দ্বিতীয় শিরোপার লক্ষ্যে মাঠে নামছে স্পেন

Printed Edition

ক্রীড়া ডেস্ক

বিশ্বকাপে নিজেদের শিরোপা অভিযানের শুরুটা স্মরণীয় করে রাখতে চায় স্পেন। আজ রাত ১০টায় আটলান্টায় গ্রুপ ‘এইচ’-এর ম্যাচে ইউরোপিয়ান জায়ান্টদের প্রতিপক্ষ টুর্নামেন্টের নবাগত কেপ ভার্দে। শক্তির বিচারে স্পেন স্পষ্ট ফেবারিট হলেও বিশ্বকাপের মঞ্চে প্রথমবার নামতে যাওয়া কেপ ভার্দের কাছে এটি শুধু একটি ম্যাচ নয় এটি তাদের ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে বড় অধ্যায়ের সূচনা।

বিশ্ব ফুটবলে স্পেন এমন এক দল, যারা সাম্প্রতিক বছরগুলোতে নিজেদের আবারো অন্যতম শক্তিশালী পরাশক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তের অধীনে দলটি নতুন ভারসাম্য ও আক্রমণাত্মক ফুটবলের পরিচয় দিয়েছে। ইউরো ২০২৪-এ দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের মাধ্যমে শিরোপা জয়ের পর বিশ্বকাপেও তাদের লক্ষ্য একটাই, দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়া।

স্পেনের বিশ্বকাপ ইতিহাসে একমাত্র শিরোপা এসেছে ২০১০ সালে দক্ষিণ আফ্রিকায়। সেই দলের ফুটবল আজো বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম স্মরণীয় অধ্যায়। তবে এরপরের তিনটি বিশ্বকাপ তাদের জন্য হতাশার ছিল। ২০১৪ সালে গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নিতে হয়েছিল, আর ২০১৮ ও ২০২২ দুই আসরেই শেষ ষোলোতে থেমে যায় যাত্রা।

এবারের দলটিকে তাই অনেকেই অতীতের ব্যর্থতা কাটিয়ে ওঠার উপযুক্ত দল হিসেবে দেখছেন। অভিজ্ঞতা ও তরুণ প্রতিভার মিশ্রণে গড়া স্পেন স্কোয়াডকে এই মুহূর্তে বিশ্বের সবচেয়ে ভারসাম্যপূর্ণ দলগুলোর একটি হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

বিশ্বকাপ শুরুর আগে শেষ প্রস্তুতি ম্যাচে পেরুকে ৩-১ গোলে হারিয়েছে স্পেন। শুধু তা-ই নয়, দলটি শেষ ১০ ম্যাচে অপরাজিত থেকেছে এবং এর মধ্যে সাতটিতে জয় পেয়েছে। রক্ষণ, বল দখল ও আক্রমণে ধারাবাহিকতা স্পেনকে বাড়তি আত্মবিশ্বাস দিচ্ছে।

গ্রুপ এইচ-এ স্পেনের সাথে রয়েছে উরুগুয়ে, সৌদি আরব ও কেপ ভার্দে। এই গ্রুপে স্পেনকে সবচেয়ে শক্তিশালী দল ধরা হলেও দ্বিতীয় স্থান নিয়ে লড়াই হতে পারে বেশ প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ।

অন্য দিকে কেপ ভার্দে এবারের বিশ্বকাপে এসেছে স্বপ্ন নিয়ে। ছোট দ্বীপরাষ্ট্রটির জন্য মূল পর্বে জায়গা করে নেয়াই ছিল বড় অর্জন। আফ্রিকান বাছাইপর্বে তারা শক্তিশালী ক্যামেরুনকে পেছনে ফেলে বিশ্বকাপ নিশ্চিত করে, যা দেশটির ফুটবল ইতিহাসে অন্যতম বড় সাফল্য।

কোচ বুবিস্তার অধীনে কেপ ভার্দে ধীরে ধীরে সংগঠিত ও প্রতিযোগিতামূলক দল হিসেবে গড়ে উঠেছে। বিশ্বকাপের আগে তাদের প্রস্তুতিও ছিল নজরকাড়া। সার্বিয়ার বিপক্ষে ৩-০ এবং বারমুডার বিপক্ষে ৩-০ গোলের জয় দলটির আত্মবিশ্বাস বাড়িয়েছে। সব মিলিয়ে টানা তিন ম্যাচে জয় নিয়ে তারা বিশ্বকাপে এসেছে।

যদিও স্পেনের বিপক্ষে তাদের কাজ অত্যন্ত কঠিন, তবুও কেপ ভার্দে জানে বিশ্বকাপে এক ম্যাচই কখনো কখনো পুরো গল্প বদলে দিতে পারে। তাদের লক্ষ্য অন্তত প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তোলা এবং পরবর্তী দুই ম্যাচের জন্য ইতিবাচক বার্তা দেয়া।

স্পেন শিবিরে কিছু খেলোয়াড়ের ফিটনেস নিয়ে আলোচনা থাকলেও বড় কোনো সমস্যা নেই। তরুণ তারকা লামিন ইয়ামাল এবং উইঙ্গার নিকো উইলিয়ামস সাম্প্রতিক চোট কাটিয়ে অনুশীলনে ফিরেছেন। তবে কোচ শুরু থেকেই ঝুঁকি নিতে না-ও পারেন।

এ অবস্থায় আক্রমণে ফেরান তোরেস, মিকেল ওইয়ারসাবাল ও আলেক্স বায়েনার সুযোগ বাড়ছে। মাঝমাঠে রদ্রি, পেদ্রি ও ফাবিয়ান রুইজের সমন্বয়ই হতে পারে স্পেনের সবচেয়ে বড় শক্তি। রক্ষণে পাও কুবারসি, আয়মেরিক লাপোর্ত এবং মার্ক কুকুরেয়ার ওপর থাকবে দায়িত্ব। অন্য দিকে কেপ ভার্দের সবচেয়ে বড় ভরসা অভিজ্ঞ ফরোয়ার্ড রায়ান মেন্দেস। জাতীয় দলের হয়ে ৯৭ ম্যাচে ২২ গোল করা এই ফুটবলার এখনো দলের নেতৃত্বের অন্যতম মুখ। পাশাপাশি ডাইলন লিভরামেন্তোর গতি এবং ভিয়ারিয়ালের ডিফেন্ডার লগান কস্তার দৃঢ়তা দলকে আত্মবিশ্বাস জোগাচ্ছে।

এই ম্যাচ হবে স্পেন ও কেপ ভার্দের ইতিহাসে প্রথম মুখোমুখি লড়াই। কাগজে-কলমে ব্যবধান যতই বড় হোক, বিশ্বকাপ সবসময়ই অনিশ্চয়তার নাম। স্পেন জয়ের লক্ষ্যেই মাঠে নামবে, আর কেপ ভার্দে নামবে ইতিহাস লেখার সাহস নিয়ে।