নবীনগরে ১৫০ প্রাথমিক স্কুলে নেই প্রধান শিক্ষক

Printed Edition

খান জাহান আলী চৌধুরী নবীনগর

  • ব্যাহত প্রাথমিক শিক্ষা
  • অফিসেও লোকবল ঘাটতি
  • সহকারী শিক্ষকের পদও খালি দেড় শতাধিক

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বৃহৎ উপজেলা নবীনগরে প্রাথমিক শিক্ষা কার্যক্রম মারাত্মক সঙ্কট ও স্থবিরতার মুখে পড়েছে। শিক্ষক ও প্রশাসনিক লোকবলের চরম ঘাটতির কারণে উপজেলার সার্বিক প্রাথমিক শিক্ষাব্যবস্থা ভেঙে পড়ার উপক্রম। ২১৯টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ১৫০টিতেই নেই কোনো প্রধান শিক্ষক। মাত্র ৬৯টি বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক দিয়ে চলছে শিক্ষা কার্যক্রম। সেই সাথে সহকারী শিক্ষকের পদও খালি রয়েছে প্রায় দেড় শতাধিক।

শুধু বিদ্যালয়গুলোতেই নয়, শিক্ষা প্রশাসনের তদারকি ব্যবস্থাতেও তৈরি হয়েছে ভয়াবহ শূন্যতা। প্রশাসনিক জনবল কাঠামো অনুযায়ী নবীনগরে একজন উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ছাড়াও ১১ জন সহকারী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার (এটিইও) পদ রয়েছে। তবে বাস্তবে কর্মরত আছেন মাত্র একজন। ফলে ২১টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত এই বৃহৎ উপজেলার প্রায় ৫৫ হাজার শিক্ষার্থী ও ১,৪০০ শিক্ষকের দাফতরিক দায়িত্ব ও তদারকি একা সামলাতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছেন ওই কর্মকর্তা।

উপজেলা কমপ্লেক্সের প্রবেশমুখে অবস্থিত তিন তলাবিশিষ্ট উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের ভবনটির অবস্থাও শোচনীয়। দূর থেকে দেখলে মনে হয় এটি একটি পরিত্যক্ত ভবন। ভবনটির দু’টি কক্ষ ছাড়া বাকি সবগুলোতেই ঝুলছে তালা। টেবিলে স্তূপ হয়ে আছে ফাইলের পাহাড়। উচ্চমান সহকারীর একমাত্র পদটি খালি, অফিস সহকারী ও কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিকের তিনটি পদের একটিতেও লোক নেই। এমনকি অফিস সহায়কের পদটিও শূন্য।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয়ের চিত্রও অত্যন্ত শোচনীয়। তিন তলা ভবনের অধিকাংশ কক্ষই তালাবদ্ধ থাকে। উচ্চমান সহকারী ও অফিস সহকারীর তিনটি পদই খালি। অফিস সহায়কের পদটিও শূন্য। বর্তমানে মাত্র একজন হিসাব সহকারী একা দাফতরিক নথি সামলাচ্ছেন আবু হানিফ। অতিরিক্ত মানসিক ও শারীরিক চাপে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। আবু হানিফ বলেন, ২০১২ সালে যোগদানের সময় আমরা চারজন ছিলাম। ২০১৮ সালে তিনজন অবসরে যাওয়ার পর দু’জনে মিলে ২০২৪ সাল পর্যন্ত কাজ চালিয়েছি।

আতিয়ারা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবদুল খালেক হতাশা প্রকাশ করে বলেন, ১১ জন সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তার জায়গায় একজন দিয়ে এত বড় উপজেলার তদারকি সম্ভব নয়। সামান্য কাজের জন্য এসে পাঁচ থেকে সাত ঘণ্টা বসে থাকতে হয়, কাজ না হলে ফিরে যেতে হয়। একই সুর গোসাইপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোছাম্মৎ তাসলিমা জাহান, শ্যামগ্রামের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ডালিয়া সুলতানা এবং আশরাফপুরের প্রধান শিক্ষক আরজুদা বেগমের কণ্ঠে। তারা জানান, কর্মকর্তা ও কেরানি না থাকায় অফিসের প্রয়োজনীয় কাজ ঠিকমতো হচ্ছে না।

উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো: মানিক ভূঁইয়া জানান, গত সাত মাস ধরে সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা হিসেবে একা পুরো উপজেলার দায়িত্ব সামলাচ্ছেন তিনি। দাফতরিক স্টাফ না থাকায় কাজ চালানো অসম্ভব হয়ে পড়েছে। তার ওপর ১৫০টি স্কুলে প্রধান শিক্ষক ও সমপরিমাণ সহকারী শিক্ষকের পদ শূন্য থাকায় তদারকি মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।