ডা: মুহাম্মাদ মাহতাব হোসাইন মাজেদ
সাহাবিদের যুগে জুমার নামাজ নিয়মিতভাবে আদায় করা হতো এবং এর জন্য বিশেষ গুরুত্ব দেয়া হতো। রাসূলুল্লাহ সা: নিজে জুমার নামাজ প্রতিষ্ঠা করেন এবং সাহাবিদেরও এই নামাজ আদায়ের জন্য উৎসাহিত করেন। জুমার নামাজে জামাতের সাথে আদায় করা আবশ্যক এবং খুতবা প্রদানেরও বিধান রয়েছে।
জুমার নামাজের গুরুত্ব : রাসূলুল্লাহ সা: বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি জুমার দিন গোসল করে আগে মসজিদে আসবে, সে যেন একটি উট কোরবানি করল।’ জুমার নামাজ জামাতের সাথে আদায় করা ফরজ এবং এর জন্য মসজিদে যাওয়াই উত্তম। জুমার নামাজের আগে ও পরে সুন্নত নামাজও আদায় করা হয়। জুমার নামাজ আদায়ের মাধ্যমে মুসলিম উম্মাহর ঐক্য ও সংহতি বৃদ্ধি পায়।
সাহাবিদের জুমার নামাজ আদায়ের নিয়ম : সাহাবিরা জুমার নামাজের জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করতেন এবং যথাসময়ে মসজিদে উপস্থিত হতেন। তারা জুমার নামাজের আগে গোসল করতেন এবং সুগন্ধি ব্যবহার করতেন। জুমার নামাজের জন্য হেঁটে মসজিদে যাওয়া একটি উত্তম কাজ। খুতবা মনোযোগ সহকারে শুনতেন এবং এতে দেয়া উপদেশ অনুযায়ী জীবন যাপন করতেন। জামাতের সাথে নামাজ আদায় করতেন এবং আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের চেষ্টা করতেন। জুমার নামাজ শেষে তারা আল্লাহর কাছে দোয়া করতেন।
সাহাবিদের জুমার নামাজ সংক্রান্ত কিছু গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা : মদিনায় হিজরতের পর রাসূলুল্লাহ সা: বনি সালেম গোত্রের উপত্যকায় প্রথম জুমার নামাজ আদায় করেন। ইসলামের ইতিহাসে এটিই ছিল প্রথম জুমার নামাজ।
ঐতিহাসিক এই নামাজে প্রায় ১০০ জন সাহাবি অংশগ্রহণ করেছিলেন। পরবর্তীতে, সেখানে মসজিদ নির্মিত হয়, যা ‘মসজিদে জুমা’ বা ‘মসজিদে আতিকা’ নামে পরিচিত।
রাসূলুল্লাহ সা: জুমার খুতবা দিতেন, যা মুসলিমদের জন্য পথপ্রদর্শক ছিল।
জুমার নামাজ মুসলিমদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত এবং সাহাবিরা এই নামাজের গুরুত্ব উপলব্ধি করে যথাযথভাবে আদায় করতেন। জুমার নামাজের গুরুত্ব ও ফজিলত সম্পর্কে হাদিসে অনেক বর্ণনা রয়েছে। যেমন :
রাসূলুল্লাহ সা. বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি জুমার দিন গোসল করে এবং সালাতের জন্য আগমন করে, সে যেন একটি উট কোরবানি করল।’
জুমার দিনে কিছু বিশেষ আমল রয়েছে, যেমন : গোসল করা, সবার আগে মসজিদে যাওয়া, সূরা কাহাফ তিলাওয়াত করা, বেশি বেশি দরুদ শরিফ পড়া এবং দোয়া করা। জুমার নামাজের জন্য মসজিদে যাওয়াই উত্তম। তবে, নারীদের জন্য জুমা ফরজ না হলেও, কাছাকাছি নিরাপদ স্থানে নামাজের ব্যবস্থা থাকলে তারা জুমা আদায় করতে পারে।
পরিশেষে বলতে চাই, জুমার নামাজ ইসলামের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ এবং এর অনেক ফজিলত রয়েছে। সাহাবায়ে কেরাম রা. যেভাবে গুরুত্বের সাথে জুমার নামাজ আদায় করতেন, আমাদেরও সেভাবে জুমার নামাজ আদায় করার চেষ্টা করা উচিত।
লেখক : কলাম লেখক ও গবেষক, প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান, জাতীয় রোগী কল্যাণ সোসাইটি



