কূটনৈতিক প্রতিবেদক
কক্সবাজার ও ভাসানচরের শরণার্থী শিবিরে থাকা রোহিঙ্গা এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জরুরি চাহিদা মেটাতে ৭১ কোটি ডলারের আন্তর্জাতিক সহায়তা আহ্বান করেছে জাতিসঙ্ঘ। বাংলাদেশ সরকারের সাথে নিবিড় সমন্বয়ের মাধ্যমে জাতিসঙ্ঘ এবং এর অংশীদাররা নতুন করে এই আন্তর্জাতিক সহায়তার আহ্বান জানিয়েছে। বিশ্বব্যাপী ক্রমবর্ধমান অস্থিতিশীলতা এবং মানবিক চাপের মধ্যে এই আহ্বান জানানো হলো।
২০২৬ সালের যৌথ সাড়াদান পরিকল্পনার (জেআরপি) আপডেট ঢাকায় অবস্থিত জাতিসঙ্ঘ ভবনে গতকাল উপস্থাপন করা হয়েছে। এটি উপস্থাপন করেন জাতিসঙ্ঘ শরণার্থী সংস্থা ইউএনএইচসিআরের কেলি ক্লেমেন্টস, ডব্লিউএফপির রানিয়া দাগাশ-কামারা, ইউএন উইমেনের নিয়ারাদজাই গুম্বনজভান্দা, বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আন্তঃসরকারি সংস্থা বিষয়ক সচিব এম ফরহাদুল ইসলাম এবং জাতিসঙ্ঘে অন্তর্বর্তীকালীন আবাসিক সমন্বয়কারী ক্যারল ফ্লোর। ৫২টি বাংলাদেশী সংস্থাসহ ৯৮টি মানবিক অংশীদার এই আবেদনে সমর্থন জানিয়েছে।
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, মিয়ানমারে পরিকল্পিত সহিংসতা ও নিপীড়নের শিকার হয়ে পালিয়ে আসার এক দশক পর বর্তমানে প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থী বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। রাখাইনে চলমান সঙ্ঘাত আরো বেশি রোহিঙ্গাকে পালাতে বাধ্য করায় তাদের চাহিদাও ক্রমাগত বাড়ছে। ২০২৪ সালের শুরু থেকে নতুন করে প্রায় এক লাখ ৫০ হাজার রোহিঙ্গা বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। এর ফলে সীমিত মানবিক সম্পদের ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়ার পাশাপাশি জনাকীর্ণ ক্যাম্পগুলোতেও চাহিদা তীব্রতর হয়েছে।
রাখাইন রাজ্যে সঙ্ঘাত অব্যাহত থাকায় রোহিঙ্গাদের শিগগিরই মিয়ানমারে ফেরার আশা মøান হয়ে যাচ্ছে। রাখাইন পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় আরো বেশি শরণার্থী মরিয়া হয়ে নানা পথ বেছে নিচ্ছেন। এর মধ্যে এ অঞ্চলের অন্য কোথাও সুযোগের সন্ধানে যেতে বিপজ্জনক এবং ঝুঁকিপূর্ণ সমুদ্রযাত্রাও রয়েছে। রেকর্ড অনুযায়ী, এ ধরনের সমুদ্রযাত্রার ক্ষেত্রে ২০২৫ সাল ছিল সবচেয়ে মারাত্মক। গত মাসেই ২৭০ জনেরও বেশি যাত্রী নিয়ে একটি নৌকা ডুবে যায়, যাদের বেশির ভাগই ছিলেন শরণার্থী। এর মধ্যে মাত্র ৯ জন বেঁচে ফিরেছেন।
অনুষ্ঠানে বলা হয়, ক্রমবর্ধমান ও বহুমুখী চাপের প্রেক্ষাপটে সহায়তার আবেদনটি সবচেয়ে জরুরি মানবিক চাহিদার ওপর দৃষ্টি নিবদ্ধ করেছে। ক্রমবর্ধমান শরণার্থী জনগোষ্ঠীর মধ্যে সহায়তার বিষয়টিকে কৌশলগতভাবে অগ্রাধিকার দেয়া হয়েছে। মর্যাদা ও আশা বাঁচিয়ে রাখা এবং ত্রাণের ওপর দীর্ঘমেয়াদি নিভর্রশীলতা কমানোর জন্য শরণার্থীদের সহনশীলতা ও স্বনির্ভরতার ক্ষেত্রে বিনিয়োগ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।



