হ্যাঁ ভোট দিলে সংবিধান থেকে বিসমিল্লাহ বাদ যাওয়ার দাবি মিথ্যাচার : ধর্ম উপদেষ্টা

Printed Edition
চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে ধর্ম মন্ত্রণালয় আয়োজিত অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন ধর্ম উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন  : নয়া দিগন্ত
চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে ধর্ম মন্ত্রণালয় আয়োজিত অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন ধর্ম উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন : নয়া দিগন্ত

নিজস্ব প্রতিবেদক

ধর্ম উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন বলেছেন, গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিলে সংবিধান থেকে বিসমিল্লাহ বাদ যাবে- এমন বক্তব্য সম্পূর্ণ মিথ্যা ও অপপ্রচার। তিনি বলেন, সংবিধানে বিসমিল্লাহ আছে, থাকবে। এটি বাদ দেয়ার কোনো প্রশ্নই ওঠে না।

গতকাল গণভোটের প্রচার ও ভোটার উদ্বুদ্ধকরণ কার্যক্রমের অংশ হিসেবে ইসলামিক ফাউন্ডেশন আয়োজিত জাতীয় ইমাম সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন। ঢাকার বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত এ সম্মেলনে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আগত ইমাম, খতিব ও আলেম-ওলামারা অংশ নেন।

ধর্ম উপদেষ্টা বলেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি গণভোট ও সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। সাধারণ নির্বাচনে ভোটাররা যাকে খুশি তাকে ভোট দেবেন, আর গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়ে দেশের রাজনৈতিক ও রাষ্ট্রীয় কাঠামোয় পরিবর্তন আনবেন। তিনি আরো বলেন, একটি মহল উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে প্রচার করছে যে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিলে রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম থাকবে না বা সংবিধান থেকে বিসমিল্লাহ বাদ যাবে- এগুলো সম্পূর্ণ মিথ্যা। কেউ যেন এ ধরনের অপপ্রচারে বিভ্রান্ত না হন।

গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, নাগরিকদের মৌলিক অধিকার সুরক্ষা ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য স্বৈরশাসনের অবসান ঘটাতে হবে এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে হবে। মানুষ আর আইয়ামে জাহিলিয়াতে ফিরে যেতে চায় না। এজন্য ১২ ফেব্রুয়ারি গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেয়া প্রয়োজন। তিনি সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে জনমত গড়ে তোলার আহ্বান জানান।

সম্মেলনে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ও গণভোটসংক্রান্ত জনসচেতনতামূলক প্রচারকার্যক্রমের মুখ্য সমন্বয়ক অধ্যাপক আলী রীয়াজ। তিনি বলেন, বাংলাদেশকে বদলাতে হলে সবার নৈতিক দায়িত্ব ‘হ্যাঁ’ ভোট দেয়া। তার ভাষায়, গণভোটের প্রশ্ন একটাই- ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থা বাতিল করে রাষ্ট্রে জনগণের মালিকানা প্রতিষ্ঠা করতে চান কি না। যারা তা চান, তারা ‘হ্যাঁ’ ভোট দেবেন।

অনুষ্ঠানে আরো বক্তৃতা করেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ড. আনিসুজ্জামান চৌধুরী, মনির হায়দার এবং ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মো: কামাল উদ্দিন। ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক আ: ছালাম খানের সভাপতিত্বে সম্মেলনে ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. মুহাম্মদ শামসুল আলম, তা’মীরুল মিল্লাত কামিল মাদরাসার সাবেক অধ্যক্ষ মাওলানা যাইনুল আবেদীন, বাংলাদেশ ইমাম সমিতির সভাপতি হাফেজ মাওলানা লুৎফর রহমান ও জাতীয় ইমাম সমিতির সভাপতি মাওলানা কাজী আবু হোরায়রাসহ বিশিষ্ট আলেম-ওলামারা বক্তব্য দেন।

ড. আনিসুজ্জামান চৌধুরী সম্মেলনে অংশ নেয়া ইমামদেরকে সত্য, ন্যায় ও ইনসাফের সমাজ গড়তে এবং দুর্নীতি দূর করতে হ্যাঁ ভোট দেয়ার জন্য জনগণকে সচেতন করার আহ্বান জানান।

মনির হায়দার বলেন, হ্যাঁ মানে জুলাই গণ-অভ্যুত্থান, না মানে ফ্যাসিবাদ। নিরপেক্ষ থাকার কোনো সুযোগ নেই। নীরবতা মানে ‘না’ এর পক্ষে অবস্থান। তিনি বলেন, এই সংবিধানের মাধ্যমে হাসিনা ফ্যাসিস্ট হয়ে উঠেছে। এই সংবিধানের অধীনে যে কেউ ফেরাউন হয়ে উঠতে পারে। সংবিধান সংস্কারের জন্য ৩০টি রাজনৈতিক দল দীর্ঘ ৯ মাস আলাপ আলোচনার মাধ্যমে জুলাই জাতীয় সনদ তৈরি করেছে। তিনি বলেন, হ্যাঁ ভোটে একাত্তর মুছে যাবে এটা ডাহা মিথ্যা।

ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মো: কামাল উদ্দিন বলেন, বিগত ফ্যাসিস্ট আমলে এদেশে আলেম-ওলামা সবচেয়ে বেশি নির্যাতিত হয়েছে। তিনি গণভোটে হ্যাঁ এর পক্ষে ভূমিকা রাখার জন্য আলেম-ওলামার প্রতি আহ্বান জানান।