অর্থনৈতিক প্রতিবেদক
দুই দিন পতনের পর সপ্তাহের তৃতীয় কর্মদিবসে এসে নামমাত্র উন্নতি ঘটেছে পুঁজিবাজার সূচকের। গতকাল মঙ্গলবার দেশের দুই পুঁজিবাজার সূচকের উন্নতি ধরে রেখেই লেনদেন শেষ করে। এর আগে রোববার ও সোমবার দুই বাজারই বিক্রয়চাপে ছিল অস্থির। গতকালও লেনদেন শুরুর কয়েক মিনিটের মধ্যে এ ধরনের বিক্রয়চাপের মুখে পড়ে বাজার দু’টি। কিন্তু দিনের মাঝামাঝি সময়ে এসে আবার এ চাপ কিছুটা কমলে সূচকের কমবেশি উন্নতি দিয়েই দিন শেষ করে।
প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান সূচক ডিএসইএক্স গতকাল ৮ দশমিক ৪২ পয়েন্ট উন্নতি ধরে রাখে। সকালে ৫ হাজার ২০৩ দশমিক ১১ পয়েন্ট থেকে লেনদেন শুরু করা সূচকটি দিন শেষে পৌঁছে যায় ৫ হাজার ২১১ দশমিক ৫৪ পয়েন্টে। একই সময় বাজারটির দুই বিশেষায়িত সূচক ডিএসই-৩০ ও ডিএসই শরিয়াহর উন্নতি রেকর্ড করা হয় যথাক্রমে ১ দশমিক ৭৯ ও ২ দশমিক ৮৯ পয়েন্ট। অনুরূপভাবে দেশের দ্বিতীয় পুঁজিবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) সার্বিক মূল্যসূচক সিএএসপিআই গতকাল ৩১ দশমিক ০৭ পয়েন্ট বৃদ্ধি পায়। বাজারটির দুই বিশেষায়িত সূচক সিএসই-৩০ ও সিএসসিএক্স সূচকের উন্নতি ঘটে যথাক্রমে ৩২ দশমিক ৫৫ ও ২২ দশমিক ৯৮ পয়েন্ট।
ঢাকা শেয়ারবাজারে গতকাল লেনদেনের শুরুতেই সূচকের উন্নতি রেকর্ড করা হয় প্রায় ২৩ পয়েন্ট। দশ মিনিটের মাথায় সূচকের এ অবস্থান থেকেই শুরু হয় বিক্রয়চাপ। বেলা সাড়ে ১১টা পর্যন্ত এ চাপ বলবৎ থাকলে সূচক নেমে আসে ৫ হাজার ২০৫ পয়েন্টে। লেনদেনের পরবর্তী বেশ কিছু সময় সূচকের এ অবস্থান ধরে রাখে বাজারটি। বেলা ১টার পর ফের সূচকের ঊর্ধ্বমুখী আচরণ দেখা যায়, যা শেষ পর্যন্ত বজায় ছিল।
সূচকের সামান্য উন্নতি ঘটলেও লেনদেনের অবনতি অব্যাহত ছিল ঢাকা শেয়ারবাজারে। গতকাল ডিএসই ৬৭৫ কোটি টাকার লেনদেন নিষ্পত্তি করে, যা আগের দিন অপেক্ষা ৫১ কোটি টাকা কম। সোমবার ডিএসইর লেনদেন ছিল ৭২৬ কোটি টাকা। তবে চট্টগ্রাম শেয়ার বাজারে লেনদেন কিছুটা বেড়ে ১৮ কোটি টাকা থেকে ১৯ কোটিতে পৌঁছে।
পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্টরা মনে করেন আগের দুই দিন বাজারে যে বিক্রয়চাপ ছিল গতকাল দিনের শুরুতে তার ধারাবাহিকতা থাকলেও পরবর্তীতে বিনিয়োগকারীরা কিছুটা সতর্ক অবস্থান নেন। অনেকের মধ্যে ঈদ পরবর্তী ভালো বাজার আচরণের প্রত্যাশাও থাকতে পারে। ফলে বিক্রির চেয়ে শেয়ার ধরে রাখার চেষ্টা করেছেন অনেকে। বিনিয়োগকারীদের এমন মানসিকতার ফলে দিনশেষে সূচক টিকে থাকে। তারা আরো বলেন, সামনে আরো চারদিন বাজার খোলা থাকবে। এর মধ্যে নতুন করে বিক্রয়চাপ যেমন তৈরি হতে পারে তেমনি আবার বিনিয়োগকারীদের একটি অংশ নতুন করে বিভিন্ন শেয়ারে অবস্থান নিতে পারেন। এ কারণে বাজারে বড় ধরনের পতন নাও ঘটতে পারে।
