নিজস্ব প্রতিবেদক
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মহিলা বিভাগীয় সেক্রেটারি ও সংরতি মহিলা আসনের সংসদ সদস্য নুরুন্নিসা সিদ্দিকা শিশু শিার্থী রামিসার হত্যাকারীদের প্রকাশ্য ও দ্রুত বিচারের দাবি জানিয়ে বলেছেন, যেভাবে রামিসাকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে, তা অত্যন্ত বর্বর ও অমানবিক। তিনি অবিলম্বে ঘাতক দম্পতিকে দ্রুত বিচারের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান, যাতে ভবিষ্যতে আর কোনো নিষ্পাপ শিশুকে এভাবে প্রাণ হারাতে না হয়।
গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে মিরপুর ১১ নম্বরের মেট্রো স্টেশন সংলগ্ন ইসলামী ব্যাংক হাসপাতালের পূর্ব পাশে সংগঠনটির ঢাকা মহানগরী উত্তর মহিলা বিভাগের মানববন্ধনে তিনি এ কথা বলেন।
ঢাকা মহানগরী উত্তর মহিলা বিভাগের সহকারী সেক্রেটারি এবং কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্যা আমেনা বেগমের সভাপতিত্বে এবং নাসরিন আকতারের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন মহানগরীর সহকারী সেক্রেটারি ইয়াসমিন জলি, মহানগরী কর্মপরিষদ সদস্য নাজমুন নাহার, নুরুন্নাহার পলি, ডিসিএন মহিলা বিভাগের আইটি সম্পাদিকা আকলিমা ফেরদৌসী, মজলিসে শূরা সদস্যা ফাতেমা আক্তার হ্যাপি ও ঢাকা বার কাউন্সিলের সদস্যা অ্যাডভোকেট ফাতেমা ইয়াসমিন মহুয়া।
বক্তারা সামাজিক অবয় ও অপরাধীদের আশকারা পাওয়ার তীব্র সমালোচনা করেন এবং অবিলম্বে খুনিদের ফাঁসি কার্যকর করার জোড়ালো দাবি জানান। মানববন্ধন শেষে মিছিল বের হয়।
এ ছাড়া মানববন্ধন থেকে সংগঠনের প থেকে সরকারের কাছে ১২ দফা দাবি পেশ করা হয়। ১. রামিসা হত্যা মামলাটি অনতিবিলম্বে দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তর করতে হবে। ২. আগামী ৪৮ কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত ও বিচার প্রক্রিয়া শেষ করে দোষী সাব্যস্ত হওয়া সাপেে ঘাতক দম্পতির আইনের সর্বোচ্চ শাস্তি (মৃত্যুদণ্ড) নিশ্চিত এবং তা দ্রুত কার্যকর করতে হবে। ৩. কোনো ধরনের রাজনৈতিক বা অন্য কোনো প্রভাবশালী মহলের হস্তপে ছাড়া সম্পূর্ণ নিরপেভাবে মামলার তদন্ত সম্পন্ন করতে হবে। ৪. রামিসার পরিবার এবং মামলার প্রধান সাীদের সার্বিক নিরাপত্তা রাষ্ট্রকে নিশ্চিত করতে হবে। ৫. প্রতিটি এলাকায় স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশের সহায়তায় প্রতিটি পাড়া-মহল্লায় শিশু সুরা সেল বা কমিটি গঠন করতে হবে। ৬. প্রতিটি ফ্যাট বা বাড়ির ভাড়াটিয়াদের পূর্ণাঙ্গ জীবনবৃত্তান্ত স্থানীয় থানার মাধ্যমে যাচাই করা বাধ্যতামূলক করতে হবে, যেন কোনো অপরাধী বা বিকৃত মানসিকতার ব্যক্তি পরিচয় লুকিয়ে আবাসিক এলাকায় বসবাস করতে না পারে। ৭. ক্রমবর্ধমান সামাজিক অবয় রোধে অবাধে মাদকদ্রব্য সরবরাহ ও সেবন বন্ধে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিশেষ ও কঠোর পদপে নিতে হবে। ৮. সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নারীর প্রতি হ্যারাসমেন্ট বন্ধে ডিজিটাল সুরা আইনের আওতায় দোষীদের গ্রেফতার করতে হবে। ৯. অনলাইনে সহজলভ্য পর্নোগ্রাফি ও অশ্লীল কনটেন্টের বিস্তার রোধে তথ্য মন্ত্রণালয়ের বিশেষ তদারকি বৃদ্ধি করতে হবে। ১০. শিশুবিষয়ক পৃথক অধিদফতর গঠন, শিশুদের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং প্রতিবন্ধী শিশুদের প্রতি বিশেষ গুরুত্বারোপ করতে হবে। ১১. বাজেট অধিবেশনে শিশু খাতে পৃথক বাজেট নির্ধারণ করতে হবে। ১২. নারী নির্যাতন, বাল্যবিবাহ নিরোধ এবং শিশু অধিকার সুরায় সরকারের কর্মপরিকল্পনায় নৈতিক শিার প্রতি সর্বোচ্চ গুরুত্বারোপ করতে হবে।



