেক শ্রমিক উপলক্ষী ত্রিপুরা দেশসেরা পাতা চয়নকারী নির্বাচিত হয়েছিলেন।

বাগান ব্যবস্থাপক মো: রিয়াজ উদ্দিন বলেন, ‘জেসমিনের এই হ্যাটট্রিক শুধু নেপচুন চা বাগানের নয়, দেশের চা শিল্পের জন্যও গর্বের।’

বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের চায়ের সুনামের পেছনে মানসম্মত পাতা সংগ্রহের বড় ভূমিকা রয়েছে। আর সেই কাজটিই বছরের পর বছর নীরবে করে যাচ্ছেন জেসমিন আক্তারের মতো হাজারো চা-শ্রমিক।