চলতি অর্থবছরের ছয় মাসে বাজেট বাস্তবায়ন হার ৩২.৬৮%

বাজেট বাস্তবায়নের হার কিছুটা বেড়েছে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের চূড়ান্ত হিসেবে চলতি ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরের ছয় মাসে (জুলাই-ডিসেম্বর) বাজেট বাস্তবায়নের হার ৩২ দশমিক ৬৮ শতাংশ। গত ২০২৪-২০২৫ অর্থবছরে একই সময়ে যা ছিল ২৮ দশমিক ৩৩ শতাংশ। এক বছরের ব্যবধানে বাজেট বাস্তবায়ন হার বেড়েছে চার দশমিক ৩৩ শতাংশ। তবে একই সময়ে এডিপি বাস্তবায়নের হার কমে গেছে। চলতি অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) বাস্তবায়ন হার ছিল ১৩ দশমিক ৫৬ শতাংশ। সেখানে গত বছরে একই সময়ে ছিল ১৭ শতাংশ ৮ শতাংশ।

বিশেষ সংবাদদাতা
Printed Edition

বাজেট বাস্তবায়নের হার কিছুটা বেড়েছে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের চূড়ান্ত হিসেবে চলতি ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরের ছয় মাসে (জুলাই-ডিসেম্বর) বাজেট বাস্তবায়নের হার ৩২ দশমিক ৬৮ শতাংশ। গত ২০২৪-২০২৫ অর্থবছরে একই সময়ে যা ছিল ২৮ দশমিক ৩৩ শতাংশ। এক বছরের ব্যবধানে বাজেট বাস্তবায়ন হার বেড়েছে চার দশমিক ৩৩ শতাংশ। তবে একই সময়ে এডিপি বাস্তবায়নের হার কমে গেছে। চলতি অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) বাস্তবায়ন হার ছিল ১৩ দশমিক ৫৬ শতাংশ। সেখানে গত বছরে একই সময়ে ছিল ১৭ শতাংশ ৮ শতাংশ।

অর্থ বিভাগের প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের জাতীয় বাজেটের আকার নির্ধারিত রয়েছে সাত লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকা। ছয় মাসে ব্যয় হয়েছে দুই লাখ ৫৮ হাজার ১৮৬ কোটি টাকা। গত অর্থবছরের একই সময়ে ব্যয় হয়েছিল দুই লাখ ২৬ হাজার ১৮৯ কোটি টাকা। সে অর্থবছরে সংশোধিত বাজেটের আকার ছিল সাত লাখ ৪৩ হাজার ৯৯৯ কোটি টাকা।

অর্থ বিভাগের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, চলতি অর্থবছরে ছয় মাসে মোট রাজস্ব আয়ের প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১৩.৬ শতাংশ, যা বিগত অর্থবছরে একই সময়ে ছিল ৪.৭ শতাংশ।

একই সময়ে চলতি অর্থবছরের সরকারি ব্যয়ে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১৪.১ শতাংশ। গত অর্থবছরে একই সময়ে প্রবৃদ্ধি ছিল ১৬ দশমিক ৩ শতাংশ।

রাজস্ব আহরণ চিত্র

চলতি অর্থবছরের বাজেটে রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে পাঁচ লাখ ৬৪ হাজার কোটি টাকা (জিডিপির ৯ শতাংশ)। জুলাই-ডিসেম্বর শেষে সর্বমোট রাজস্ব আহরণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে দুই লাখ ২২ হাজার কোটি টাকা, যা লক্ষ্যমাত্রার ৩৯ শতাংশ। দ্বিতীয় প্রান্তিকে রাজস্ব আহরণের পরিমাণ বিগত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ১৩ দশমিক ৬ শতাংশ বেশি।

বাজেট ঘাটতি পরিস্থিতি

চলতি অর্থবছরের বাজেটে ঘাটতি প্রাক্কলন করা হয়েছে দুই লাখ ২৬ হাজার কোটি টাকা। ছয় মাসে ঘাটতি হয়েছে (অনুদান ব্যতীত) ৩৬ হাজার কোটি টাকা। গত অর্থবছরে একই সময়ে যা ছিল ৩০ হাজার ৪১৮ কোটি টাকা।

ঋণ পরিশোধ

চলতি অর্থবছরে ছয় মাসে অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে ঋণ পরিশোধের পরিমাণ ৪০ হাজার ৩৩৬ কোটি টাকা এবং বৈদেশিক উৎস থেকে ঋণ পরিশোধের পরিমাণ নিট (অনুদানসহ) পাঁচ হাজার ৭৩৪ কোটি টাকা।

বৈদেশিক সহায়তা পরিস্থিতি

অর্থ বিভাগের পরিসংখ্যানে দেখানো হয়েছে, চলতি অর্থবছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে (জুলাই-ডিসেম্বর) নিট বৈদেশিক অর্থায়ন গত বছরের একই সময়ের তুলনায় কমেছে। যেমন ২০২৪-২০২৫ অর্থবছরে নিট বৈদেশিক অর্থায়ন ছিল ১৩ হাজার ৮১৪ কোটি টাকা। সেখানে এবার একই সময়ে তা নেগেটিভ পাঁচ হাজার ৭৩৪ কোটি টাকা। গত অর্থবছরে অনুদান পাওয়া গিয়েছিল ৯৮৭ কোটি টাকা। সেখানে এবার একই সময়ে পাওয়া গেছে এক হাজার ২৬২ কোটি টাকা।

চলতি অর্থবছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ১৬ হাজার ৫৪৯ কোটি টাকা কম বৈদেশিক ঋণ গ্রহণ করা হয়েছে।

আমদানি-রফতানি-প্রবাস আয়

চলতি অর্থবছরের আলোচ্য সময়ে রফতানি ও প্রবাস আয়ের প্রবৃদ্ধি কমে গেছে; কিন্তু বেড়েছে আমদানি প্রবৃদ্ধি। যেমন গত অর্থবছরে দ্বিতীয় প্রান্তিকে রফতানি প্রবৃদ্ধি ছিল যেখানে ১১ শতাংশ, সেখানে এবার তা হয়েছে মাাইনাস শূন্য দশমিক ৯০ শতাংশ। একই সময়ে আমদানি প্রবৃদ্ধি ছিল গতবার ৩ দশমিক ৫৩ শতাশং এবং এবার ৫ শতাংশ। প্রবাস আয়ে গতবার প্রবৃদ্ধি ছিল ২৭ দশমিক ৫৬ শতাংশ। এবার তা কমে হয়েছে ১৮ শতাংশ।