পুঁজিবাজারের জন্য তাৎক্ষণিক কোনো সুখবর নেই

Printed Edition

অর্থনৈতিক প্রতিবেদক

২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে পুঁজিবাজারের জন্য তাৎক্ষণিক কোনো সুখবর নেই। এই বাজেটে পুঁজিবাজারের উন্নয়নে বেশ কিছু পরিকল্পনা বা উদ্যোগের কথা করা হয়েছে যা দীর্ঘমেয়াদে দেশের পুঁজিবাজারকে টেকসই, স্বচ্ছ ও বিনিয়োগবান্ধব হিসাবে গড়ে তুলবে। তবে নতুন করে কোনো কর সুবিধা বা নীতি প্রণোদনার প্রস্তাব নেই এ বাজেটে। গতকাল বৃহস্পতিবার অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট উপস্থাপন করেন।

মন্দা বাজারে গতি সঞ্চার ও বাজারের টেকসই উন্নয়নের জন্য ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই), চট্টগ্রম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই), ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসেসিয়েশন (ডিবিএ), বাংলাদেশ মার্চেন্ট ব্যাংকার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিএমবিএ) আগামী অর্থবছরের বাজেটে বিবেচনার জন্য বেশ কিছু প্রস্তাব দিয়েছিল জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কাছে। এর কোনোটিরই প্রতিফলন ঘটেনি ঘোষিত বাজেটে।

পুঁজিবাজারের প্রধান স্টেকহোল্ডারদের দেয়া প্রস্তাবগুলোর মধ্যে ছিল, তালিকাভুক্ত কোম্পানির কর হার কমানো; তালিকাভুক্ত ও অতালিকাভুক্ত কোম্পানির কর হারের ব্যবধান সাড়ে ৭ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১০ শতাংশে উন্নীত করা, এসএমই বোর্ডে তালিকাভুক্তিকে উৎসাহিত করতে ৫ বছরের কর অব্যাহতি দেয়া, লভ্যাংশ আয়ের ওপর বিদ্যমান উৎসে করকে চূড়ান্ত করদায় হিসেবে বিবেচনা করা, জিরোকুপন বন্ডের মতো অন্যান্য বন্ডের সুদ বা মুনাফা থেকে অর্জিত আয়ে আগামী ৫ বছর কর অব্যাহতি দেয়া, করমুক্ত লভ্যাংশ আয়ের সীমা বাড়ানো ইত্যাদি।

তবে করছাড় জাতীয় কোনো সুবিধার প্রস্তাব না থাকলেও পুঁজিবাজারের উন্নয়নে বেশ কিছু পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী। এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে বাজারে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা বাড়বে, তালিকাভুক্তিতে উৎসাহিত হবে ভালো কোম্পানিগুলো, লেনদেন সহজ হবে। সবমিলিয়ে বিষয়গুলো বাজারে গতিশীলতা বাড়াতে ভূমিকা রাখবে।

পুঁজিবাজারবান্ধব মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা

প্রস্তাবিত বাজেটকে পুঁজিবাজার তথা বিনিয়োগবান্ধব মনে করছেন পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্টরা। তাদের মতে, প্রস্তাবিত বাজেটে তাৎক্ষণিক কোনো প্রণোদনা না থাকলেও পুঁজিবাজার নিয়ে বেশ কিছু পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করা হয়েছে, যা বাস্তবায়ন করা গেলে যে পুঁজিবাজারের গভীরতা যেমন বৃদ্ধি পাবে তেমনি দেশী-বিদেশী বিনিয়োগকারীদের জন্য বিনিয়োগের একটি আদর্শ গন্তব্য হিসাবে গড়ে উঠবে।

পুঁজিবাজারের উন্নয়নে বাজেটে প্রস্তাবিত উল্লিখিত বিষয়গুলো সম্পর্কে জানতে চাইলে বিশিষ্ট পুঁজিবাজার বিশ্লেষক অধ্যাপক আবু আহমেদ নয়া দিগন্তকে বলেন, অর্থমন্ত্রী দেশের অর্থব্যবস্থাকে নতুন করে সাজাতে বেশ কিছু উদ্যোগের কথা বলেছেন। আর এসব কিছু সম্পন্ন করা গেলে তা পুঁজিবাজারকে দীর্ঘমেয়াদে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার মধ্যে নিয়ে আসবে। তা ছাড়া সরকারি বেসরকারি বড় প্রকল্পগুলোর বাস্তবতায় দীর্ঘমেয়াদে ব্যাংকনির্ভরতা কমিয়ে বন্ড বাজার তথা পুঁজিবাজার নির্ভরতা

বৃদ্ধির প্রস্তাব এক দিকে পুঁজিবাজারকে গতিশীল করবে তেমনি ব্যাংক ব্যবস্থার ঝুঁকি অনেকটাই কমিয়ে দেবে। এবার বাজেটে পুঁজিবাজারের জন্য কোনো বিশেষ প্রণোদনা রাখা হয়নি মর্মে এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, তাৎক্ষণিক প্রণোদনা নয় বরং পুঁজিবাজারকে সংহত ও দীর্ঘমেয়াদে টেকসই করার দিকেই সরকারের মনোযোগ দেয়া উচিত। সস্তা জনপ্রিয়তার চাইতে জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে পুঁজিবাজারকে আস্থায় নিয়ে আসার দিকেই সরকারের গুরুত্ব দেয়া উচিত।

ঢাকা ব্রোকার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ডিবিএ) প্রেসিডেন্ট সাইফুল ইসলাম মনে করেন, বিএনপি সরকার গঠনের আগে থেকেই তাদের নির্বাচনী মেনিফেস্টোতে পুঁজিবাজার নিয়ে তাদের পরিকল্পনার উল্লেখ করেছে। অতীতে পুঁজিবাজারে যেসব সংস্কার হয়েছে তা তাদের সময়ই হয়েছে। এবারো অর্থমন্ত্রী বাজেটে পুঁজিবাজার উন্নয়ন ও সম্প্রসারণে বেশ কিছু বাস্তব পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করেছেন যা বাস্তবায়ন করা গেলে পুঁজিাবাজার যেমন দেশী-বিদেশী বিনিয়োগকারীদের আস্থার জায়গায় রূপ নেবে তেমনি দেশের ম্যাক্রো অর্থনীতি এর মাধ্যমে অনেকদূর এগিয়ে যাবে।