উজিরপুর (বরিশাল) সংবাদদাতা
ঋতুরাজ বসন্তের শুরুতেই উজিরপুরের গ্রামবাংলার প্রকৃতি রাঙিয়ে ফুটেছে শিমুল ও পলাশ। রক্তিম ফুলে সেজে উঠেছে সড়কের পাশ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রাঙ্গণ ও গ্রামের আঙিনা। তবে প্রকৃতির এই রঙিন আবহের মাঝেও শিমুল গাছের সংখ্যা আগের তুলনায় কমে যাওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করছেন স্থানীয়রা।
গত শুক্রবার সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, প্রধান সড়কের ডাকবাংলা সংলগ্ন এলাকা ও ধামুরা ডিগ্রি কলেজ প্রাঙ্গণে কয়েকটি পলাশ ও শিমুল গাছে লাল ফুল ফুটেছে। এ ছাড়া শিকারপুর, বড়াকোঠা, সাতলা ও শোলক ইউনিয়নের কিছু প্রত্যন্ত গ্রামে গুটি কয়েক শিমুল গাছে ফুল দেখা গেছে।
বসন্তের আগমনী বার্তা হিসেবে শিমুল-পলাশের লাল আভা দীর্ঘদিন ধরেই গ্রামবাংলার পরিচিত দৃশ্য। কোকিলের ডাক, গাছে নতুন পাতা ও মুকুল প্রকৃতিতে প্রাণের সঞ্চার করে। কিন্তু কালের বিবর্তন, অব্যবস্থাপনা ও নতুন করে রোপণের অভাবে শিমুল গাছ ক্রমেই বিলুপ্তির পথে। স্থানীয়দের মতে, শিমুল শুধু সৌন্দর্যের প্রতীক নয়, এক সময় এটি অর্থনৈতিক সম্পদও ছিল। গাছের তুলা সংগ্রহ করে লেপ-তোশক ও বালিশ তৈরি হতো; অনেকেই তা বিক্রি করে আয় করতেন। পাশাপাশি গ্রামীণ চিকিৎসায় শিমুলের বিভিন্ন অংশ ব্যবহার করা হতো। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আলী সুজা বলেন, বসন্ত মানেই শিমুল-পলাশের রঙে সেজে ওঠা প্রকৃতি। তবে শিমুল গাছ সংরক্ষণ ও নতুন করে রোপণে সচেতনতা বাড়ানো জরুরি। পরিবেশ ও ঐতিহ্য রক্ষায় সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন বলেও তিনি উল্লেখ করেন। প্রকৃতির আগুনরাঙা এই বার্তা যতই হৃদয় ছুঁয়ে যাক, শিমুল গাছ রক্ষায় কার্যকর উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম হয়তো শুধু গল্পেই চিনবে ফাগুনের রক্তলাল শিমুল।