এ দিকে পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে দেশের শেয়ারবাজারে টানা সাত দিনের ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। তবে ঈদের আগে বিনিয়োগকারীদের লেনদেন ও তারল্য সুবিধা নিশ্চিত করতে শনিবারও বাজার খোলা রাখার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ সূত্রে জানা গেছে, সরকারি ছুটির আদেশ অনুযায়ী ঈদের ছুটির ঠিক আগের দুই দিন ২৩ মে (শনিবার) ও ২৪ মে (রোববার) স্টক এক্সচেঞ্জের অফিস কার্যক্রম এবং শেয়ার কেনাবেচা স্বাভাবিক নিয়মেই চলবে।
এরপর সরকারি ছুটির সাথে সামঞ্জস্য রেখে আগামী ২৫ মে থেকে ৩১ মে পর্যন্ত টানা সাত দিন ডিএসই ও সিএসইতে সব ধরনের দাফতরিক কার্যক্রম এবং ট্রেডিং বা লেনদেন সম্পূর্ণভাবে বন্ধ থাকবে। টানা ছুটি শেষে আগামী ১ জুন (সোমবার) থেকে উভয় স্টক এক্সচেঞ্জে আবার আগের নির্ধারিত ও নিয়মিত সময়সূচি অনুযায়ী অফিস কার্যক্রম ও লেনদেন একযোগে শুরু হবে।
গতকাল ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে লেনদেনের শীর্ষে উঠে আসে ওষুধ ও রসায়ন খাতের কোম্পানি এশিয়াটিক ল্যাবরেটরিজ। ২৭ কোটি ৩৯ লাখ টাকায় কোম্পানিটির ২৩ লাখ ৮৮ হাজার শেয়ার হাতবদল হয় গতকাল। ২৪ কোটি ১৭ লাখ টাকায় ৮৪ লাখ ৯০ হাজার শেয়ার বেচাকেনা করে আর ডি ফুড উঠে আসে দ্বিতীয় স্থানে। ডিএসইর লেনদেনের শীর্ষ দশ কোম্পানির অন্যগুলো ছিল যথাক্রমে এনসিসি ব্যাংক, টেকনোড্রাগস, লাভেলো আইসক্রিম, মুন্নু সিরামিকস, নাভানা ফার্মাসিউটিক্যালস, ডমিনেজ স্টিল বিল্ডিং সিস্টেমস, ভিএফএস থ্রেড লিমিটেড ও শাইনপুকুর সিরামিকস।
ডিএসইতে দিনের মূল্যবৃদ্ধির শীর্ষে ছিল খাদ্য ও আনুষঙ্গিক খাতের কোম্পানি আর ডি ফুডস। ৮ দশমিক ৭৫ শতাংশ মূল্যবৃদ্ধি ঘটে কোম্পানিটির। ৬ দশমিক ৬৬ শতাংশ মূল্যবৃদ্ধি পেয়ে এ তালিকার দ্বিতীয় কোম্পানি ছিল ভিএফএস থ্রেড লিমিটেড। ডিএসইর মূল্যবৃদ্ধিতে শীর্ষ দশ কোম্পানির অন্যগুলো ছিল যথাক্রমে এশিয়াটিক ল্যাবরেটরিজ, প্রভাতি ইন্স্যুরেন্স, টেকনোড্রাগস, ইসলামী ইন্স্যুরেন্স, শাইনপুকুর সিরামিকস, আইসিবি এমপ্লয়িজ মিউচুয়াল ফান্ড অ্যালুমিনিয়াম কমপোজিট ও সামিট অ্যালায়েন্স পোর্ট।
এ সময় ডিএসইতে দরপতনের শীর্ষে ছিল ঢাকা ব্যাংক। লভ্যাংশ ঘোষণার রেকর্ড পরবর্তী ৮ দশমিক ৩৩ শতাংশ দর হারায় ব্যাংকিং খাতের এ কোম্পানি। ৬ দশমিক ২৫ শতাংশ দর হারিয়ে এ তালিকার দ্বিতীয় কোম্পানি ছিল টেক্সটাইল খাতের সি অ্যান্ড এ টেক্সটাইল। দরপতনে ডিএসইর শীর্ষ দশ কোম্পানির অন্যগুলো ছিল যথাক্রমে ফারইস্ট ফিন্যান্স, ইন্টারন্যাশনাল লিজিং অ্যান্ড ফিন্যান্স, পিপলস লিজিং অ্যান্ড ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস, মেঘনা কনডেন্সড মিল্ক, এম হোসাইন স্পিনিং মিলস, এস এস স্টিলস ও ফার কেমিক্যালস।



