ঢাবি প্রতিনিধি
রাজধানীর শাহবাগ থানার ভেতরে পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির (ডুজা) অন্তত ১০ জন সদস্যের ওপর হামলার ঘটনায় জড়িতদের চিহ্নিত করা হয়েছে। গতকাল রোববার সমিতির পক্ষ থেকে সংগৃহীত এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণ করে হামলাকারী ও ইন্ধনদাতাদের নাম প্রকাশ করা হয়। চিহ্নিতদের মধ্যে সিংহভাগই বিশ্ববিদ্যালয় ও বিভিন্ন হল শাখা ছাত্রদলের পদধারী নেতা-কর্মী।
গত বৃহস্পতিবার রাত ৮টার দিকে ঘটে যাওয়া ওই হামলায় আহত হন ডুজা সভাপতি মানজুর হোছাঈন মাহি (কালের কণ্ঠ), সাধারণ সম্পাদক লিটন ইসলাম (আগামীর সময়), নাইমুর রহমান ইমন (ডেইলি অবজারভার), খালিদ হাসান (দেশ রূপান্তর), সামশুদৌজা নবাব (ঢাকা ট্রিবিউন), মোহাম্মদ ইফতেখার হোসেন সিফাত (ঢাকা মেইল), হারুন ইসলাম (নয়া দিগন্ত), সৌরভ ইসলাম (রাইজিংবিডি) এবং আসাদুজ্জামান খানসহ (মানবজমিন) অন্তত ১০ সাংবাদিক।
ভিডিও ফুটেজ অনুযায়ী, মাটিতে পড়ে থাকা সাংবাদিকদের ওপর নিষ্ঠুরভাবে লাথি ও চড় মারতে দেখা গেছে বিজয় একাত্তর হলের ছাত্রদল নেতা সাজ্জাদ হোসেন এবং জহুরুল হক হলের সানিন সৈয়দকে। এ ছাড়া সরাসরি হামলায় অংশ নিতে দেখা গেছে ঢাবি ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জুবায়ের আহমেদ, সহ-সভাপতি সৈকত মোর্শেদ এবং শিক্ষার্থী আশ শামসকে।
হামলার সময় আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে তেড়ে যেতে ও সাংবাদিকদের হেনস্তা করতে দেখা গেছে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সহ-সভাপতি আমান উল্লাহ, জোহিন ফেরদৌস জামি, সাঈদ হাসান সাদ, জুনায়েদ আবরার এবং রিজভী আলমকে।
হামলার ‘ইন্ধনদাতা’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে মুহসীন হল ছাত্রদলের আহ্বায়ক আবুজার গিফারি ইফাতকে, যিনি জনতাকে উসকে দিয়ে হামলার সূত্রপাত করেন বলে অভিযোগ। এ ছাড়া অন্য ইন্ধনদাতাদের মধ্যে রয়েছেন মুহসীন হলের মনসুর রাফী, সূর্যসেন হলের মনোয়ার হোসেন প্রান্ত, সাবেক নেতা সফি ওবায়দুর রহমান সামিথসহ মোমিতুর রহমান পিয়াল ও কারিব চৌধুরী।
সাংবাদিক সমিতির পক্ষ থেকে জানানো হয়, শাহবাগের ঘটনার আগের দিনও বিশ্ববিদ্যালয়ের দু’টি হলে সাংবাদিকদের হেনস্তা ও হুমকি দিয়েছিলেন ছাত্রদল নেতা-কর্মীরা। সমিতির নেতারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ভিডিও ফুটেজে অপরাধীদের চেহারা স্পষ্ট। অবিলম্বে তাদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনতে হবে। অন্যথায় কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।



