নিজস্ব প্রতিবেদক
এক-এগারোর অন্যতম প্রধান কুশীলব হিসেবে পরিচিত সাবেক সেনাকর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব:) মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। একই সাথে তাকে একদিন জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দেয়া হয়।
প্রসিকিউশনের আবেদনের পরিপ্রেেিত গতকাল বৃহস্পতিবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ আদেশ দেন। প্যানেলের অপর দুই সদস্য বিচারক মো: মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর। ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউশনের পে শুনানি করেন প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম। তিনি এ মামলায় মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে গ্রেফতার দেখানোর আবেদনের পাশাপাশি একদিনের জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি চান। এ ছাড়া তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য সময় চাওয়া হয়। শুনানি শেষে মাসুদ উদ্দিনকে গ্রেফতার দেখিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দেন ট্রাইব্যুনাল। এ ছাড়া তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ২১ জুলাই দিন ধার্য করা হয়।
বৃহস্পতিবার বিকেলে মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করে পুলিশ। গত ৭ এপ্রিল তাকে হাজির করার নির্দেশ দেন ট্রাইব্যুনাল। তবে অন্য মামলায় রিমান্ডে থাকায় এতদিন হাজির করা যায়নি।
মাসুদ উদ্দিনকে ২৩ মার্চ রাতে রাজধানীর বারিধারা ডিওএইচএস এলাকার বাসা থেকে গ্রেফতার করা হয়। ২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারি সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার দায়িত্ব গ্রহণের সময় মাসুদ উদ্দিন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর নবম পদাতিক ডিভিশনের প্রধান (জিওসি) ছিলেন। একই বছর তিনি মেজর জেনারেল থেকে পদোন্নতি পেয়ে লেফটেন্যান্ট জেনারেল হন। বাংলাদেশের এ রাজনৈতিক সঙ্কটে মাসুদ উদ্দিনকে অন্যতম একজন সংগঠক হিসেবে বিভিন্ন মাধ্যমে উল্লেখ করা হয়েছে।
জাতীয় পার্টির মনোনয়নে তিনি ২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ফেনী-৩ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও তিনি জাতীয় পার্টির প্রার্থী হিসেবে একই আসন থেকে সদস্য নির্বাচিত হন।
পেছাল নানক-তাপসের অভিযোগ গঠনের আদেশ
জুলাই গণ-অভ্যুত্থান চলাকালে রাজধানীর মোহাম্মদপুরে ৯ জনকে হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক মন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানক ও ঢাকা দণি সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপসসহ ২৮ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের আদেশ আগামী ১০ মে।
বৃহস্পতিবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর সদস্য বিচারপতি মো: শফিউল আলম মাহমুদের নেতৃত্বাধীন দুই সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ দিন ধার্য করেন। প্যানেলের অপর সদস্য বিচারক মো: মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী। ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউশনের পে ছিলেন প্রসিকিউটর গাজী এম এইচ তামীম, প্রসিকিউটর জহিরুল আমিন, সহিদুল ইসলাম সরদারসহ অন্যরা।
এদিন এ মামলার আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের বিষয়ে আদেশের দিন ধার্য ছিল। তবে তারিখ পিছিয়ে আগামী ১০ মে দিন নির্ধারণ করেন ট্রাইব্যুনাল। এ মামলায় গ্রেফতার আসামিরা হলেন- কার্যক্রম নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের মোহাম্মদপুর থানা শাখার সভাপতি নাঈমুল হাসান রাসেল, সহসভাপতি সাজ্জাদ হোসেন, ওমর ফারুক ও ফজলে রাব্বি।
নানক-তাপসসহ পলাতক আসামিদের মধ্যে রয়েছেন ডিএমপির সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমান, সাবেক অ্যাডিশনাল ডিআইজি প্রলয় কুমার জোয়ারদার, সাবেক যুগ্ম কমিশনার বিপ্লব কুমার সরকারসহ কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।
এ মামলার আসামিদের বিরুদ্ধে উসকানি-প্ররোচনা ও প্রত্য-পরো উপস্থিতিতে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে নিরীহ ছাত্র-জনতার ওপর নির্বিচারে গুলি চালানোর অভিযোগ আনা হয়। এতে মোহাম্মদপুরে মাহমুদুর রহমান সৈকত ও ফারহান ফাইয়াজসহ ৯ জন নিহত হন।



