বিচার বিভাগের গুণমান অন্যতম প্রধান অর্থনৈতিক সূচক : সাবেক প্রধান বিচারপতি

Printed Edition

নয়া দিগন্ত ডেস্ক

দেশের বিচার বিভাগের গুণমান অন্যতম প্রধান অর্থনৈতিক সূচক বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদ। গতকাল শনিবার (১ আগস্ট) রাজধানীর ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলে বাংলাদেশ ইন্টারন্যাশনাল আরবিট্রেশন সেন্টার (বিআইএসি) আয়োজিত প্রথম এডিআর (অলটারনেটিভ ডিসপিউট রেজুলিউশন) সামিটে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।

সৈয়দ রেফাত আহমেদ বলেন, দ্রুত, কার্যকর ও স্বচ্ছ বিচারব্যবস্থা শুধু ন্যায়বিচার নিশ্চিত করে না, বরং দেশী-বিদেশী বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ন্যায়বিচার কোনো গন্তব্য নয়; এটি একটি চলমান চর্চা ও জীবনবোধ। একটি কার্যকর বিচারব্যবস্থা গড়ে তুলতে রাষ্ট্রের প্রতিটি অংশীজনের সমন্বিত ভূমিকা প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে আইনসভাকে সময়োপযোগী আইন প্রণয়ন করতে হবে, নির্বাহী বিভাগকে প্রয়োজনীয় সম্পদ ও প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে এবং আইনজীবীদের সংগঠন বা বারকে সময়ের চাহিদার সাথে নিজেদের মানিয়ে নিতে হবে।

এ সময় উন্নয়ন সহযোগীদের কারিগরি দক্ষতা ও যেখানে সম্ভব আর্থিক সহায়তার মাধ্যমে বিচারব্যবস্থার সংস্কারে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান তিনি।

সাবেক এই প্রধান বিচারপতি আরো বলেন, একটি দেশের বিচার বিভাগের গুণমান একটি প্রধান অর্থনৈতিক সূচক। দ্রুত, কার্যকর এবং স্বচ্ছ বিচারব্যবস্থাকে অগ্রাধিকার দেয়ার মাধ্যমে বাণিজ্যিক ন্যায়বিচারের জন্য একটি শক্তিশালী কাঠামো গড়ে তোলা সম্ভব। এতে ব্যবসায়িক পরিবেশের উন্নতি হবে এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থা আরো সুদৃঢ় হবে।

তিনি আরো বলেন, একবিংশ শতাব্দীর বিশ্বায়িত অর্থনীতিতে দেশী ও বিদেশী বিনিয়োগকারীরা কোনো দেশকে শুধু কর-সুবিধা বা অবকাঠামোর ভিত্তিতে মূল্যায়ন করেন না। তারা এমন একটি পরিবেশ খোঁজেন, যেখানে চুক্তির যথাযথ বাস্তবায়ন নিশ্চিত হয়, অধিকার সুরক্ষিত থাকে এবং বিরোধের নিষ্পত্তি কয়েক দশক নয়, বরং কয়েক মাসের মধ্যেই সম্ভব হয়। এমন নিশ্চয়তা থাকলেই একটি দেশের প্রতি বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়ে।

অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ার।

আলোচনা সভায় বক্তারা বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি (এডিআর) ব্যবস্থার প্রসারে গুরুত্বারোপ করেন। অনুষ্ঠানে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী, করপোরেট প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ কর্মকর্তা, শিক্ষাবিদ ও এডিআর সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা অংশ নেন।