ধনু নদীর ভাঙনে হুমকিতে সিংপুর গ্রাম

Printed Edition
সিংপুর বাজারসংলগ্ন ধনু নদীর তীররক্ষা বাঁধের ব্লক ও জিও ব্যাগ ধসে গেছে : নয়া দিগন্ত
সিংপুর বাজারসংলগ্ন ধনু নদীর তীররক্ষা বাঁধের ব্লক ও জিও ব্যাগ ধসে গেছে : নয়া দিগন্ত

নিকলী (কিশোরগঞ্জ) থেকে সংবাদদাতা

কিশোরগঞ্জের হাওরবেষ্টিত নিকলী উপজেলার সিংপুর গ্রামে ধনু নদীর তীব্র ভাঙন দেখা দিয়েছে। নদীর তীর রক্ষা বাঁধের কাজ শেষ হতে না হতেই ব্লক ও জিও ব্যাগ ধসে প্রায় ৭০-৮০ ফুট এলাকা নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। এর ফলে সিংপুর গ্রাম, স্থানীয় বাজার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো এখন চরম হুমকির মুখে পড়েছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্রে জানা গেছে, ধনু নদীর তীর সংরক্ষণ এবং ওয়েভ প্রটেকশন নির্মাণের আওতায় এক হাজার ২০০ মিটার কাজের জন্য প্রায় ৩০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়। নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ না হওয়ায় এরই মধ্যে দুই দফায় প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে। ভাঙনের খবর পেয়ে গত ১৮ মে কিশোরগঞ্জের জেলা প্রশাসক সোহানা নাসরিন এলাকাটি পরিদর্শন করেন। তার সাথে ছিলেন নিকলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেহেনা মজুমদার মুক্তি ও পাউবোর উপসহকারী প্রকৌশলী আতিকুল গনি।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, নদীর পাড় ঘেঁষে বল্ক দিয়ে রাস্তা নির্মাণের কাজ চলছে, যা ভাঙনের কারণে মাঝপথেই ভেস্তে যেতে বসেছে। এই ভাঙন অব্যাহত থাকলে ওই অঞ্চলের ভাটি বরাটিয়া, মরিচখালী ও সুতারপাড়াসহ বেশ কয়েকটি গ্রামের মানুষের যাতায়াতের একমাত্র রাস্তা, ঘাট ও স্থানীয় বাজার নদীতে তলিয়ে যাবে। নদী তীরে স্থাপিত জিও ব্যাগগুলো নিচের মাটি সরে গিয়ে নদীতে ধসে পড়ছে।

ইসলামপুর গ্রামের বাসিন্দা নবী মিয়া (৬৫) বলেন, ধনু নদীর ভাঙনের আতঙ্কে রাতে আমাদের ঘুম আসে না। বাঁধের কাজে অত্যন্ত নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করা হয়েছে। কিশোরগঞ্জ জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সাজ্জাদ হোসেন জানান, সিংপুর নদীর তীর প্রতিরক্ষার কাজ এখনো চলমান। পাউবোর একটি দল ধসে যাওয়া স্থান পরিদর্শন করেছে। ভাঙন রোধে যেখানে যতটুকু ব্যবস্থা নেয়া দরকার, দ্রুতই তা করা হবে।