নিজস্ব প্রতিবেদক
পয়লা বৈশাখ ঘিরে নানা পরিকল্পনা ছিল যাত্রাবাড়ির কাজলার ‘নাবু ভবনের অষ্টমতলায়’। উচ্ছ্বাসে ভরপুর সবাই যখন ঘুমের প্রস্তুতি নিচ্ছে তখন ওই ভবনের রাজমিস্ত্রি মুসা বাসায় প্রবেশ করেন। ‘ঘরে ঢুকেই ‘কাকি মাফ করে দিয়েন’ এই বলেই এলোপাতাড়ি কুপিয়ে জখম করে নাবুর স্ত্রী মৌসুমী ও তার তিন সন্তানকে। তবে ভাগ্যক্রমে অক্ষত থাকে পাঁচ বছরের ছেলে। লোমহর্ষক এ ঘটনাটি ঘটে গত সোমবার গভীর রাতে রাজধানীর যাত্রাবাড়ি থানা কাজলা ভাঙ্গা প্রেস এলাকায়। মূলত পাওনা টাকাকে কেন্দ্র করে বাসায় ঢুকে মোহাম্মদ আবু মুসা নামে ওই বাসার রাজমিস্ত্রি পরিবারের চারজনকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে জখম করেছে। এ সময় হাসপাতালে দিয়া আক্তারের (২০) মৃত্যু হয়। নাবুর স্ত্রী মৌসুমী আক্তার (৪২), মোয়াজ (১৫) ও জয়াকে (১২) গুরুতর আহত অবস্থায় ঢামেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এই ঘটনায় ঘাতক আবু মুসা ঢাকা মেডিক্যালে আহত অবস্থায় চিকিৎসা নিতে গেলে তাকে গ্রেফতার করে পুলিশ।
হাসপাতালে আহতদের নিয়ে আসা প্রতিবেশী বাকি বিল্লাহ জানান, ঘাতক আবু মুসা পেশায় একজন রাজমিস্ত্রি ও ঠিকাদার। সে নাবু উল্লাহর কাছে কাজের টাকা পায়। এই টাকা নেয়ার জন্য সে নাবু উল্লাহর বাসায় আসে। অসুস্থ নাবু উল্লাহ হাসপাতালে ভর্তি থাকায় বাসায় ছিলেন না। পরে আবু মুসা প্রতিশোধ নিতে বাসায় ঢুকে নাবু উল্লাহর স্ত্রী মৌসুমী আক্তারকে বলেন ‘কাকি মাফ করে দিয়েন’ এই বলেই কুপিয়ে তার বাম হাতের কব্জি থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেয়। পরে তার মেয়ে দিয়া এগিয়ে আসলে তাকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে হত্যা করে। এর পর তার আরেক মেয়ে জয়া এগিয়ে এলে তাকেও কুপিয়ে জখম করে এবং ছেলে মোয়াজকেও কুপিয়ে জখম করে।
বাকি বিল্লাহ বলেন, আমরা তাদেরকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যালের জরুরি বিভাগে নিয়ে গেলে দিয়াকে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। বাকি তিনজন চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এই ঘটনায় ঘাতক আবু মুসাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যালে নিয়ে এলে সে পুলিশ পাহারায় চিকিৎসাধীন রয়েছে।
তিনি আরো জানান, নিহত ও আহতদের নিজ বাড়ি যাত্রাবাড়ি কাজলা ভাঙ্গা প্রেস সামাদ মেম্বারের বাড়ি। নিহত দিয়া শেখ বোরহান উদ্দিন কলেজের শিক্ষার্থী ছিলেন।
এ বিষয়ে ডিএমপির ওয়ারী বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) মল্লিক আহসান উদ্দিন সামী জানান, লোমহর্ষক ঘটনাটির সাথে অন্য কোনো কারণ আছে কি না আসামি আবু মুসাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালতে রিমান্ডের আবেদন করা হবে। এ ঘটনায় নিহতের চাচা মামলা করেছেন।


