লালমনিরহাট প্রতিনিধি
সীমান্তে একের পর এক হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানিয়ে সরকারের নীরবতার কড়া সমালোচনা করেছেন, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসিরুদ্দীন পাটোয়ারী। তিনি বলেছেন, ভারত থেকে বসে শেখ হাসিনা বাংলাদেশের মানুষকে ডিস্টার্ব করছেন। তাকে দেশে ফিরিয়ে এনে ফাঁসির দড়িতে ঝোলাতে পারলেই সীমান্ত হত্যা বন্ধ হবে। একই সাথে সীমান্ত হত্যা বন্ধ করতে না পারায় তিনি বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করেছেন।
গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উত্তর আমঝোল সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে নিহত খাদেমুলের পরিবারের সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও তার কবর জিয়ারত শেষে নাসিরুদ্দীন পাটোয়ারী সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, ভারতের বর্বর ও খুনি বাহিনী আমাদের খাদেমুলকে শহীদ করেছে। তারা বাংলাদেশের মানুষের ওপর অবর্ণনীয় অত্যাচার ও জুলুম চালাচ্ছে। যুবসমাজকে ধ্বংস করার জন্য পরিকল্পিতভাবে সীমান্তে মাদক ও ইয়াবা সরবরাহ করছে ভারত। কয়েক দিন আগে আমরা কসবায় গিয়েছিলাম। সেখানেও ভারত চারটি হত্যাকাণ্ড সংঘটিত করেছে। অথচ এসব ঘটনায় আমরা সরকারকে সম্পূর্ণ নীরব দেখতে পাচ্ছি।
এ সময় তিনি সীমান্ত রক্ষায় বিজিবিকে আরো শক্তিশালী করার জোর দাবি জানান।
নাসিরুদ্দিন পাটোয়ারী বলেন, নিহত খাদেমুলের বাবা জানিয়েছেন, তার ছেলে মাছ ধরতে গিয়ে বিএসএফের গুলিতে শহীদ হয়েছেন। অথচ বিজিবি যে প্রেস রিলিজ দিয়েছে, তা পুরোটাই বিএসএফের সাজানো বয়ানের কপি।
এনসিপির ওই মুখ্য সমন্বয়ক বলেন, জিয়াউর রহমান যখন ক্ষমতায় এসেছিলেন। তখন শেখ মুজিবের গুন্ডাবাহিনী ভারতে পালিয়ে গিয়ে সেখান থেকে সরকারকে ডিস্টার্ব করেছিল। ঠিক একই কায়দায় শেখ হাসিনা ওপারে বসে বাংলাদেশের মানুষকে ডিস্টার্ব করে যাচ্ছেন। এমনকি পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য সরকারের সাথে যুক্ত হয়ে সীমান্তে পরিকল্পিতভাবে হত্যা চালাচ্ছেন। তিনি বর্তমান সরকারকে আওয়ামী লীগের সাথে কোনো প্রকার লিয়াজোঁ বা আঁতাত না করার বিষয়ে কঠোর হুঁশিয়ারি দেন।
সীমান্তে নিহতদের বিষয়ে সরকারের কাছে ক্ষতিপূরণের দাবি জানিয়ে নাসিরুদ্দিন পাটোয়ারী বলেন, এ যাবৎকালে সীমান্তে যত মানুষ শহীদ হয়েছেন সরকারকে তাদের সবার পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। আমরা যদি সরকার গঠন করতে পারি তবে প্রতিটি সীমান্ত-শহীদ পরিবারের জন্য বাড়ি নির্মাণ করে দেয়া হবে।
পশ্চিমবঙ্গ ও আসাম সীমান্তে অস্থিরতা বিরাজ করছে উল্লেখ করে তিনি সরকারকে অবিলম্বে ‘রেড অ্যালার্ট’ জারির আহ্বান জানান এবং সীমান্তবাসীকে নিজেদের সুরক্ষায় সংঘবদ্ধ হওয়ার পরামর্শ দেন।
এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় নাগরিক পার্টির কেন্দ্রীয় সংগঠক রাসেল আহমেদসহ স্থানীয় ছাত্র-যুব সংগঠনের ও দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।
নিহত খাদেমুল ইসলামের বাবা আমজাদ হোসেন জানান, তার ছেলে সেদিন সীমান্তে মাছ ধরতে গিয়েছিলেন। তিনি বলেন, খাদেমুল সম্পূর্ণ নিরস্ত্র ও স্বাভাবিক অবস্থায় ছিল, এরপরও তাকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। উল্লেখ্য, গত ১৪ মে বিএসএফের গুলিতে খাদেমুল নিহত হন।



