পেলের রেকর্ড ভাঙলেন মাইকেল ওলিসে

Printed Edition

ক্রীড়া প্রতিবেদক যুক্তরাষ্ট্র থেকে

ফ্রান্স ফুটবল দলে মাতামাতি কিলিয়ান এমবাপ্পেকে নিয়ে। তিনি গোলের পর গোল করছেন, হ্যাটট্রিক করছেন। প্রতিপক্ষ যত শক্তিশালীই হোক না কেন, তাদের রক্ষণভাগ গুঁড়িয়ে গোল উৎসবে মেতে ওঠাটা কাজ রিয়াল মাদ্রিদের এই ফরোয়ার্ডের। এবারের বিশ্বকাপে ১০ গোল এবং তিন বিশ্বকাপ মিলে ২২ গোল করে তিনি একটি রেকর্ড ছুঁয়েছেন এবং ২২ গোলের নতুন রেকর্ড গড়েছেন। এ ছাড়া ফ্রান্স দলের ব্যালন ডি’অর জয়ী উসমান দেম্বেলেকে নিয়েও আলোচনা সবার। এবারের বিশ্বকাপে নরওয়ের বিপক্ষে হ্যাটট্রিকসহ পুরো আসরে করেছেন ৬ গোল। তবে এদের আড়ালেই থেকে গেছেন ফরাসি ফিডফিল্ডার মাইকেল ওলিসে। এবারের বিশ্বকাপে কোনো গোল করা হয়নি তার। তবে এক বিশ্বকাপে ৭টি গোলের জোগানদাতা হয়ে ভেঙে দিয়েছেন ব্রাজিলের পেলের রেকর্ড। পেলে ১৯৭০ সালের বিশ্বকাপে ৬টি গোলে অ্যাসিস্ট করেছিলেন।

বায়ার্ন মিউনিখের এই অ্যাটাকিং মিডফিল্ডারকে বিশ্বের অন্যতম সেরা এই পজিশনের মিডফিল্ডার বলা হয়। এই সিজনে বুন্দেসলিগার সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার জিতেছেন।

ইংল্যান্ডের বিপক্ষে তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে প্রথমার্ধে ০-৪ গোলে পিছিয়ে ছিল ফ্রান্স। বিরতির পর এই মাইকেল ওলিসের দ্ইু পাস থেকে জোড়া গোল করেন এমবাপ্পে। আর এতে তাদের ম্যাচটি জমে ওঠে। পরবর্তীতে ১০ গোলের (৬-৪) এই ম্যাচ বিশ্বকাপের অন্যতম আকর্ষণীয় এবং উপভোগ্য একটি ম্যাচে পরিণত হয়েছে।

আলজেরিয়া, নাইজেরিয়া, ইংল্যান্ড ও ফ্রান্স- এই চার দেশের হয়েই খেলতে পারতেন ওলিসে। তবে শেষ পর্যন্ত বেছে নিয়েছেন ফ্রান্সকেই। তার মা আলজেরিয়ান। বাবা নাইজেরিয়ান। লম্বা সময় ছিলেন ইংল্যান্ডে। এরপর থিতু হয়েছেন ফ্রান্সে। আর এখন খেলছেন জার্মান লিগে।

এবারের বিশ্বকাপে ৭টি গোলের জোগানদাতা তিনি। কোনো একক বিশ্বকাপে কোনো খেলোয়াড় এত বেশি গোলে অ্যাসিস্ট করতে পারেননি। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে এমবাপ্পেকে দিয়ে ২ গোল করিয়ে টপকে গেছেন পেলেকে।

২০২৬ বিশ্বকাপে সেনেগালের বিপক্ষে ১টি, ইরাক ও সুইডেনের বিপক্ষে ২টি করে গোলে অ্যাসিস্ট তার। ৩য় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে তার জোড়া অ্যাসিস্ট ইংল্যান্ডের বিপক্ষে। এতে ৭ অ্যাসিস্টে পেলের ৬০ বছরের (৬ অ্যাসিস্ট) অ্যাসিস্টের রেকর্ড ভঙ্গ করেছেন। বিশ্বকাপে গোল না পেলেও চলতি বছর নর্দার্ন আয়ারলান্ডের বিপক্ষে হ্যাটট্রিক করেছিলেন ফিফা প্রীতি ম্যাচে ওলিসে। জাতীয় দলে তার ১ম গোল ২০২৩ সালে উয়েফা নেশন্স লিগের কোয়ার্টার ফাইনালে ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে।